বৃষ্টিপাতে বিরূপ প্রভাবের পূর্বাভাস ছিলই। সেই আশঙ্কা কাটছে না। তবে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি আশঙ্কার তুলনায় কম হতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টে রয়েছে সেই ইঙ্গিত।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের এই আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা ডব্লিউএমও ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট‘ প্রকাশ করেছে। বলা হয়েছে, এল নিনো শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক উষ্ণতার কারণে আগামী কয়েক মাস বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়াকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করবে। এল নিনো-র প্রভাবে দেশে দেশে শস্যহানি, খরার মতো বিপর্যয় দেখা গিয়েছে বিভিন্ন সময়েই।
তবে সেই সঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ভারত মহাসাগরে পজিটিভ ‘ইন্ডিয়ান ওশেন ডায়পোল’-র কারণে কমতে পারে ভারতে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি। ভারত মহাসাগরে ডায়পোল পজিটিভ হলে পূর্ব অংশের উষ্ণ জল যায় পশ্চিমে। আর পশ্চিম অংশ থেকে ঠাণ্ডা জল ভারত মহাসাগরের পূর্ব অংশের একবারে ওপরের তলে উঠে আসে।
এই অবস্থায় ভারত মহাসাগরের পশ্চিম অংশ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উষ্ণ এবং পূর্ব অংশ তুলনামূলকভাবে শীতল হয়ে পড়ে। এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টিপাত ও মৌসুমি আবহাওয়ার ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে।
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ জানাচ্ছে যে জুনে বৃষ্টিপাতে ৩৯.৮ শতাংশ ঘাটতি ছিল। জুলাইয়ে পরিস্থিতির উন্নতি হয়, বেড়ে যায় বৃষ্টিপাত। কিন্তু আগস্টে স্বাভাবিকের তুলনায় ঘাটতি থাকবে বৃষ্টিপাতে।
এদিকে ডব্লিউএমও বলেছে যে সরকারকে আগাম ব্যবস্থা নিতে হবে। মানবিক সহায়তা সংস্থা, কৃষি ও স্বাস্থ্য সহ জলবায়ু সংবেদনশীল বিভিন্ন খাত থেকে প্রয়োজনীয় ব্যয় করতে হবে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এমন বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে যাতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।
ডব্লিউএমও জানিয়েছে, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জলবায়ু কেন্দ্রগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগস্ট থেকে অক্টোবর সময়কালে এল নিনো-র প্রভাব উল্লেখযোগ্য এমন অঞ্চলগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি হতে পারে। যা থেকে শক্তিশালী এল নিনো প্রভাব তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, "এল নিনো এখন আমাদের ঘরে প্রবেশ করেছে। এটি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন বিশ্ব ইতিমধ্যেই চরম তাপপ্রবাহ, ভয়াবহ দাবানল এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের রেকর্ড মাত্রায় উষ্ণতার মতো সংকটের মুখোমুখি।
তিনি আরও বলেন, ‘‘জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও সম্প্রসারণ এই সংকটকে আরও তীব্র করছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে মানুষকে রক্ষা করার পাশাপাশি এর মূল কারণগুলোর বিরুদ্ধেও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’’
ডব্লিউএমও-এর মহাসচিব সেলেস্টে সাউলো বলেন, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি নজরে থাকে ‘এল নিনো’। তবে শুধুমাত্র পূর্বাভাস দিয়ে দুর্যোগ ঠেকানো সম্ভব নয়।’’ তিনি বলেন, ‘‘জলবায়ু বিষয়ক নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সময় মতো ব্যবস্থা নিলে সরকার ও সাধারণ মানুষের ঝুঁকি এবং ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা যেতে পারে।’’
El Nino India WMO
কমতে পারে এল নিনো-র প্রভাব, বাড়বে বৃষ্টি, অনুমান ডব্লিউএমও’র
×
Comments :0