ই-২০ পেট্রোল নীতি বাতিল করা ও স্কুল-ক্যাম্পাস বাঁচাও'র দাবিতে ১৫ সেপ্টেম্বর ছাত্র যুবদের 'দাবি দিবস' উপলক্ষে কলকাতা জুড়ে তিনটি মিছিলের ডাক দিয়েছে এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই কলকাতা জেলা কমিটি। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এই মিছিলের কথা জানিয়েছে নেতৃবৃন্দ। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিওয়াইএফআই কলকাতা জেলা সম্পাদক শ্রীজীব গোস্বামী, সভাপতি সোহম মুখার্জি ও এসএফআই কলকাতা জেলা সম্পাদক হাসিব হোসেন সহ নেতৃবৃন্দ।
সোহম মুখার্জি বলেন, '১৯৮০ সাল থেকে ছাত্র-যুবদের দাবি নিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে 'দাবি দিবস' পালন করে এসএফআই - ডিওয়াইএফআই। স্বাধীনতার পর থেকে প্রত্যেক বছর বেকারির সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়েছে, পাশাপাশি কমেছে কর্মসংস্থান। সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ বন্ধ থেকেছে, শূন্য পদের অবলুপ্তি ঘটেছে। পাশাপাশি, রাজ্যজুড়ে স্কুল ও ক্যাম্পাস শিক্ষার উপর আক্রমণ নামিয়ে আনার প্রতিবাদ ডিওয়াইএফআই ও এসএফআই কলেজস্ট্রিট থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত বিকেল সাড়ে চারটায়, ৬ টায় গার্ডেনরিচে এবং সাড়ে ৬টায় সখের বাজারে - তিনটি মিছিল করব।
শ্রীজীব গোস্বামী বলেন, "আমাদের দাবি, ই-টোয়েন্টির পাশাপাশি এই ই-টেনকেও কাস্টমারদের জন্য অপশনে রাখতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় কাজ করা গিগ ওয়াযকাররা তেলের দাম বাড়লেও বেশি টাকা পান না। এই ই-টোয়েন্টি পেট্রোলের ইথানল তৈরিতে কতটা জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে বা কতটা জল ব্যবহার করা হচ্ছে তার কোনও সঠিক তথ্য সরকারের তরফ থেকে দেওয়া হচ্ছে না। গাড়ির মাইলেজের কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা সেটাও সার্ভে করে দেখতে হবে সরকারকে। এবং তোদের সার্ভেতে ক্ষতির কোনও নিদর্শন পাওয়া যায় তাহলে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে। সেই সঙ্গে, গিগ ওয়ার্কারদেরও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে।"
তিনি আরও বলেন, "মেটিয়াবুরুজের ওস্তাগার কর্মীদের কাছে যারা ব্যবসার জন্য জিনিসপত্র কিনতে আসেন তারা ওখানে থাকা নিয়ে ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থনীতির উপর ছয়টি জেলা নির্ভর করে তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাকেও 'দাবি দিবসের' দাবিগুলোর সঙ্গে আমরা সংযুক্ত করছি। উন্নত মানের যোগাযোগ ব্যবস্থা, যানজট মুক্ত জায়গা, পরিকাঠামো, সুলভ শৌচালয়, পানীয় জল, পুলিশে জুলুম বন্ধ করা, বিচালী ঘাট থেকে বাবুঘাট পর্যন্ত এবং রাজাবাগান থেকে চুনামাটি হাওড়া পর্যন্ত ফেরি সার্ভিস চালু করার দাবিও জানান তিনি।'
হাসিব হোসেন বলেন, "বিজেপি সরকার নতুন শিক্ষানীতি চালু করার মধ্যে দিয়ে গণশিক্ষায় কাঠামোকে ধ্বংস করছে। বিজেপি সরকারের এটা কোনও গাফিলতি নয়, আমরা মনে করছি এজন্য রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়েই সরকারি স্কুল বন্ধ করার চেষ্টা করছে সরকার। এই সময়ের মধ্যেই বহু বেসরকারি স্কুল তৈরী হচ্ছে। আসলে শিক্ষাব্যবস্থার বেসরকারিকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করবে সরকার। একই সময়ের মধ্যে বিদ্যাভারতী, স্বরস্বতী বিদ্যামন্দিরের মতো স্কুল তৈরি হচ্ছে। যারা পয়সা জন্য ওই বেসরকারি স্কুলে পড়তে পারবে না তারা এই আরএসএস পরিচালিত পাঠশালায় যাবে। সেখানে বিকৃত ইতিহাস ও বিকৃত বিজ্ঞান পড়ানোর মাধ্যমে আরএসএস তাদের বাহিনী তৈরী করার চেষ্টা করছে। যারা প্রশ্নহীন আনুগত্য মেনে নেবে। এরই প্রতিবাদে আমরা 'স্কুল বাঁচাও মুল বাঁচাও' -র কর্মসূচিকে নতুন করে শুরু করবো ওই ১৫ তারিখ।"
তাঁর অভিযোগ, সেই সঙ্গে যাদবপুর আক্রমন চালাচ্ছে বিজেপি-আরএসএস'র অনুগামী এবিভিপি বহিরাগত বাহিনী। আসলে, যাদবপুরের স্বতন্ত্রতাকে নষ্ট করার চেষ্টা, মুক্তচিন্তা ধ্বংসের, স্বাধিকার নষ্ট করার চেষ্টা করছে বিজেপি সরকার। এই ঘটনার প্রতিবাদে 'স্কুল বাঁচাও , ক্যাম্পাস বাঁচাও'-র দাবিতে মিছিলে অংশগ্রহণ করবে ছাত্ররা।'
Comments :0