এসএফআই উত্তর প্রদেশ রাজ্য কমিটির সদস্য এবং গ্রেটার নয়ডার গৌতম বুদ্ধ নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অক্ষত ত্রিপাঠীকে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় রাজ্য পুলিশ হুমকি দিচ্ছে এবং নোটিস দিয়ে তাঁকে ৫ লক্ষ টাকা ব্যক্তিগত বন্ড জমা করতে বলা হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে এসএফআই সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে, উত্তর প্রদেশ সরকারের এই পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের সরাসরি উলঙ্ঘন। সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি আদর্শ এম সাজি এবং সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য এই নিয়ে সোমবার যে বিবৃতি প্রকাশ করেছেন, তাতে বলা হয়েছে গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বরকে সন্ত্রস্ত ও দমন করতে বিজেপি সরকারের পুলিশকে ব্যবহার করার চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। অক্ষতের বিরুদ্ধে জারি করা নোটিস বা নির্দেশ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
গত শনিবার অক্ষত নিজেই একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে জানান, ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় উত্তর প্রদেশ পুলিশ তাকে হুমকি দিচ্ছে। গ্রেটার নয়ডার গৌতম বুদ্ধ নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএলএলবি’র দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অক্ষত। দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনে হাজারো প্রতিবাদীর মত অক্ষতও যান। শান্তিপূর্ণভাবেই সেই আন্দোলনে অংশ নেন। সেই নিয়ে গৌতম বুদ্ধ নগর ম্যাজিস্ট্রেটের থেকে একটি নোটিস পাঠানো হয়েছে। যেখানে তাকে ৫ লক্ষ টাকা ব্যক্তিগত বন্ড জমা করতে বলা হয়েছে। অক্ষত বলেন, একজন ছাত্র হিসেবে আমার কোনও ব্যক্তিগত আয় নেই। এই অবস্থায় এত বিপুল পরিমাণ অর্থ আমাকে দিতে বলা কতখানি বাস্তবসম্মত সেটাও একটা প্রশ্ন। নোটিসে বলা হয়েছে ২০ জুলাই আমি যন্তর মন্তরে আন্দোলনে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রদের উসকানি দিয়েছি। অক্ষত ওই ভিডিও বার্তাতেই প্রশ্ন তোলেন, সরকারের বিরুদ্ধে মানুষকে খ্যাপানো কীভাবে হয়? এই গণতন্ত্রে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা লোক খ্যাপানো? পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর বিষয়ে প্রশ্ন তোলা অপরাধ? আমাদের এখন নিজেদের কথা বলার বা সরকারের নীতির সমালোচনার কোনও অধিকার নেই? তিনি যে লোক খ্যাপিয়েছেন, সেই প্রমাণও দাবি করেন ওই ভিডিও বার্তায়। গুরুতর প্রশ্ন তুলে এসএফআই নেতা বলেন, গত তিন মাস আমি বিশ্ববিদ্যালয়েই যায়নি। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল। ২০ জুলাইয়ের দেড় মাস আগেই আমি এলাহাবাদে নিজের ঘরে চলে আসি, তখন কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সরকারের বিরুদ্ধে উসকানি দিলাম? এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে অক্ষত বলেন এটা শুধু আমার জন্য না দেশের গণতন্ত্রের জন্যও জরুরি।
এই ঘটনা সামনে আসার পরেই উত্তর প্রদেশের সংগঠনের পক্ষ থেকে যোগী সরকার এবং পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট আন্দোলনরত সমস্ত পড়ুয়ার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ার পরেও কীভাবেই উত্তর প্রদেশের বিজেপি সরকার এই কাজ করতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এসএফআই কেন্দ্রীয় কমিটির বিবৃতিতে সোমবার একই প্রশ্ন তুলে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অক্ষতের বিরুদ্ধে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে— যেখানে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল যে, যন্তর মন্তর আন্দোলনের সাথে যুক্ত কোনো আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তা সত্ত্বেও উত্তর প্রদেশ সরকার ও পুলিশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে। বিবৃতিতে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, ২০ জুলাই ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ বেপরোয়া মারধর করলে অক্ষত ত্রিপাঠীও গুরুতর জখম হয়েছিল। এখন তার বিরুদ্ধেই উত্তর প্রদেশ পুলিশের একটি রিপোর্টের ভিত্তিতে গ্রেটার নোইডার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ১৩০ বিএনএস এর অধীনে একটি নোটিস জারি করেছেন এবং শান্তি ভঙ্গের সাথে সম্পর্কিত ধারায় ৫ লক্ষ টাকার একটি বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এসএফআই বলেছে, যন্তর মন্তরের আন্দোলন চলাকালীন বিজেপি, সঙ্ঘ পরিবার এবং পুলিশের সংরক্ষণপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের মতো গুন্ডাদের পাঠানো হয়েছিল শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালাতে এবং জনসাধারণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে অক্ষতের মতো পড়ুয়া এবং এসএফআই সংগঠকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
SFI
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উড়িয়ে এসএফআই নেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ উত্তর প্রদেশে
×
Comments :0