Dinhata House for All project corruption

বিল্ডিং প্ল্যান পাশ জালিয়াতি মামলার তদন্তে কি চাপা পরে যাবে হাউস ফর অল প্রকল্পের দুর্নীতি, উঠছে প্রশ্ন

জেলা

দিনহাটা পৌর ভবন। ছবি- অমিত কুমার দেব

পুনরায় শুরু হয়েছে বিল্ডিং প্ল্যান পাশ জালিয়াতি মামলার তদন্ত। কিন্তু এই মামলা সামনে আসায় কি ধামাচাপা পড়ে যাবে তৃণমূল পরিচালিত দিনহাটা পৌরসভার বিরুদ্ধে ওঠা হাউস ফর অল প্রকল্পে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগ? ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।
২০১৫ সাল থেকে ২০২১ সাল দিনহাটা পৌরসভার পৌর প্রধানের দায়িত্ব থাকা সদ্য প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা উদয়ন গুহ'র সময়কালেই এই দুর্নীতি হয়েছে বলে উঠেছে অভিযোগ। এই প্রকল্পে ঘর দেওয়ার নাম করে উপভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা কাটমানি নেওয়া, স্বজন পোষণ এবং এই উপভোক্তাদের গণতন্ত্র হরণের অভিযোগ উঠেছে পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এবিষয় নিয়ে  ২০২২সাল নাগাদ দিনহাটায় তদন্তে আসে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলও।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে ২০২১সাল পর্যন্ত দিনহাটা পৌরসভার পৌর প্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন এই উদয়ন গুহ। আর এই সময়কালেই সীমাহীন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে দিনহাটা পৌরসভার বিরুদ্ধে। প্রথমত এই হাউস ফর অল প্রকল্পের আওতাভুক্ত উপভোক্তাদের কাছ থেকে পৌরসভার পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে নেওয়ার কথা থাকলেও নিয়মকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ৪৫হাজার টাকা নিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই-ই নয়, উপভোক্তাদের কাছ থেকে মুচলেখা লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে যে তারা স্বেচ্ছায় পৌরসভার উন্নয়ন তহবিলে ২০হাজার টাকা দান করলেন। অভিযোগ, ৪৫হাজার টাকাই নয়, নিয়ম বহির্ভূতভাবে কোন উপভোক্তার কাছ থেকে ৬৫, আবার কোন উপভোক্তার কাছ থেকে ৭৫হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে এই পৌরসভা।
যে পরিবারের আয় বার্ষিক দেড় লক্ষ টাকার নীচে, তারাই শুধুমাত্র এই হাউস ফর অল প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারবেন বলে সরকারি নিয়ম থাকলেও, এক্ষেত্রে দেখা গেছে এই নিয়মকে মান্যতা না দিয়ে মান্যতা দেওয়া হয়েছে যারা পৌরসভাকে ডোনেশন দিতে পারবেন তাদেরকেই। আর এই কারণেই দেখা গেছে যাদের ছাদ পেটানো বাড়ি, যাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা রয়েছে তারাই পেয়েছেন এই হাউস ফর অল প্রকল্পের ঘর। এদের মধ্যে বেশিরভাগই রয়েছেন, যারা পৌরসভার স্থায়ী, অস্থায়ী কর্মচারী কিংবা তাদের পরিজনেরা। হাউস ফর অল প্রকল্পের ঘর নির্মাণের যে নিয়ম রয়েছে, তাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিজেদের প্ল্যান অনুযায়ী ঘর নির্মাণ করেছেন বেশিরভাগ উপভোক্তারাই বলে উঠছে অভিযোগ।
দিনহাটা শহরে হাউস ফর অল প্রকল্পের এই নিয়ম বহির্ভূত ঘরের সংখ্যা প্রায় ৩হাজার। ইতিমধ্যেই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে অধিকাংশ ঘরেই এবং সংশ্লিষ্ট উপভোগক্তারা এই প্রকল্পের ৩লক্ষ ৬৮হাজার টাকা পেয়েও গেছেন। 
এই প্রসঙ্গে সিপিআই(এম) নেতা শুভ্রালোক দাস বলেন, সদ্য প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী এবং ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দিনহাটা পৌরসভা-র পৌর প্রধানের পদে থাকা উদয়ন গুহ-র সময়কালে সংগঠিতভাবে কাটমানি আদায় করেছে দিনহাটা পৌরসভা। এই টাকা নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে রাজ্যের শাসক দল তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে। যাদেরকে অবৈধ উপায়ে ঘর পাইয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে তৃণমূল দল করতে হবে, বিরোধী দলের মিটিং-মিছিলে যাওয়া যাবে না—এই ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আসলে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ভাঙার জন্যই এই অবৈধ উপায় অবলম্বন করেছে শাসক দলের নেতারা। সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে PMAY–HFA(U) / House For All প্রকল্প দিনহাটা শহরে ব্যবহার করা হয়েছে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে।
তিনি আরও বলেন, হাউস ফর অল প্রকল্পের উপভোক্তাদের কাছ থেকে নেওয়া বাড়তি টাকা অবিলম্বে ফেরত দেওয়া সহ ২০১৫ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দিনহাটা পৌরসভার বিদায়ী বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয়বরাদ্দ অর্থ ও সার্বিক খরচের হিসাব সংবলিত শ্বেতপত্র প্রকাশ করার দাবি বারংবার জানিয়ে আসছে সিপিআই(এম)। এই দাবি পূরণ করা না হলে দিনহাটা শহরের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তীব্র আন্দোলনে শামিল হবেন তারা।
অবিলম্বে এই অগণতান্ত্রিক ও বেআইনি ভাবে আদায় করা অতিরিক্ত টাকা প্রকৃত উপভোক্তাদের ফেরত দেওয়া এবং সমগ্র ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবিও জানান তিনি।
 

Comments :0

Login to leave a comment