Suvendu Adhikari

মানুষের সমস্যা থেকে নজর হটাতে সরকারি উদ্যোগে শুভেন্দুর ‘গেরুয়া যাত্রা’

রাজ্য

  ‘গেরুয়া’র বদনাম করেছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ একটি সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে। তাদের অফিস ধর্মতলার কাছে। বুধবার শুভেন্দু অধিকারী ‘গেরুয়ার সন্মান যাত্রা’ করলেন শহরের আর এক প্রান্তে, গোলপার্ক থেকে যাদবপুর। মিছিলের শেষে যাদবপুরে ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,‘‘এখানে সব গেরুয়া হবেই হবে, হবেই হবে, হবেই হবে।’’ এমন ভাব নিয়ে তিনি এই কথা বলেছেন যেন যাদবপুরে সঙ্ঘের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি’কে সরকারি সাহায্যে প্রতিষ্ঠা করার জন্য মানুষ তাঁদের ভোট দিয়েছেন। অবশ্য ঠিক এই সুরেই ভোটের পর গ্যাসের দাম ৪৫০ টাকা হবেই হবে, অভিষেক ব্যানার্জি দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হবেই হবে বলে বলেছিলেন। সে সব কাজ কিছুই হয়নি।
ছক কী? প্রথমত, জিনিসের ঊর্ধ্বমুখী দাম, কাজের ব্যবস্থা না করতে পারা, শিক্ষক সহ কোনও সরকারি নিয়োগ না হওয়ার  মতো ব্যর্থতাগুলি থেকে লোকের নজর সরানো। দ্বিতীয়ত, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সমর্থক, কর্মীরা বেশি। ২০০৭-’০৮-এ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েরই কয়েকজন ছাত্রছাত্রী মাওবাদী ছিল। তারা নন্দীগ্রামে, লালগড়ে সিপিআই(এম)-কে দুর্বল করতে তৃণমূলের হয়ে কাজ করতো। তখন শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম, লালগড়ে তৃণমূলের শক্তি বাড়ানোর দায়িত্বে ছিলেন। তখন তিনি কিষানজী, সুচিত্রা মাহাতো সহ মাওবাদীদের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি। এখন তৃণমূলের সহায়ক সেই মাওবাদীরা নেই। এখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-কে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। চাইছেন যে কয়েকজন সাভারকার-সমর্থক কর্মী, শিক্ষক আছেন তাঁদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়কে তুলে দিতে। সেই জন্য আইন আনার চেষ্টাও করছে তাঁর সরকার, তাও এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘‘উচ্চশিক্ষা দপ্তর যা করছে, তা এখন বলব না। কাল(বৃহস্পতিবার) বিধানসভায় বলব। কাল ঐতিহাসিক বিল আসতে চলেছে। বেলা ১১ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত বিশেষ অধিবেশন বসবে। ট্রান্সফারের নীতি চালু করছে সরকার। আমি বলেছি, আমাকে ১০-১৫ মিনিট কথা বলার সময় দিতে হবে।’’ প্রসঙ্গত, সোমবার রাজ্য মন্ত্রীসভার বৈঠকে পাশ হয়,‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। সেটিই বৃহস্পতিবার বিধানসভায় পেশ হবে। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে বেছে বেছে অপছন্দের অধ্যাপক, কর্মচারীদের অন্যত্র সরিয়ে দেওয়াই এই বিলের লক্ষ্য। তার বদলে বিজেপি, আরএসএস পন্থীদের সেখানে বসাতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন অনেক গেরুয়া রঙের পতাকাবাহী মিছিলে সাধুদের উপস্থিত করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মিছিল শেষে মুখ্যমন্ত্রী তিনি বলেছেন,‘‘গেরুয়া নিয়ে কোনও অপশব্দ বলা বা লেখার আগে অন্তত পাঁচ বার ভাববেন। গেরুয়ার অপমান এই বাংলা বরদাস্ত করবে না।’’ কোন সংগঠন, কোন ব্যক্তি যে গেরুয়ার অসম্মান গত উনআশি বছরে পশ্চিমবঙ্গে করেছে, তা অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেননি এদিন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য তাঁর উদ্দেশ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন,‘‘আর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বসে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, ফ্রি প্যালেস্টাইন কিংবা কিষানজীর লাল সেলাম জানানোর দেশবিরোধী গ্যাংকে কীভাবে সাফ করতে হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তা ভালভাবেই জানে।’’ যাদবপুরের পথচারীদের কয়েকজন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে করতে বলেছেন,‘‘তা লালগড়, নন্দীগ্রাম, সুচিত্রা মাহাতোর মতো মাওবাদ ছেড়ে সরাসরি তৃণমূলে যোগ দেওয়া লোকগুলিও জানে, কে কিষানজীর হয়ে কত কাজ করেছে।’’ প্রসঙ্গত, এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন,‘‘আমি পণ করেছিলাম ২০১১-তে রাজ্যে কমিউনিস্ট শাসনের পতন ঘটাব। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ২০২৬-এ এই জামাত সরকারের পতন ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের সরকার গড়ার পণ করেছিলাম। আপনাদের সমর্থনে তা বাস্তবায়িত হয়েছে।’’ 
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, যাদবপুরে তিনদিন ধরে বেদপাঠের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি এই প্রসঙ্গে বলেন,‘‘আশা করব সব রাষ্ট্রবাদী মানুষ তাতে অংশগ্রহণ করবেন।’’ তিনি আরও বলেছেন,‘‘এখানে পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের ডাকে দু’ বার আসব। দেশ ও গেরুয়াকে যাঁরা অপমান করছেন, তাঁদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য একবার বেদপাঠ করতে আসব। আর একবার হনুমান চল্লিশা পাঠ করতে আসব।’’

Comments :0

Login to leave a comment