Jantar Mantar protesters facing rape and death threats

প্রতিবাদীদের পুলিশি হেনস্তা, মহিলাদের হত্যা-ধর্ষণের হুমকি

জাতীয়

যন্তর মন্তরে প্রতিবাদীদের লক্ষ্য করে হেনস্তা চলছে। পুলিশের হেনস্তা তো আছেই। সেই সঙ্গে রয়েছে ফোনে বা সোশাল মিডিয়া অ্যাকউন্টে হুমকি। মহিলাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকির সঙ্গে দেওয়া চলছে ধর্ষণের হুমকিও। 
নয়ডার পনেরো বছরের এক কিশোরীর বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশের পুলিশই দায়ের করে রেখেছে এফআইআর। প্রধানমন্ত্রীকে কুকথা বলার দায়ে ঘরে আসছে পুলিশ। চাপের মুখে সংবাদমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কুকথা বলার জন্য ক্ষমাও চেয়েছে ওই কিশোরী। কিন্তু সমস্যা মেটেনি।
একদিকে ফোনে আসছে হুমকি। বলা হচ্ছে, ‘যেখানে পাবো ধর্ষণ করব’। এফআইআর তুলে নেওয়া হয়নি। বরং ক্ষমা চাওয়ার পরও, ৩১ জুলাই, বাড়িতে দু’বেলা এসেছে পুলিশ।
গত ৩১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নতুন রিল ছেড়েছিলেন ইনস্টাগ্রামে। তাতে তিনি ‘ক্ষমার’ বাণী শুনিয়েছিলেন। যন্তর মন্তরে নবীন প্রতিবাদীদের ঘিরে মোদী অনুগামী সংবাদমাধ্যম সোচ্চারে চালিয়ে যাচ্ছে ‘গালিগালাজ’ প্রচার। তার মধ্যেই মোদীর বার্তা ছিল, বিপথে চলে যাওয়া কমবয়সীরা কেউ তাঁকে উদ্দেশ্য করে কুকথা বলেছে। তবে তারা ‘আমাদেরই সন্তান’। তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হচ্ছে। তাদের সঠিক পথ দেখাতে হবে।
ছাপ্পান্ন ইঞ্চির ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে যন্তর ন্তরের প্রতিবাদ। দেশময় প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে হয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। তারপর থেকে সংবাদমাধ্যম সবচেয়ে জোর দিয়েছে প্রতিবাদীদের ‘কুকথায়’। 
মধ্য প্রদেশের শ্রদ্ধা সিং যন্তর মন্তর ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা ‘র‌্যাফ’-কে নিয়ে রসিকতা করেছিলেন। ছেড়েছিলে রিল। সেই রিল হু-হু করে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে গত ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’-র দিন দিল্লি পুলিশের বর্বরতায় ক্ষোভ সারা দেশে ছড়িয়ে যাওয়ার পর বাহিনী বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছিল। সেই শ্রদ্ধা সিং-ও এখন ‘টার্গেট’। সংবাদ ওয়েবসাইট ‘নিউজমিনিট’ এবং ‘স্ক্রল’ বিশদে মহিলা প্রতিবাদীদের হেনস্তার এমন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে প্রতিবেদনে। 
শ্রদ্ধা সিং-কেও পড়তে হচ্ছে ধর্ষণ এবং হত্যার হুমকির মুখে। বিজেপি এবং আরএসএস’র অনুগামী বাহিনীকে এমনই ভূমিকা বারবারই নিতে দেখা গিয়েছে বিরোধী স্বর জোরালো হলেই। 
প্রশ্ন উঠেছে মোদীর ‘ক্ষমা’ বার্তায়। দলের সাংসদ রমেশ বিদুরি সংসদে জঘন্য ভাষায় ভাষণ দিয়েছিলেন। দেশময় ছড়ায় ক্ষোভ। মোদীর বাহিনী নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে ‘পাপ্পু‘ বলে প্রচার চালিয়েছিল। স্থানীয় পরিভাষায় তা অবমাননাকর হলেও লাগাম পরানোর চেষ্টা করেননি মোদী। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের মধ্যেই বিজেপি সাংসদ অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত ছাত্রীদের অশালীন মন্তব্য করেছেন। তাছাড়া সোশাল মিডিয়ায় মোদী বাহিনীর লাগাতার বিপজ্জনক হুমকি রয়েছে। কোনও ঘটনায় বিজেপি’র কোনও সরকারের পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। বিভিন্ন অংশই সোশাল মিডিয়ায় ‘গালিগালাজ’ প্রচার ঘিরে মতামতও দিচ্ছে। অনেকেরই বক্তব্য, কুকথা সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া একপেশে। ক্ষমা করে দেওয়ার নামে একদিকে ছাত্রছাত্রীদেরই দোষী করার চেষ্টা চলছে। আরেকদিকে নিজের বাহিনীর কুকথার বন্যার পরও জবাবদিহিও এড়িয়ে যাচ্ছেন মোদী। ধর্ষণ বা হত্যার হুমকির জন্য কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা উঠছে সে প্রশ্নও।

Comments :0

Login to leave a comment