পূজা বোস: বারাসত
মঞ্চে তখন আরাত্রিকা সিন্হা গাইছেন ‘বাঁধ ভেঙে দাও’। নিচে ছাত্রছাত্রীরা উদ্বেল। তার মধ্যে
যেমন কলেজ পড়ুয়ারা, ছিল তেমনই স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও।
প্রতিরোধের এমনই মেজাজ দেখালো প্রজন্ম। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, বারাসত রবীন্দ্রভবনে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আয়োজিত অনুষ্ঠানে মঞ্চ থেকে মেঝে, সর্বত্র নতুন যৌবনের দূতরা প্রতিরোধের অদম্য বার্তা দিল বারবার।
‘প্রজন্মের ডাক’ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্র আন্দোলনের দুই সদ্য প্রাক্তনী দীপ্সিতা ধর এবং আফরিন বেগম। বক্তব্য রেখেছেন অয়নাংশু সরকার, প্রণয় কার্য্যী, ঐশী ঘোষ, সৌভিক দাসবক্সি, আকাশ কর, এষণা সেনের মতো ছাত্র-যুব আন্দোলনের নেতানেত্রীরা।
জেএনইউ’র ছাত্রী এবং এসএফআই নেত্রী ঐশী নিজে যন্তর মন্তরের আন্দোলনে ছিলেন গোড়া থেকে। আর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআই নেত্রী এষণা একেবারে মুখোমুখি লড়েছেন উগ্র হিন্দুত্ববাদী এবিভিপি’র দুষ্কৃতীবাহিনীর সঙ্গে।
অনুষ্ঠানে দেখানো হয়েছে তথ্যচিত্র, যন্তর-মন্তর থেকে যাদবপুরে প্রতিরোধের টাটকা বিবরণ।
কেন প্রতিরোধ? কিসের প্রতিরোধ?
নৃতত্ত্বের ছাত্র দেবার্ঘ দত্তকে জিজ্ঞেস করতেই বললেন, ‘‘শিক্ষার জন্য স্কুলের জন্য দাবি তুলছে ছাত্ররা। তাদের দমিয়ে দেওয়া হবে কেন? বিরোধিতা দমিয়ে কোনও সমাজ চলতে পারে না। সে জন্যই প্রতিরোধের বার্তা।’’
ছাত্রছাত্রীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। ছিল ক্ষুদিরাম বসু, বিআর আম্বেদকরের ছবি।
ঐশী বলেছেন, ‘‘দেশের ছাত্র আন্দোলন আম্বেদকর, জ্যোতিবা ফুলের উত্তরাধিকার বইছে। নতুন প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে টানার চেষ্টা করছে এই সাম্প্রদায়িক শক্তি। জার্মানির ফ্যাসিস্ট শাসনকে মনে করাচ্ছে এরা। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়কেও আলাদা করে নিয়ে দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। আর দেশে নরেন্দ্র মোদী সরকারের ১২ বছরে লাগাতার সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ কমেছে। স্কলারশিপ বন্ধ করেছে। এরা চায় সরকারি শিক্ষাকে ভেঙে ফেলে বেসরকারিকরণ করতে।’’
ঐশী বলেন, ‘‘বিভাজনের শিক্ষা, মনুবাদী শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টাকে রুখবে নতুন প্রজন্ম। মাথা নোয়াবে না। জেলে যেতে হলে যাবে। শিক্ষার অধিকার সবার। তার জন্য লড়াই চলবে। সমাজতন্ত্রের পক্ষে চলবে লড়াই।’’
এষণা যাদবপুরের ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহ্য মনে করিয়েছেন। বিজয়গড় এলাকায় উদ্বাস্তুর মানুষের লড়াইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন যাদবপুর বিশ্বিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রছাত্রীরা। তিনি বলেছেন, ‘‘আজ যখন বুলডোজার রাজ, তখনও প্রতিরোধে শামিল এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা।’’ তিনি বলেছেন, ‘‘এই প্রজন্ম লড়ছে সংবিধান হাতে, যে সংবিধান আজ আক্রান্ত।’’ বলেছেন, ‘‘মিছিলে মিছিলে গড়ে উঠেছে স্পর্ধার ব্যারিকেড। যে স্পর্ধা দিয়েছেন মাস্টারদা, ক্ষুদিরাম, ভগৎ সিং। এঁরা ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন স্বাধীনতার জন্য। আমরা যাদের বিরুদ্ধে লড়ছি তাদের ইতিহাস ব্রিটিশের কাছে আত্মসমর্পনের, মুচলেকা দেওয়ার।’’
Comments :0