শারদোৎসব বলা যাবে না। দুর্গাপুজো না লিখলে বুক স্টল করতে দেওয়া হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অপছন্দের অধ্যাপকদের বদলির বিল নিয়ে বির্তকে এই ভাষাতেই হুমকি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তার কিছু পরেই সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সোশাল তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘‘শারদোৎসব লেখা যাবে না!‘‘ আর নিচে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক ‘শারদোৎসব’-র প্রচ্ছদের ছবি দিয়েছেন। যে নাটকে শরৎকালের জীবনের বর্ণনা ছিল। যে নাটকের শুরু ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে, বাদল গেছে টুটি’ গান দিয়ে।
‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’ বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, বিধানসভায় পেশ করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে বেছে বেছে অপছন্দের অধ্যাপক, কর্মচারীদের অন্যত্র সরিয়ে দেওয়াই এই বিলের লক্ষ্য। তার বদলে বিজেপি, আরএসএস পন্থীদের সেখানে বসাতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিশ্ববিদ্যালয় দখলের মনোভাব আরও স্পষ্ট হয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে লাগাতার হুমকির স্রোতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপকদের বদলিতে সরকারি হস্তক্ষেপে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন অংশ। বিধানসভায় আলোচনায় বিরোধিতা করেন সিপিআই(এম) বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।
এরপরই বিধানসভায় সরাসরি বামপন্থীদের আক্রমণ করেন শুভেন্দু। আক্রমণ করেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কেও।
শুভেন্দু বলতে থাকেন, ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি‘ বললে নেতাজীর ভাষায় কথা বলা হবে, গান্ধীজীর ভাষায় নয়। টার্গেট করে একশ্রেণির বামপন্থী অধ্যাপক সনাতনিদের আক্রমণ করছে। আবার এরা দুর্গাপুজোকে ‘শারদোৎসব‘ লেখে। দুর্গাপুজো লেখে না। পুজো কমিটিগুলির কাছে আবেদন, ‘দুর্গাপুজো‘ না লিখলে স্টল করতে দেবেন না।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট যে শারদোৎসবে প্রগতিশীল বই বিক্রির স্টলকে ভয় পাচ্ছে বিজেপি-আরএসএস। ঠিক যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস বুক স্টল বসাতে লাগাতার বাধা দিয়ে গিয়েছে, মনোভাব ঠিক তেমনই।
অধ্যাপকদের লক্ষ্য করে শুভেন্দু বলেন, বদলি চাকরির অন্যতম শর্ত। না পোষালে ছেড়ে দিন। কাঁধে ঝোলা নিয়ে হোলটাইমার হয়ে ‘গণশক্তি’ বিক্রি করুন।
বিভিন্ন অংশেরই মত, আসলে চিন্তার চর্চায় এবং যুক্তিসঙ্গত বিতর্ককে ভয় আরএসএস-বিজেপি’র। সর্বদাই মৌলবাদ বিতর্ককে ভয় পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর হুমকি আর শাসানির আড়ালে আসলে সেই ভয়ই কাজ করছে।
Comments :0