Iran Israel

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র - ইরানের বৈঠক

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দেওয়া টানা ছয় সপ্তাহের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য মার্কিন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বহনকারী একটি বিমান শনিবার বিকেলে ইসলামাবাদে অবতরণ করেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
পাকিস্তানি সূত্র অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। তারা এই আলোচনায় ওয়াশিংটনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
মার্কিন দল পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা আগেই, শনিবার ভোরে ইরানের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে এসে পৌঁছায়। ইরানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সাথে চলমান সংঘাত নিরসনের এই আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
মেহের নিউজ এজেন্সির সূত্রে খবর, উভয় প্রতিনিধিদল প্রথমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সাথে আলাদা বৈঠক করতে পারেন। 
আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগেই ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আলোচনার পথ খুব একটা মসৃণ হবে না।
ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, লেবানন নিয়ে প্রতিশ্রুতি এবং ইরানের আটকে থাকা সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত না হলে আলোচনা এগোতে পারে না। তিনি জানান, ওয়াশিংটন আগেই এই শর্তগুলোতে রাজি হয়েছিল এবং তেহরান আশা করে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা হবে। 
আলোচনার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া বার্তা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইরানের হাতে ‘কোন তাস নেই’ এবং তারা আন্তর্জাতিক জলপথকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি লেখেন, ‘ইরান বুঝতে পারছে না যে তাদের হাতে কোন তাস নেই। তারা আজ টিকে আছে কেবল আলোচনার জন্যই।’
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অবশ্য কিছুটা পরিমিত সুর বজায় রেখে বলেছেন, তিনি একটি ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘তারা যদি আমাদের সাথে চালাকি করার চেষ্টা করে, তবে তারা দেখবে যে আলোচক দল খুব একটা নমনীয় নয়।’
অন্যদিকে পাকিস্তানের রাজধানী শহরে এক নজিরবিহীন লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। শহরজুড়ে হাজার হাজার আধা-সামরিক বাহিনী এবং সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘যে কোন ধরনের ব্যাঘাত এড়াতে এবং পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা বহু-স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর ফলে ইরানে মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলা আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে সংঘাতের মূল কারণগুলো এখনও অমীমাংসিত।
ইরান এখনও হরমুজ প্রণালীতে তাদের বিধিনিষেধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করেনি, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। একই সময়ে লেবাননে ইজরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে, যা এই যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েলি হামলায় লেবাননের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১৩ জন সদস্য নিহত হয়েছেন, যার জবাবে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment