Farmers Protest

‘গ্রাম জাগাও, কৃষক বাঁচাও’ লাটাগুড়িতে গর্জে উঠল কৃষক সভা

জেলা

একদিকে তৃণমূল সরকারের ‘লুম্পেন’ রাজ আর অন্যদিকে বিজেপির ‘কর্পোরেট-সাম্প্রদায়িক’ আঁতাত- এই দুই যাঁতাকলে পিষ্ট রাজ্যের কৃষক সমাজ। আলুর ন্যায্য দাম না মেলা, ধানের মান্ডিতে দালাল রাজ এবং ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার জলপাইগুড়ির লাটাগুড়িতে গর্জে উঠল সারা ভারত কৃষক সভা। ক্রান্তি ব্লকের এই বিশাল কর্মীসভা থেকে রাজ্য ও কেন্দ্র, উভয় সরকারকেই তীব্র আক্রমণ শানালেন কৃষক নেতৃত্ব।
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে কৃষক সভার রাজ্য সম্পাদক পরেশ পাল অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের ভুল নীতি ও চরম উদাসীনতায় আজ দিশেহারা আলু চাষিরা। তিনি বলেন, ‘‘গত বছর লোকসান সত্ত্বেও কৃষকরা এবার ভালো ফলন ফলিয়েছেন। কিন্তু চার বছর আগে হঠকারিতা করে বর্ডার সিল করায় প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে আলুর রপ্তানি থমকে গেছে। রাজ্যে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের অভাবের সুযোগ নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা।’’ তাঁর দাবি, সরকার ৯৫০ টাকা কুইন্টাল দরে আলু কেনার কথা ঘোষণা করলেও তা কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ। চাষিরা নিরুপায় হয়ে মাত্র ২০০ টাকা বস্তা দরে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষক সভার স্পষ্ট দাবি- অবিলম্বে সরকারকে ১৪০০ টাকা কুইন্টাল দরে আলু কিনে রেশন ও গণবন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
ধানের মান্ডিতে কৃষকদের হয়রানির চিত্র তুলে ধরে পরেশ পাল বাঁকুড়ার তালড্যাংরায় ধান বিক্রি করতে গিয়ে কৃষক লক্ষিন্দর ঘোষের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টানেন। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে জানান, মান্ডিতে এখন ফড়ে ও দালালদের রাজত্ব চলছে। এক কুইন্টাল ধানে ১২ কেজি পর্যন্ত ‘বলোন’ বা বাড়তি ধান দাবি করা হচ্ছে। সরকারের মদতপুষ্ট এই সিন্ডিকেট রাজের বলি হতে হচ্ছে অসহায় অন্নদাতাদের।
এদিনের সভায় নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন কৃষক সভার রাজ্য সভাপতি মেঘনাথ ভূঁইয়া। তিনি অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্র করে প্রায় ৬০ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নাম সামান্য বানানের অজুহাতে ছেঁটে ফেলে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশনকে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘‘একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে এই তালিকার ভিত্তিতে আগামী বিধানসভা নির্বাচন হতে দেওয়া যাবে না।’’
সভায় জেলা সম্পাদক প্রাণ গোপাল ভাওয়াল ও জেলা সভাপতি আশীষ সরকার বলেন, ‘‘কেন্দ্র ও রাজ্যের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এখন বুথ স্তর পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। ‘গ্রাম জাগাও, কৃষক বাঁচাও’— এই সঙ্কল্প নিয়ে প্রতিটি গ্রামে আন্দোলনের ঢেউ তোলার ডাক দেন নেতৃবৃন্দ। এদিনের সভা পরিচালনা করেন কৃষক সভার ক্রান্তি ব্লক সভাপতি হাবিবুল ইসলাম। কর্মীসভা শেষে স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

Comments :0

Login to leave a comment