Suvendu Adhikari

সঙ্কল্প পত্রের প্রতিশ্রুতি এখনই পূরণ করা সম্ভব নয় মানলেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্য

দশকের পর দশক ধরে চলে আসা ‘আর্থিক অব্যবস্থাপনা’র কারণে পশ্চিমবঙ্গ কার্যত ‘দেউলিয়া’ অবস্থায় পৌঁছেছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী সুজেন্দু অধিকারী। রাজ্যের আর্থিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে অন্তত এক বছর সময় লাগবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, বর্তমান বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতিতে কী পদক্ষেপ করেছে এবং রাজ্যের রাজস্ব ঘাটতি ও ঋণের বোঝা কমাতে তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাই বা কী।
সোমবার নবান্নে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন প্রবীণ নাগরিকদের বর্ধিত বার্ধক্যভাতা দেওয়ার কর্মসূচিও ছিল। মাসিক ১,০০০ টাকা থেকে তা বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে। আগের সরকারের সময় করা আবেদন বাতিল বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

নির্বাচনী ‘সংকল্পপত্রে’ ভাতা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও অর্থনৈতিক অনটনের জন্য এ বার ৫০০ টাকা বাড়াতে পারায় খানিক আক্ষেপ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষে রাজ্যের আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটলে ভাতা দ্বিগুণ করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আগের সরকারগুলির আর্থিক অব্যবস্থাপনা, রাজস্ব ক্ষতি এবং অর্থের অপচয়ের কারণেই রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি। কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্য যোগ না দেওয়ার কারণেও অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বলে দাবি তার।
বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্রের সমস্ত প্রকল্পে রাজ্য যুক্ত হয়েছে এবং কেন্দ্র থেকে অর্থ আসতে শুরু করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। কিন্তু কেন্দ্রীয় প্রকল্পে অর্থ পাওয়ার প্রশ্নে রাজ্যের অংশ, শর্ত এবং কেন্দ্রের বকেয়া নিয়ে কী অবস্থান সরকারের, তা এদিন স্পষ্ট করেননি মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, রাজ্যের আর্থিক সঙ্কটের দায় পূর্বতন সরকারের উপর চাপালেও বিজেপি সরকার নিজের আমলে রাজস্ব আদায়, কর্মসংস্থান, সামাজিক প্রকল্পের ব্যয় এবং ঋণের বোঝা সামলাতে কী কার্যকর পদক্ষেপ করেছে, সেই প্রশ্নও উঠছে। বিরোধীদের বক্তব্য, অতীতের সরকারকে দায়ী করে বর্তমান সরকারের আর্থিক ব্যর্থতা আড়াল করা যায় না। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নামে রাজ্যের আর্থিক অধিকার ও পাওনা নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের বিষয়টিও সরকার এড়িয়ে যাচ্ছে।
চলতি অর্থবর্ষে রাজ্যের রাজস্ব আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বাড়বে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজস্ব ক্ষতি বন্ধ করা গেলে আয় আরও বাড়বে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই রাজস্ব কীভাবে বাড়বে এবং কোন খাতে ব্যয় কমানো হবে, তার বিস্তারিত রূপরেখা এদিন সামনে আসেনি।
বার্ধক্যভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে প্রবীণদের কিছুটা স্বস্তি মিললেও, রাজ্যের সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজেপি সরকারের নীতি কতটা কার্যকর হবে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে।

Comments :0

Login to leave a comment