NorthBengal VBG Ram G

ভিবিজিরামজি; নামে "গ্যারান্টি" থাকলেও মিলছেনা কাজ, মজুরি

জেলা

১০০ দিনের কাজের গালভরা নাম দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার,বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার এন্ড আজীবিকা মিশন(গ্রামীণ) সংক্ষেপে ভিবিজিরামজি ! নামের মধ্যে যতই "গ্যারান্টি" শব্দটা থাকুক না কেন, কাজের গ্যারান্টি মোটেই নেই সেটা বেশ বুঝতে পারছেন কোচবিহারের জব কার্ড হোল্ডার শিবাণী রায়, লক্ষ্মী দাস আর অতুল বর্মনদের মত অসংখ্য গ্রামীণ এলাকার মানুষ!
তিনজনেরই অভিজ্ঞতা খুব খারাপ।কাজে গিয়ে যদি আটেনডেন্স দিতে কম্পিউটারে গরমিল হয় তবে উপস্থিতি নাকচ করে দিচ্ছে গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মীরা ! লক্ষ্মী দাসের অভিজ্ঞতা আরো তিক্ত। গত সপ্তাহেই কাজে গিয়ে সকালে হাজিরা দিয়েছিলেন মেশিনে। কিন্তু গোল বাঁধলো দুপুরবেলাতেই তখন দ্বিতীয়বার হাজিরা কিছুতেই মেশিনে এন্ট্রি হচ্ছে না। অতএব পঞ্চায়েত কর্মীরা জানিয়ে দিল, "তোমার হাজিরা মিলবে না!" ওরা কেউই আর ওই কাজ করতে যায় না এখন।
নাম বদল করে আর যাই হোক ১০০ দিনের কাজে গতি নেই উত্তরবঙ্গের কোন জেলাতেই। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর জুলাই মাস থেকে নাম বদলে ১০০ দিনের কাজ শুরু হয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে। প্রায় ৭৫ দিন কাজ হবার পরেও বেশিরভাগ জেলাতেই যারা কাজ করেছে তাদের মজুরি বকেয়া রয়েছে ! কাজ করেও কেন মজুরি মিলছে না সেটাও জানতে পারছে না শ্রমিকেরা।
কোচবিহারের ১২৮ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের কোথাওই উল্লেখযোগ্য গতি নেই ভিবিজিরামজি প্রকল্পে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আধিকারিকদের বক্তব্য, পদ্ধতিগত সব ধাপ পূরণ করেই আপলোড হচ্ছে তথ্য। অনেক নিয়ম বদলেছে। প্রকল্পের পুরো কাজ মিটলে তবেই মিলবে মজুরি!
আর এই নিয়মেই ক্ষুব্ধ জবকার্ড হোল্ডার হলদিবাড়ির দীনবন্ধু বর্মন, মাথাভাঙার ললিতা কার্য্যীদের মত জবকার্ড হোল্ডাররা। দীনবন্ধু বর্মন বলেন, কাজ করি আয়ের জন্য, সারাদিন কাজের শেষে মজুরি না মিললে যদি সপ্তাহেও মিলতো তবেও মানিয়ে নিতাম। কিন্তু স্কীমের কাজ শেষ হতে দেড় দু মাস বা আরও বেশি সময় যদি লাগে তবে ততদিন কি পেটে গামছা বেঁধে দিন কাটাবো? 
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে এ যাবৎ মাত্র ৪৫ হাজার মানুষ কাজ পেয়েছেন! উত্তর দিনাজপুর জেলায় কাজের জন্য আবেদন পত্র জমা পড়েছে সব চাইতে কম।
উত্তরবঙ্গের ৮ জেলাতেই মূলত গাছ লাগানো,পাড় বাঁধাইয়ের মত স্কীমে কাজ হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে এই সব কাজে স্থায়ী সম্পদ আদৌ হবে কি? কারন তৃনমুলের শাসনের এক দশকে এই ধরনের স্কীমের কোন আউটপুট নেই।মানছেন গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মীরাও। কালিম্পং জেলায় যতটুকু কাজ হয়েছে তার বেশিরভাগই গাছ লাগানো। আবার শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ সমতলে বন্যা নিয়ন্ত্রনে বাঁধ দেওয়ার কাজ হচ্ছে। জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারেও এরকম কাজ হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে আগামী বর্ষা আসতে আসতে এসবের অস্তিত্ব আদৌ থাকবে কি? তবে তো পুরো টাকাটাই জলে যাবে। উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় পুকুর খনন রাস্তা, ছোট নিকাশি নালার কাজ হচ্ছে।
তথ্য বলছে, মালদহ জেলায় গত ৭০ দিনে সব চাইতে বেশি জবকার্ড হোল্ডার কাজ পেয়েছেন। এই জেলায় ২৬ হাজার মানুষ কাজ পেয়েছেন।দার্জিলিং জেলায় প্রায় ৪ হাজার, জলপাইগুড়ি জেলায় মাত্র ২ হাজার, কোচবিহার জেলায় দেড় হাজার, আলিপুরদুয়ার জেলায় সাড়ে ৬ হাজার জবকার্ড হোল্ডার আবেদন করে কাজ পেয়েছেন।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে কাজ পাওয়ার নিরিখে সবচাইতে পিছিয়ে আছে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা! দক্ষিন দিনাজপুর জেলায় কাজ পাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা হাজার ছুঁতে পারেনি এখনো।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির কোথাওই প্রকল্প চালুর প্রায় তিনমাস পরেও সব গ্রাম পঞ্চায়েত জিরামজি প্রকল্প শুরু করার উদ্যোগ নিয়ে উঠতে পারেনি।

Comments :0

Login to leave a comment