USA Iran conflict

ইরানের সাথে সংঘাত নিয়ে নিজের দিক থেকে দায় ঠেলতে মোরিয়া ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে আমেরিকার ইজরায়েলের সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। এরই মাঝে এই সংঘাত নিয়ে নতুন দাবি করলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি প্রদেশে একটি গোলটেবিল বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন যে, তার প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথই প্রথম এই সামরিক অভিযানের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। হেগসেথকে পাশে বসিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘পিট, আমার মনে হয় তুমিই প্রথম কথা বলেছিলে এবং বলেছিলে, চলো এটা করি কারণ ওদের হাতে কিছুতেই পারমাণবিক অস্ত্র তুলে দেওয়া যায় না।’
ট্রাম্প প্রশাসনের ঠিক কে বা কারা ইরানের বিরুদ্ধে এই আক্রমণের পক্ষে ছিলেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই তালিকাতেই একটি নতুন সংযোজন।
ট্রাম্প প্রশাসনের আধিকারিকদের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর কারণ নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা অপ্রত্যাশিত ছিল বলে ট্রাম্প দাবি করলেও, রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল। সূত্রের খবর ইতিমধ্যেই ১৩ জন মার্কিন সেনা এই সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে মতবিরোধের জেরে ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের প্রাক্তন প্রধান জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন।
কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে সংঘাতে যুক্ত হলো সেই নিয়ে মার্কিন কর্তাদের মধ্যেই রয়েছে বিতর্ক। কারও মতে, ইজরায়েল এমনিতেই হামলা চালাত, তাই আমেরিকার অংশগ্রহণ অনিবার্য ছিল। আবার কেউ জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একেবারে চরম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল তাই এই সংঘাত।
ট্রাম্প নিজেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুহূর্তটিকে নাটকীয়ভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি পিটকে ফোন করি। আমি জেনারেল কেন-কে ফোন করি। আমাদের অনেক আধিকারিককে ফোন করি। আমি বলি, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের একটি সমস্যা দেখা দিয়েছে আমরা চাইলে সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারি তবে আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান হবে।’ 
হেগসেথের নাম উল্লেখ করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। তিনি বলেন, ‘ওরা যেভাবে হঠাৎ আক্রমণ করল, তা কেউ ভাবতেই পারেনি।’
তবে ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে সংবাদসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্টের কোন মিল নেই। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধ নিয়ে আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই অনুযায়ী কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য ট্রাম্পের বার্তায় একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট, আর তা হলো প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথের সক্রিয় উপস্থিতি। পেন্টাগনে তিনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, ড্রোন উৎপাদন এবং নৌ-শক্তি ধ্বংস করার কথা জানিয়েছেন। যুদ্ধ কবে শেষ হতে পারে, এই প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ স্পষ্ট কিছু জানাননি। তিনি কেবল বলেছেন যে, এই অভিযান সঠিক পথেই এগোচ্ছে।
তবে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে উপরাষ্ট্রপতি ভ্যান্স এই যুদ্ধ নিয়ে কিছুটা কম উৎসাহী ছিলেন, যদিও ভ্যান্স প্রকাশ্যে কোন সমালোচনা করেননি। কুটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে ট্রামপের এই মন্তব্য প্রমান করছে তার প্রশাসনের মধ্যেই তার পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। 
যুদ্ধ চলাকালীন ট্রাম্প ইরানের সাথে সম্ভাব্য আলোচনার কথাও বলেছেন, যাতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি চুক্তিতে আসতে চাই। যদি সব ঠিকঠাক চলে, তবে আমরা এর মীমাংসা করে ফেলব।’ 
তিনি জানান, তার জামাই জ্যারেড কুশনার এবং দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে ইরানের এক শীর্ষ ব্যক্তির আলোচনা চলছে। তবে ইরান এ ধরনের কোনও আলোচনার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
ট্রাম্প ইরানকে তার দাবি মানার জন্য সোমবার পর্যন্ত যে চরমসীমা দিয়েছিলেন, তা আরও পাঁচ দিন বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য বারংবার বয়ান বদল, আলোচনার দাবি অস্বীকার এবং দায় চাপানোর চেষ্টার মধ্যে এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপট খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু যা বদলায়নি তা হলো চরম অনিশ্চয়তা। যুদ্ধ কীভাবে শুরু হলো, কোন দিকে এগোচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত কে এই সংঘাত শুরুর দায় নেবে, তা নিয়ে থেকেই যাচ্ছে প্রশ্ন।

Comments :0

Login to leave a comment