যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভের ঠেলায় প্রধানমন্ত্রী সহ বিজেপি’র নেতা-মন্ত্রীদের মুখে এমনকি সঙ্ঘ কর্তাদের মুখেও ছাত্র-যুব সমাজের কথা নিয়মিত শোনা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আগেই সোশাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে যুব সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন দলের নেতামন্ত্রীদের। সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত নিজেই ছাত্র-যুবদের সঙ্গে বাক্যালাপ করতে ময়দানে নেমে পড়েছেন। ১৩ বছর কেন্দ্রে সরকার চালিয়েও ছাত্র-যুব সমাজের ভাবনা, স্বপ্ন, সমস্যা নিয়ে ভাবনা-চিন্তার কথা মনে হয়নি। ধর্মান্ধ হিন্দুত্বের পিটুলি খাইয়ে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়িয়েই তাঁরা তৃপ্ত ছিলেন। কারণ তাতে বিভাজনের সুফল মিলছিল ভোটে। কিন্তু এখন বোঝা যাচ্ছে ছাই চাপা আগুন বিপজ্জনক হয়ে আছে। বিস্ফোরণ ঘটলে ক্ষমতার সিংহাসন লন্ডভন্ড হয়ে যাবে। যন্তর মন্তরে তার নমুনা দেখা গেছে। অতএব এখন শুরু হয়ে গেছে ‘জেন জেড’-র ভজনা। লাল কেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের ভাষণের একটা বড় অংশ প্রধানমন্ত্রী খরচ করেছেন নতুন প্রজন্মকে নিয়ে। তাঁর সাধের উন্নত ভারতের মূল চালিকাশক্তি যে নতুন প্রজন্মই হবে সেটা বারবার বলেছেন। আবার সেই নতুন প্রজন্ম যন্তর মন্তরের বার্তাবাহী হয়ে না ওঠে তাতেও ভয়। তাই ক্ষুব্ধ, বিরক্ত, হতাশ যুব সমাজ যাতে প্রতিবাদী হয়ে বন্দুক ঘুরিয়ে তাক না করে কায়দা করে যন্তর মন্তরীদের দিমাগি নকশাল হিসাবে চিহ্নিত করতে চেয়েছেন।
এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে উন্নত ভারত আগামী প্রজন্মের হাত ধরেই গড়ে উঠবে। বিশেষ করে আজকে যারা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে অথবা শিক্ষান্তে সবে কাজে যোগ দিয়েছে বা এখনও বেকার আছে। এই গোটা প্রজন্ম ১২ বছর ধরে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নত করার কোনও উদ্যোগ দেখেনি। দেখেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আরএসএস’র দখলদারি আর ধর্মের নামে ভাগাভাগি ও সংঘাত। শিল্প-বাণিজ্য-অর্থনীতিতে এমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ লক্ষ্য করেনি যাতে সন্মানজনক কর্মসংস্থান হতে পারে। একদিকে যেমন কাজের হাহাকার বেড়েছে অন্যদিকে শিক্ষার উন্নত ব্যবস্থা না থাকায় গুণগতমান কমছে। ফলে পাশ করার পরও কাজের যোগ্যতা ও দক্ষতায় খামতি থেকে যাচ্ছে। তার পরিণতিই আজকের বিস্ফোরক অবস্থা।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কেমন হাল তা প্রকাশ পেয়েছে সংসদীয় কমিটির সাম্প্রতিক রিপোর্টে। যে ছেলে-মেয়েরা প্রাথমিকে ভর্তি হয় তাদের মধ্যে ৭৩ শতাংশই উচ্চ মাধ্যমিকের আগে স্কুল ছেড়ে দেয়। অর্থাৎ ১০০ জনের মধ্যে মাত্র ২৩জন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসলেও শেষ পর্যন্ত ৭ জনও কলেজে ভর্তি হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজায় পৌঁছায় মাত্র দু’-তিন জন। এই সীমিত সংখ্যক শিক্ষিত ছেলে-মেয়েকেই কাজ দেবার যোগ্যতা নেই সরকারের। নতুন প্রজন্মের বাকি ৯০ শতাংশ অল্প শিক্ষিত ও নিম্ন শিক্ষিতদের জন্য কোনও ব্যবস্থাই নেই। কোটি কোটি তরুণ প্রজন্মকে অল্প শিক্ষিত, অদক্ষ, অযোগ্য করে রেখে মোদী উন্নত ভারত গড়বেন! বাক্ চতুর প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর থেকে বেশি কিছু প্রত্যাশা করাই বোকামি।
Vikshit Bharat the Joke
উন্নত ভারতের রসিকতা
×
Comments :0