Sitalkuchi's Garh Kanteshwar Park

গণশক্তির খবরের জেরে বন্ধ হলো শীতলখুচির সরকারি উদ্যান

জেলা

গণশক্তি পত্রিকার খবরের জেরে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই শীতলখুচির সরকারি "গড় কান্তেশ্বর উদ্যানে "পুলিশকে সাথে নিয়ে তালা ঝোলালো শীতলখুচি ব্লক প্রশাসন! ফের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আপাত বন্ধই থাকবে উদ্যান।
উল্লেখ্য গত ৬ সেপ্টেম্বর কৃষকসভার জেলা সম্পাদক আকিক হাসান প্রথম প্রকাশ্যে আনেন,"পঞ্চায়েত সমিতির অধীনের এই ঐতিহাসিক উদ্যান ভোটের ফল প্রকাশের পর স্থানীয় বিজেপি নেতার দুই ছেলে প্রবেশ কর আদায় করে টাকা তুলছে। এমনকি পর্যটকদের থেকে প্রবেশ কর ছাড়াও বাইক, গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য আলাদা টাকা আদায় করছে গেরুয়া রঙের টিকিট ছাপিয়ে! সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি বিডিও-র সাথে যোগাযোগ করলে বিডিও তাঁকে জানান,"এ বিষয়ে নাকি তিনি কিছুই জানেন না! সবটা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।"
এই খবর গণশক্তি পত্রিকার তৃতীয় পাতায় সোমবার ছাপা হয়। রবিবার প্রকাশিত হয় গণশক্তি অনলাইনে। এরপরেই বিডিও আধিকারিকদের পাঠিয়ে উদ্যানের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন।
আকিক হাসান বলেন আমরা মেইল করে বিডিওকে জানয়েছি, শুধু অবৈধ ভাবে উদ্যান দখল করে সাড়ে তিনমাস ধরে আয় করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে ওই উদ্যানে বিভিন্ন অসামাজিক কাজ হত। উদ্যানের যত্রতত্র মদ ও নেশার ব্যবহৃত জিনিস ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। যা সমাজকে কলুষিত করছে।
ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে লীজের মেয়াদ গত মার্চ মাসেই শেষ হয়ে গেছে। ফের লিজ না হওয়া পর্যন্ত উদ্যানের তালা বন্ধ রাখার আপাত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অবশ্য বিজেপির লালবাজারের নেতাদের সাফাই,"রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের পর গড় কান্তেশ্বর উদ্যানটি বন্ধের পরিস্থিতি হয়। দূর দূরান্তের পর্যটকেরা যাতে ফিরে না যায়, তারা যাতে ঐতিহাসিক জায়গাটি দেখতে পায় সেজন্য উদ্যান খোলা রাখার ব্যবস্থা করেছিলাম।
যদিও  ব্লক প্রশাসনের দাবি, রাজনৈতিক পালা বদলের পর বিডিও অফিস থেকে উদ্যানের মূল গেটে তালা লাগানো ছিল। সেই তালা ভেঙে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসতেই সোমবার ফের তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে সোমবার রাত থেকেই সমাজ মাধ্যমের বিভিন্ন পোষ্টে দাবি উঠেছে, ঐতিহাসিক কান্তেশ্বর গড় উদ্যান বিজেপি নেতার ছেলেরা গত সাড়ে তিন মাস ধরে তালা ভেঙে অবৈধ ভাবে খুলে টাকা তুলেছে। সেই টাকা পঞ্চায়েত সমিতির একাউন্টে ফের‍ত নিতে হবে। কেউ কেউ লিখেছেন ঐতিহাসিক কান্তেশ্বর গড় উদ্যান কোন ব্যক্তি বা কোন রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। শাসক দলের নেতাদের ছাড় দেওয়া চলবে না।
মঙ্গলবার কৃষকসভার জেলা সম্পাদক আকিক হাসান বলেন, "সমাজ মাধ্যমে এরকম দাবি আমরাও দেখেছি।আমরাও চাই সাড়ে তিনমাসের আদায় হওয়া অর্থ ফেরানোর ব্যবস্থা হোক। যারা তালা ভেঙে অবৈধ ভাবে উদ্যানের দখল নিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিক ব্লক প্রশাসন। এবং দ্রুত টেন্ডার ডেকে ফের আইনীভাবে ঐতিহাসিক উদ্যান খুলুক। কারণ উদ্যানকে ঘিরে যারা ব্যবসা করছেন তাদের ক্ষতি হচ্ছে। আর হতাশ হয়ে পর্যটকেরা যেন ঘুরে না যায়।
বিজেপির জেলা নেতৃত্ব অবশ্য সরকারি উদ্যান দলের লোকেদের কেউ দখল করে নিয়েছিল সেটা ব্লক প্রশাসন ফের তাদের দখলে নিয়েছে, এই প্রসঙ্গে কোন মন্তব্য করেন নি কোথাওই।

Comments :0

Login to leave a comment