গঙ্গার পাড়ের সমস্ত জমি চড়া দামে আদানি আম্বানির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষের। তার মাশুল দিচ্ছে জ্যোতিনগর।
কাশীপুরের জ্যোতি নগর কলোনি বস্তিতে রাস্তার আলো ও রাস্তার কলের জল বন্ধ করে দিয়েছে কর্পোরেশন। এখন উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন গুনছেন বাসিন্দারা। যাঁদের বেশিরভাগ মুসলিম।
বিপন্ন সময়েই তাঁদের পাশে পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি। রয়েছে বামপন্থী গণসংগঠনসমূহ।
রবিবার প্রতিরোধের ছবি ধরা পড়ল এই জ্যোতিনগরেই। হলো মিছিল। হলো কনভেনশনও। আর উচ্ছেদ বিরোধী কনভেনশনেই বন্দর কর্তৃপক্ষের আসল মতলব সম্পর্কে সাবধান করেছেন নেতৃবৃন্দ।
এদিনের কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন পশ্চিমবঙ্গ বস্তু উন্নয়ন সমিতির কলকাতা জেলা সভাপতি আব্দুল রউফ। বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক কনীনিকা ঘোষ, পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির রাজ্য সম্পাদক সুখরঞ্জন দে, বস্তি উন্নয়ন সমিতির অন্যতম নেতা ডাঃ ফুয়াদ হালিম, এলাকার বস্তি আন্দোলনের নেতা অজিত শাসমল, অধ্যাপিকা মহালয়া চ্যাটার্জি সহ নেতৃবৃন্দ। ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সহ সভাপতি এবং সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য দেবাশিস চক্রবর্তী, সিপিআই(এম) নেতা প্রতীপ দাশগুপ্ত।
গত ২৯ জুলাই থেকে হঠাৎ করেই কাশিপুর বেলগেছিয়া বিধানসভার কাশিপুর জেটি সংলগ্ন জ্যোতি নগর কলোনির রাস্তার আলো ও রাস্তার ফলের জল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার কিছুদিন আগেই সরকারের আসীন হয়েছে বিজেপি।
কর্পোরেশন ও প্রশাসনের কাছে একাধিক বার দরবার করা হলেও এখনো পর্যন্ত রাস্তার কলের জল পাননি মানুষ। আন্দোলনের চাপে রাস্তার আলো ফিরেছে। আর সেই সঙ্গে এসে পড়েছে উচ্ছেদের নোটিশও। যার বিরুদ্ধে একদিকে চলছে রাস্তার লড়াই, অন্যদিকে কোর্টের লড়াই।
৭ আগস্ট পর্যন্ত উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। রবিবার এই জ্যোতি নগর কলোনিতেই উচ্ছেদ বিরোধী কনভেনশনের আহ্বান জানানো হয়। কনভেনশনের আগে চিড়িয়া মোড় থেকে বিভিন্ন বামপন্থী গণসংগঠনের কর্মীরা মিছিল করে এই জ্যোতিনগর পর্যন্ত আসেন।
কনভেনশনে সুখরঞ্জন দে বলেন, "বামপন্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন উদ্বাস্তু মানুষের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছিল। তৈরি হয়েছিল কলোনি। মানুষের অধিকার দিতেই বহু বস্তিকে মান্যতা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছিল।’’ তিনি বলেন, ‘‘বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া কোথাও কোনও উচ্ছেদ করা যাবে না। ষাটের দশক থেকে বামপন্থীরা এই আন্দোলন করেছে। ঠিকা প্রজা আইনে বাসস্থানের অধিকার দিয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার। কিন্তু পরবর্তীতে সেই আইন পরিবর্তন করে অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে তৃণমূল সরকার। তাকেই ব্যবহার করছে আজকের বিজেপি।
তিনি বলেন, ‘‘অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে বিজেপির সরকার। যে সংস্থাগুলি পরিষেবা দেওয়ার কথা সেই কর্পোরেশন কেন মানুষের পরিষেবা কেড়ে নিল! এর পিছনে রয়েছে চক্রান্ত। কলকাতা কর্পোরেশন ও সিইএসসি কেবল আলো এবং জল বন্ধ করেনি। এর পেছনে ছিল উচ্ছেদের পরিকল্পনা। এই জমি ওরা চড়া দামে আদানি আম্বানি কে বিক্রি করে দিতে চায়। এর বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবেই আন্দোলন করতে হবে।’’
অজিত শাসমল বলেছেন, ‘‘উচ্ছেদ শুধু জ্যোতিনগর কলোনিতেই হবে না গোটা গঙ্গার পাড় এলাকা উচ্ছেদ হবে। জ্যোতি নগর কলোনি দিয়ে শুরু হওয়ার কারণ এখানে সংখ্যালঘু মুসলিম মানুষের বসবাস। সংখ্যালঘু মানুষেকে উচ্ছেদ করে প্রথমে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করবে। তারপর উচ্ছেদ হবে সংখ্যাগুরু এলাকাতেও। তাই লড়াই করতে হবে লড়াই করতে হবে বিভাজনের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ছাড়া আমাদের কোনও পথ নেই।’’
অধ্যাপিকা মহালয়া চ্যাটার্জি বলেন, "গঙ্গার পাড়ের এই সমস্ত জমি বন্দরের। বন্দর এই জমি বর্তমানে ব্যবহার করে না। আগে গঙ্গার ঘাটে বড় বড় নৌকা আসতো বাইরে থেকে। মাল নামানো হতো। এই এলাকাগুলিতে শ্রমজীবী মানুষ মূলত বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ধরেই তার এখানে বসবাস করতে থাকে। রাজ্যের পৌর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী বলেছেন যে আগে তিনি মানুষকে সাজাতেন। এখন তিনি শহর সাজাতে নেমেছেন। শহর সাজানোর মানে কি! মানুষকে উচ্ছেদ করা? এই শহরে বসবাসকারী এক-তৃতীয়াংশ মানুষই বস্তি অঞ্চলে বসবাস করেন। এ কথা মনে রাখতে হবে।’’
Will the land go to the Adanis? Eviction must be halted—call made at the Jyotinagar convention.
জমি যাবে আদানিদের কাছে? রুখতে হবে উচ্ছেদ, জ্যোতিনগরের কনভেনশনে আহ্বান
×
Comments :0