Md Salim

গণআন্দোলনের তীব্রতায় বাঁচাতে হবে ঐক্য, সম্প্রীতিকে: সেলিম

রাজ্য

বারাকপুর চেকপোস্ট মোড়ে জনসভায় মহম্মদ সেলিম। ছবি: অভিজিৎ বসু

বিশ্বজিৎ রায়: বারাকপুর

এখানে লাল ঝান্ডা লাগানো যাবে না। বিজেপি ফতোয়া জারি করেছিল। লাল কে কেন ভয়? আসলে ওরা মানুষকে ভয় পায়। ভয় দেখিয়ে রাজত্ব কায়েম রাখতে চায়। তৃণমূলকে দেখে এদের শিক্ষা হয়নি। মানুষকে নিয়ে বিজেপি’র মতো ভয়াবহ শক্তির মোকাবেলা করতে হবে।
বুধবার একথা বলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সিপিআই(এম) টিটাগড়-বারাকপুর এরিয়া কমিটির উদ্যোগে বারাকপুর চেকপোস্ট মোড়ে জনসভা হয়। এই সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য গার্গী চ্যাটার্জি, প্রাক্তন সাংসদ তড়িৎবরণ তোপদার, প্রাক্তন ছাত্রনেত্রী দীপ্সিতা ধর প্রমুখ। 
উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা কমিটির সম্পাদক পলাশ দাস। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিআই(এম) নেতা অভ্র দে। এখানে নতুন করে তৈরি কমরেড মুজফ্‌ফর আহমেদ ভবনের দ্বারোদঘাটন করেন সেলিম। এই সভায় পঞ্চাশ বছরের বেশি পার্টি করছেন সেইরকম ৯ প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতৃত্বকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়।
সেলিম বলেন, শুভেন্দু অধিকারী বলছেন গুন্ডা দমন আইন আনা হবে। ব্রিটিশ আমলে এই আইন আনা হয়েছিল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জেলে ভরে দেওয়ার জন্য। এরা মানুষের মগজে বিষ ঢুকিয়ে দিচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী কিছু নাগা সন্না্যাসীদের নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল করেছে। ওখানে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিয়ে ঢুকতে হয়। ওরা রাতের অন্ধকারে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ও জলপাইগুড়িতে পার্টি অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয়। যারা রাতের অন্ধকারে আগুন লাগায় তাদের আমরা আতঙ্কবাদী, সন্ত্রাসবাদী বলি। 
সেলিম বলেন, বিজেপি বিভাজনের রাজনীতিকে হাতিয়ার করে মানুষের ঐক্যকে ভাঙতে চাইছে। আমাদের দেশের বহুত্ববাদের সংস্কৃতিকে বিজেপি ভাঙতে চাইছে। আমাদের সম্প্রীতি ঐক্য নষ্ট করে দিচ্ছে। মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে বর্ণের ভিত্তিতে ভাষার নামে বিভক্ত করছে। কে কী খাবে, কে কী পরবে তা বিজেপি ঠিক করে দিতে চাইছে। এটা আমাদের ঐতিহ্যের পরিপন্থী। এ জিনিস চলতে পারে না। আরএসএস-এর মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করছে বি জে পি। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে তীব্র গণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই ভয়াবহ শক্তির মোকাবেলা করতে হবে। আমাদের দেশের ঐক্য সংহতি সম্প্রীতিকে অটুট রাখতে হবে।
সেলিম বলেন, এখানে একজন বাগেশ্বর বাবা নামে একটি লোক এসেছিল। তিনি ঠিক করে দেবেন আমরা কি খাবো? এই রাজ্যে এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার। এরা ক্ষমতায় এসেই গরিব মানুষের রুটি রুজি কেড়ে নিতে চাইছে। 
গার্গী চ্যাটার্জি বলেন, আমাদের দেশের সংবিধান আমাদের দেশ পরিচালনার অন্যতম হাতিয়ার। বিজেপি আমাদের দেশের সংবিধান পাল্টে দিতে চাইছে। বিজেপি বা আরএসএস’র আমাদের দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে কোনো অবদান নেই। এরা ব্রিটিশের দালালি করেছে। এদের হাতে দেশ ও রাজ্য সুরক্ষিত নয়। 
দীপ্সিতা ধর বলেন, এই সরকার সংবিধানের বিরুদ্ধে কথা বলছে। যারা মনুস্মৃতিতে বিশ্বাস করে তারা সংবিধান মানে না।

Comments :0

Login to leave a comment