CPIM Book Stall

জনচাপে বানারহাটে ফের বসলো ঐতিহ্যবাহী প্রগতিশীল বুকস্টল

জেলা

শারদোৎসবে রাজ্যজুড়ে বামপন্থীদের বইয়ের স্টল ভাঙতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আরএসএস-বিজেপি’র গুন্ডারা এবং পুলিশ বাহিনী। রাজ্যের বিজেপি সরকারের অগ্রাধিকারই যেন বামপন্থীদের বুকস্টল আটকানো।
রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে একের পর এক বুকস্টলে হামলা এবং তা প্রতিরোধ করে, ভাঙা স্টল নতুন করে সাজিয়ে বামপন্থীদের বই বিক্রির ঘটনা সোমবারও অব্যাহত। সাধারণ মানুষ,বইপ্রেমী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত বানারহাট সার্বজনীন দুর্গোৎসবের মেলা প্রাঙ্গণে বসলো ষাট বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রগতিশীল বুকস্টল। নির্দিষ্ট স্থানে বুকস্টল বসানো নিয়ে পুজো ও মেলা কমিটির অসহযোগিতার অভিযোগ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ফের আনুষ্ঠানিক ভাবে বুকস্টলের উদ্বোধন হল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় দশক ধরে বানারহাটের সার্বজনীন দুর্গোৎসবের মেলায় বুকস্টল বসে আসছে। প্রথা মেনে গত ১২ অক্টোবর নির্দিষ্ট জায়গায় ‘প্রগতিশীল বুকস্টল’ লেখা লেবেলও লাগানো হয়েছিল। কিন্তুওই রাতেই সেখানে নতুন কাঠামো তৈরি করে জায়গাটি দখল করে নেওয়া হয়। বুকস্টলের উদ্যোক্তাদের দাবি, অতীতে এই স্টলের জন্য পৃথক অনুমতির প্রয়োজন হতো না। তবে নতুন মেলা কমিটি গঠিত হওয়ার পর নিয়ম মেনে সভাপতি ও সম্পাদকের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছিল। প্রথমে সহযোগিতার আশ্বাস মিললেও পরে অসহযোগিতা শুরু হয় বলে অভিযোগ।
উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই প্রগতিশীল বুকস্টল বসানোর ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, আরএসএস-এর মতো দক্ষিণপন্থী সংগঠনের স্টলকে সুবিধা করে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। মার্কসবাদী -লেনিনবাদী সাহিত্য প্রগতিশীল পত্রপত্রিকা এবং ভারতীয় ও বিশ্বসাহিত্যের ধ্রুপদী বই পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই দীর্ঘদিনের উদ্যোগকে বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছিল।
স্থানীয় মানুষ, ব্যবসায়ী ও বইপ্রেমীরা বুকস্টল নিয়ে বাধার খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রতিবাদে সরব হন। তাঁদের প্রতিবাদ ও দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট জায়গায় বুকস্টল বসানোর অনুমতি মেলে। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, এই ঘটনা প্রমাণ করল, মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের কাছে বাধা টিকতে পারে না।
রবিবার নাথুয়া হাট আশ্রম টাইপ গভঃ টাইফ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রলয় দে সরকার বুক স্টলের উদ্বোধন করেন। উপস্থিত ছিলেন দীপক কুন্ডু, শ্রমিক নেত্রী তৃষ্ণা বরুয়া, সঞ্জয় দাস, প্রদীপ দাস-সহ প্রগতিশীল আন্দোলনের নেতৃত্ব ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ বুকস্টলের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন।
বুকস্টলের অন্যতম উদ্যোক্তা মানিক দত্ত বলেন,“বাধা কিংবা হুমকি দিয়ে প্রগতিশীল চিন্তাভাবনা ও বইয়ের প্রচার বন্ধ করা যায় না।মানুষের ভালোবাসা ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদেই নির্দিষ্ট জায়গায় বুকস্টল বসানো সম্ভব হয়েছে।পাঠকদের হাতে প্রগতিশীল সাহিত্য পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ আগামী দিনেও চলবে।”

Comments :0

Login to leave a comment