অভিযোগ জমা পড়ার ৭ মাস পর তদন্ত শুরু করেছিল শেয়ার বাজার নিয়ামক প্রতিষ্ঠান ‘সেবি’। রাজেশ এক্সপোর্টস’র বেনিয়ম চলতে দেওয়া হয়েছে।
রাজেশ এক্সপোর্ট সংস্থার আয়ের তথ্যে মোট ১৫.৫ লক্ষ কোটি টাকার বিপুল গরমিলের অভিযোগ প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে জানিয়েছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড বা ‘সেবি’।
অন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এড়িয়ে গেলেও রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা এলআইসি’র বিনিয়োগ ছিল সংস্থার মোট শেয়ারের ১০ শতাংশের বেশি। কেলেঙ্কারিতে কেন্দ্রের সরকারের আসীন বিজেপি’র যোগসাজশ ঘিরে প্রশ্ন তাই জোরালো।
এর আগে আদানির শেয়ারেও এলআইসি’র বিপুল বিনিয়োগ বেরিয়ে এসেছিল হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট ঘিরে তোলপাড়ে।
বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে সেবি-র সূত্র জানিয়েছে যে গত বছরের মার্চে রাজেশ এক্সপোর্টস-র তথ্য নিয়ে গরমিলের অভিযোগ জমা পড়েছিল। কিন্তু ৭ মাস বাদে তদন্ত শুরু করে সেবি। যে সময়ে এই কাণ্ড সে সময় বিতর্কিত মাধবী পুরী বুচ ‘সেবি’ প্রধান পদে আসীন ছিলেন।
শেয়ার বাজারে ভুল তথ্য দিয়ে শেয়ারের দাম বাড়ালে বিনিয়োগকারীদের বড় লোকসানের আশঙ্কা থাকে। কারণ ফাঁপানো শেয়ারের দাম যে কোনও সময় হুড়মুড়িয়ে নেমে যেতে পারে। ফলে প্রয়োজনীয় নজরদারি করাই কাজ সেবি-র।
রাজেশ এক্সপোর্টস সংস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বা মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ করত না সন্দেহ থাকায়। কারণ সংস্থা বিপুল আয় দেখালেও লাভের অঙ্ক কম দেখানো হতো।
এদিন কংগ্রেসের নেতা পবন খেরা এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, ২০১৬-তে এলআইসি’র বিনিয়োগ এই সংস্থায় ছিল ১.৯৯ শতাংশ। ২০২৬’র মার্চে তা বেড়ে ১০.৮ শতাংশ হলো কেন? অন্য বিনিয়োগকারীদের সন্দেহ থাকলেও এলআইসি নিশ্চিন্তে এই সংস্থার শেয়ারে লগ্নি বাড়িয়েছিল কেন?
এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন অংশ বলেছে যে এলআইসি’র অর্থ আসলে সাধারণ জনতার বিমা বাবদ অর্থের টাকা। এলআইসি-র আর্থিক লোকসান মানে আসলে বহু মানুষের বিপর্যয়।
কংগ্রেসের অভিযোগ, রাজেশ এক্সপোর্টস সংস্থার কারবার সোনা এবং রত্নের ব্যবসার। তা’হলে ২০২২’র মার্চে এই সংস্থাকে কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প মন্ত্রক ব্যাটারি বানানোর প্রকল্পে ১৮ হাজার কোটি টাকার বরাত দিয়েছিল কেন?
Rajesh Exports SEBI
রাজেশ এক্সপোর্টস কেলেঙ্কারি: তদন্তে নামতে ৭ মাস দেরি সেবি-র
×
Comments :0