Thane

৯৫.৭ শতাংশ নম্বর পেয়েও পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হওয়ায় কিশোরের আত্মহত্যা

জাতীয়

উচ্চশিক্ষার জন্য পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পেরে মহারাষ্ট্রের থানে শহরে আত্মহত্যা করলেন ১৭ বছরের এক ছাত্র। দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ওই পড়ুয়া বোর্ড পরীক্ষায় ৯৫.৭ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন। কিন্তু পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পারার হতাশা থেকেই সে চরম সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। থানের ঘোডবন্দর রোডের হিরানন্দানি এস্টেট এলাকার একটি আবাসনেই পরিবারের সঙ্গে থাকত ওই কিশোর।
পুলিশের দাবি, ওই ছাত্রের ইচ্ছা ছিল কলকাতার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, শিবপুরে (IIEST Shibpur) BS-MS ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি হওয়ার। সেই লক্ষ্যে অ্যাপটিটিউড পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। পরীক্ষায় তার র্যািঙ্ক হয় ১০,৪৭৪। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পছন্দের প্রতিষ্ঠানে আসন না পাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল সে।
৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ সাইকেল চালাতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরোয় ওই ছাত্র। প্রায় ৪৫ মিনিট পরে, রাত ৮টা ১৫ মিনিট নাগাদ পরিবারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তা পাঠায় সে। সেখানে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার ইঙ্গিত ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বার্তাটি দেখার পর পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু ফোন বন্ধ থাকায় তারা দ্রুত কাসারভাদাভলি থানায় খবর দেন। পুলিশ এবং পরিবারের সদস্যরা মিলে এলাকায় খোঁজ শুরু করেন।
কিছুক্ষণ পর আবাসনের কাছেই গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ছাত্রকে উদ্ধার করা হয়। তাকে থানের সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনওরকম অপরাধমূলক ঘটনার সন্দেহ প্রকাশ করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, পড়াশোনা এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তি সংক্রান্ত মানসিক চাপ ও হতাশাই এই ঘটনার পিছনে থাকতে পারে।
ঘটনার ভিত্তিতে ছাত্রটির বাবার বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা (Accidental Death Report) নথিভুক্ত করেছে। ঘটনার অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য, দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে ৯৫.৭ শতাংশ নম্বর পাওয়ার পরেও পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পারার বিষয়টি ওই ছাত্রকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের উপর উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের প্রতিযোগিতা এবং প্রত্যাশার মানসিক চাপ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

Comments :0

Login to leave a comment