US imposes new sanctions on Cuba

কিউবায় নয়া নিষেধাজ্ঞা জারি আমেরিকার

আন্তর্জাতিক

বৃহস্পতিবার কিউবার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করল আমেরিকা। কিউবার জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের অন্যতম বড় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘আলবাপেট’-র ওপর এই নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিউবার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সঙ্কট তৈরি করতেই এই সংস্থাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। 
আমেরিকার অবরোধ নীতির তীব্র সমালোচনা করে কিউবার বিদেশ মন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেছেন, সর্বশেষ এই নিষেধাজ্ঞা দেশটির জনগণের প্রতি ‘যৌথ শাস্তি’-র স্বরূপ। তিনি বলেন, ‘‘আমরা আমেরিকার সাম্প্রতিক একতরফা জবরদস্তি নিষেধাজ্ঞা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এই নিষেধাজ্ঞা অবৈধ ও অন্যায় বলে তিনি অভিহিত করেন।’’
কিউবার সমাজতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দিতে সম্প্রতি চাপ বাড়িয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই অপচেষ্টা প্রতিরোধে কিউবার মানুষ একজোট রয়েছেন। আমেরিকার বিদেশ দপ্তরের এই সংক্রান্ত ঘোষণায় তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তারা জানিয়েছে, কিউবার জ্বালানি সরবরাহকারী সংস্থা ‘আলবাপেট’ সহ ৩১টি প্রতিষ্ঠান এবং কিউবার নেতা রাউল কাস্ত্রোর নাতি ফিদেল আরনেস্তো কাস্ত্রোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। বিবৃতিতে নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য উল্লেখ করে জানানো হয়েছে—  কিউবায় কমিউনিস্ট শাসনে অর্থনীতির অবনতি হয়েছে এবং তারা অর্থনীতির উন্নতি ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে; ফলে সেখানকার মানুষ এখন অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
আদেশে বলা হয়েছে, আমেরিকার এই পদক্ষেপগুলোর লক্ষ্য হলো সেইসব ব্যক্তি, যারা কিউবার জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও সামরিক সরঞ্জাম, ধাতু ও খনি, আর্থিক পরিষেবা কিংবা নিরাপত্তা খাতসহ বিভিন্ন খাতে বর্তমানে কর্মরত বা পূর্বে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া এই পদক্ষেপগুলো এমন কিউবান কর্মকর্তাদেরও লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন’ বা দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। আমেরিকার দাবি, বর্তমান শাসনে অর্থনৈতিক স্থবিরতার ফলে কিউবার পরিস্থিতি সঙ্কটজনক হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘাটতি ও লোডশেডিং এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং একসময় কিউবার সবচেয়ে লাভজনক শিল্প ‘পর্যটন’ আজ সঙ্কটে পড়েছে।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, গত জানুয়ারি থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রচার চালিয়ে কিউবার কমিউনিস্ট শাসন বদলের চেষ্টা করছেন। তবে এতে কিউবার জনমতে কোনও প্রভাব পড়েনি, যা বিশাল শ্রমিক মিছিলের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। পরবর্তীতে এই নিষেধাজ্ঞা আরও প্রসারিত করে নতুন করে জারি করা হয়।
ট্রাম্প কিউবার প্রতি আমেরিকার বিদেশনীতি আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো কমিউনিস্ট শাসনে পরিবর্তন আনা— ট্রাম্প নিজেই তার ইঙ্গিত দিয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে ১৪৫ কিলোমিটার (৯০ মাইল) দূরে অবস্থিত ক্যারিবীয় দ্বীপটি ‘প্রায় অবিলম্বে দখল করে নেবে’। তিনি আরও বলেন, ‘‘ইরান থেকে ফেরার পথে আমাদের বড় জাহাজগুলোর একটি—হয়তো বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’—  উপকূল থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে এসে থামবে এবং তারা (কিউবা) তখন বলবে, ‘আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, আমরা আত্মসমর্পণ করছি।’
কিউবার বিদেশমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ এই হুমকির বিষয়ে বলেছেন, ‘‘এই একতরফা জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ জাতিসঙ্ঘ সনদ লঙ্ঘন করে এবং এর লক্ষ্য হলো কিউবার জনগণের ওপর সম্মিলিত শাস্তি আরোপ করা।’’ তিনি রাজপথের বিক্ষোভের ভিডিও শেয়ার করে সেগুলোকে "স্বদেশ রক্ষার লড়াই" হিসাবে বর্ণনা করেন এবং যোগ করেন: ‘‘আমাদের জনগণ ভীত নয়।’’
উল্লেখ্য, দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কিউবার আলোচনার বিষয়টি মার্চ মাসে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল নিশ্চিত করার পরও দেশটির অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যেই ট্রাম্প এই পদক্ষেপগুলো নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন পদক্ষেপগুলো ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দিয়াজ-কানেল লেখেন, ‘‘বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সামরিক শক্তির ভীতি প্রদর্শন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণেই এই অবরোধ এবং তা আরও জোরদার করার ফলে এত বড় ক্ষতি হচ্ছে।’’
উল্লেখ্য, কাস্ত্রো কিউবায় মার্কিন-সমর্থিত সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্ক বিদ্যমান। ১৯৬০ সাল থেকে কিউবার ওপর আমেরিকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। চলতি বছরে কিউবানরা কাস্ত্রোর জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন করছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প ইরানে একতরফা যুদ্ধ চালিয়ে কোণঠাসা হয়ে এবার কিউবা দখলের দিকে হাত বাড়িয়েছেন।

Comments :0

Login to leave a comment