Tamil Nadu

তামিলনাড়ু বিধানসভায় তুমুল হট্টগোল, ডিএমকে বিধায়কদের বের করে দিলেন স্পিকার

জাতীয়

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র নথি তুলে ধরে পূর্ববর্তী ডিএমকে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং দলের তহবিল সংগ্রহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের মন্তব্য ঘিরে মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে উঠলো তামিলনাড়ু বিধানসভা। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সংশ্লিষ্ট অংশ বিধানসভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ দেখান ডিএমকে বিধায়করা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত তাদের বিধানসভা কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার জে সি ডি প্রভাকর।
দিনের অধিবেশন শুরু হওয়ার পরই ডিএমকে-র মুখ্য সচেতক ই ভি ভেলু সোমবার মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দেওয়া বক্তব্যের কয়েকটি অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। তার অভিযোগ, ওই বক্তব্য বিধানসভার নিয়মবিধির পরিপন্থী।
সোমবারের বক্তব্যে বিজয় অভিযোগ করেছিলেন, আগের ডিএমকে সরকারের আমলে ঠিকাদারদের কাছ থেকে প্রকল্পের মোট মূল্যের ৭.৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ‘পার্টি ফান্ড’ হিসেবে নেওয়া হতো। তার দাবি, পৌর প্রশাসন ও জল সরবরাহ দপ্তরের অধীনে বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি ইডির একটি নথির উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, বীরানম জল প্রকল্প সংক্রান্ত অভিযোগের প্রসঙ্গে সরকারকে নিশানা করতে তিনি সারকারিয়া কমিশনের রিপোর্টের কথাও উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে ই ভি ভেলু বলেন, ডিএমকে-র দলীয় তহবিলের উৎস এবং সারকারিয়া কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে বিজয়ের মন্তব্য বিধানসভার নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাই ওই মন্তব্যগুলি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে ডিএমকের আপত্তি খারিজ করে রাজ্যের আইনমন্ত্রী আর এন নির্মল কুমার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পক্ষে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, বিজয়ের বক্তব্য সারকারিয়া কমিশনের রিপোর্ট এবং ইডির সরকারি নথির ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী ডিএমকে সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগও পুনরায় তুলে ধরেন তিনি।
এরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ডিএমকে বিধায়করা। তারা স্লোগান দিতে দিতে স্পিকারের পোডিয়ামের সামনে চলে আসেন।
স্পিকার জে সি ডি প্রভাকর স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে কোনও অংশ বাদ দেওয়া হবে না। তার যুক্তি, বিজয় বিধানসভায় এমন কোনও তথ্য তুলে ধরেননি যা ইতিমধ্যে জনসমক্ষে নেই।
স্পিকার বলেন, ‘মুরাসোলি মারানকে নিয়ে যা আলোচনা হয়েছিল, তিনি সেটিই বলেছেন। তিনি শুধু জনসমক্ষে থাকা ইডির তথ্যের উল্লেখ করেছেন।’
এম কে স্ট্যালিনের মিসা আইনে গ্রেপ্তার এবং অতীতে বিধানসভায় সারকারিয়া কমিশন নিয়ে হওয়া আলোচনার কথাও মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছিলেন বলে জানান স্পিকার। তার বক্তব্য, ‘এতে কোনও ভুল নেই। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে কিছু বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’
বিক্ষোভরত ডিএমকে বিধায়কদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, সোমবার মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখার সময়ও তারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তার মন্তব্য, ‘গতকাল আপনারা কী করেছিলেন, গোটা দেশ দেখেছে। আপনারা মুখ্যমন্ত্রীকে কথা বলতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি সফলভাবে তার বক্তব্য শেষ করেছেন। সবকিছু নিয়ম মেনেই হচ্ছে।’
স্পিকারের বলা সত্ত্বেও বিক্ষোভ থামেনি। ডিএমকে বিধায়করা স্লোগান দিতে দিতে স্পিকারের আসনের সামনে জড়ো হন। বিধানসভার নেতা কে এ সেনগোট্টাইয়ান বিক্ষোভরত বিধায়কদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি বলেন, স্পিকারের সিদ্ধান্তের পরেও ডিএমকে বিধায়করা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। তাদের বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন জানান তিনি।
এরপর স্পিকার বিক্ষোভরত বিধায়কদের এক মিনিটের মধ্যে নিজেদের আসনে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, কে এন নেহরু অথবা ই ভি ভেলুকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হবে।
কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। ডিএমকে বিধায়করা বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকেন। তাদের হাতে পোস্টার থাকার বিষয়েও আপত্তি জানান স্পিকার। তিনি বলেন, তার অনুমতি ছাড়াই বিধানসভার ভিতরে পোস্টার আনা হয়েছে এবং তার নির্দেশও মানা হয়নি।
এক পর্যায়ে এক বিক্ষোভকারী ডিএমকে বিধায়ক স্পিকারের দিকে এগিয়ে গেলে তাকে উদ্দেশ করে স্পিকার বলেন, ‘এখানে আসবেন না। বেরিয়ে যান।’
এরপর স্লোগান ও বিক্ষোভ চলতে থাকায় বিধানসভার মার্শালদের ডেকে ডিএমকে বিধায়কদের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার। মার্শালরা বিক্ষোভরত বিধায়কদের একে একে বিধানসভা কক্ষের বাইরে নিয়ে যান। বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও ডিএমকে বিধায়কদের স্লোগান দিতে দেখা যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর ইডি-নথি সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই ঘটনাকে ঘিরে তামিলনাড়ু বিধানসভায় শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হলো।

Comments :0

Login to leave a comment