Minakshi Mukherjee Jyotinagar

জ্যোতিনগরে মীনাক্ষী: কর্পোরেশনের সামনে বসে থাকতে হবে, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয়

রাজ্য কলকাতা

ঐক্যবদ্ধ থাকলেই দাবি আদায় করা যাবে। উচ্ছেদ করলে, প্রয়োজনে, পরিবার সহ কলকাতা কর্পোরেশনের গেট আগলে ওখানেই বসে থাকতে হবে। চালে ডালে ওখানেই খাওয়া হবে। জ্যোতিনগর কলোনিতে এই মর্মে লড়াইয়ের আহ্বান জানালেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি। 
তিনি বলেন, সারা রাজ্যে বহু বস্তিতে এমনই উচ্ছেদের নোটিশ পড়েছে। জলের লাইন, আলোর লাইন কাটা হয়েছে। সারা রাজ্যের মানুষকে একজোটেই প্রতিবাদে নামতে হবে।
উচ্ছেদের মুখে থাকা কাশিপুর বেলগাছিয়া বিধানসভার কাশিপুর জেটি সংলগ্ন এই বস্তিতে পড়েছে উচ্ছেদের নোটিশ। দেড় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে রাস্তার কলের জল। প্রশাসনের কাছে দরকার করেও মেলেনি কোনও সাড়া। আন্দোলনে পাশে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি সহ বামপন্থী বিভিন্ন সংগঠন। 
বুধবার এই এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন মীনাক্ষী। সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির কলকাতা জেলা সম্পাদক শিবেন্দু ঘোষ, বস্তি আন্দোলনের নেতা অজিত শাসমল, সিপিআই(এম) নেতা পৌলবী মজুমদার, সমন্বয় রাহা। 
বস্তিবাসী মানুষ মীনাক্ষীকে বলেন কিভাবে তাঁদেরকে নাগরিক অধিকারের ওপর আক্রমণ চলছে। প্রথমে আলো, জল দুই-ই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দাবির জেরে আলো ফিরলেও জল নেই গোটা এলাকায়। এর মধ্যেই এসেছে উচ্ছেদের নোটিশ। যার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দরবার করা হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর ফের রয়েছে শুনানি। 
স্থানীয়রা মীনাক্ষীকে বলেন, ২০২৩ সালে একবার এসেছিল নোটিশ। সে সময়ে তৃণমূল সরকার। স্থানীয় তৃণমূল নেতারা নোটিশ চেপে যায়। মতলব চলছিল সে সময় থেকেই। ফলে বিষয়টি কত গভীর বুঝতে পারছেন না বাসিন্দারা। তাঁরা মীনাক্ষীকে ঘুরিয়ে দেখান কোথায় কোথায় জল বন্ধ। 
এরপর মীনাক্ষী বলেন, এলাকার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নিজেদেরই ঠিক করতে হবে আন্দোলনের পথ। এটা শুধু রাজনীতির বিষয় নয়। বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে সরকার। এখানে লড়াই গরিব মানুষের। 


মীনাক্ষী বলেন, দরকার হলে কর্পোরেশনের সামনে গিয়ে দল বেঁধে বসে থাকতে হবে। ওখানেই চালে-ডালে করে নিতে হবে। বসে থাকতে হবে ওখানেই। বিধানসভার অধিবেশন শুরু কাল থেকে। সরকারের কানে কথা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা করব।
তিনি বলেন, পুনর্বাসন ছাড়া এখান থেকে উচ্ছেদ করা যাবে না। উচ্ছেদ করতে চাইছ বলে জল কেড়ে নেবে? এটা অমানবিক। তিনি মনে করিয়ে দেন যে বামফ্রন্ট সরকারও উন্নয়নের জন্য জমি ব্যবহার করেছিল। কিন্তু নীতি ছিল পুনর্বাসনের। 
মীনাক্ষী বলেন, সারা রাজ্যের মানুষের কাছে আবেদন, এই লড়াইয়ের পাশে দাঁড়ান।

Comments :0

Login to leave a comment