দুর্গাপুজোর আগে ২০ শতাংশ উৎসব বোনাস এবং দৈনিক ৬৬১ টাকা ন্যূনতম মজুরি কার্যকর না হওয়ায় ডুয়ার্সের চা শ্রমিকরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। শ্রমিকদের বকেয়া পিএফ ও গ্র্যাচুইটি মেটানো, বসতজমির পাট্টা এবং বন্ধ চা-বাগান খোলার দাবিও উঠেছে। এই দাবি গুলিকে সামনে রেখে জয়েন্ট ফোরামের উদ্যোগে ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর সমস্ত চা-বাগানে গেট মিটিংয়ের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বুধবার ডুয়ার্সের বিভিন্ন চা-বাগানে গেট মিটিং করে আন্দোলনে নামে চা বাগান মজদুর ইউনিয়ন।
গেট মিটিং থেকে দাবি ওঠে, দুর্গাপুজোর আগেই প্রতিটি চা-বাগানের ম্যানেজমেন্টকে নোটিশ বোর্ডে ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার বিষয়ে লিখিত ঘোষণা করতে হবে। আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত যোগ্য শ্রমিকের হাতে বোনাস পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যে সমস্ত বাগানে ২০২৫ সালের বোনাস এখনও বকেয়া রয়েছে, তা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার দাবি ওঠে।
চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের অভিযোগ, বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রেও শ্রমিকদের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে। স্থায়ী শ্রমিকের পাশাপাশি ভাউচার, ক্যাজুয়াল ভাউচার - সহ বাগানে কর্মরত সমস্ত যোগ্য শ্রমিককে সমান হারে ২০ শতাংশ বোনাস দিতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী ৩০ দিন কাজ করা কোনও শ্রমিককে বোনাস থেকে বঞ্চিত করা চলবে না বলেও দাবি জানানো হয়েছে।
ন্যূনতম মজুরি কার্যকর না হওয়া নিয়েও বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ টালবাহানার পর শ্রমমন্ত্রী-সহ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে চা শ্রমিকদের দৈনিক ৬৬১ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও অনুমোদন করা হলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে কম মজুরিতেই শ্রমিকদের কাজ করতে হচ্ছে। অবিলম্বে নির্ধারিত ৬৬১ টাকা কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।
শ্রমিকদের পিএফ ও গ্র্যাচুইটির বকেয়া নিয়েও সরব হন। অভিযোগ, বেতন থেকে নিয়মিত পিএফ ও গ্র্যাচুইটির টাকা কেটে নেওয়া হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে না। সমস্ত বকেয়া টাকা জমা দেওয়ার পাশাপাশি অনিয়মের তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বহু প্রজন্ম ধরে চা-বাগানের জমিতে বসবাসকারী শ্রমিক পরিবার গুলিকে বসতভিটার জমির স্থায়ী আইনি অধিকার বা পাট্টা দেওয়ার দাবিও ওঠে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা চা-বাগান দ্রুত খোলার দাবি জানানো হয়েছে। চামুর্চি, আমবাড়ি, রেড ব্যাঙ্ক, সুরেন্দ্রনগর ও তোতাপাড়া-সহ ডুয়ার্সের বন্ধ বাগান খুলে শ্রমিকদের কাজ ও জীবিকার নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের নেতা অজয় মাহালী বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও অধিকার নিয়ে কোনও টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না। ২০ শতাংশ বোনাস, ৬৬১ টাকা ন্যূনতম মজুরি, পিএফ - গ্র্যাচুইটির বকেয়া, জমির অধিকার এবং বন্ধ বাগান খোলার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
Tea workers
বোনাস-মজুরি নিয়ে ডুয়ার্সে গেট মিটিংয়ে চা শ্রমিকদের হুঁশিয়ারি
×
Comments :0