বন্যায় ভিটেমাটি হারানোর এক বছর পরেও মেলেনি ঘর তৈরির জন্য প্রতিশ্রুত অনুদানের বাকি ৬০ হাজার টাকা। প্রথম কিস্তিতে পাওয়া ৬০ হাজার টাকায় বাড়ি তৈরি করতে না পারায় এবার সেই টাকাও ফেরত দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ময়নাগুড়ির বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে। বন্যায় ভিটের জমিই ধসে গিয়ে গভীর গর্ত তৈরি হওয়ায় সেখানে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করতে পারেননি বহু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। অথচ বকেয়া অনুদানের জন্য বিডিও অফিস থেকে জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের দরজায় দরজায় ঘুরেও মিলছে না সুরাহা। উৎসবের মুখে মাথার উপর স্থায়ী ছাদের অপেক্ষায় দিন কাটছে আমগুড়ি - বেতগারা-সহ বন্যাকবলিত এলাকার দুর্গত পরিবারগুলির।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের জন্য তৎকালীন রাজ্য সরকারের থেকে পরিবার পিছু ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রথম কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা পেলেও বাকি টাকা এখনও হাতে পাননি বহু পরিবার। কেন বকেয়া টাকা দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে দুর্গতদের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, ঘর তৈরির জন্য বরাদ্দ অর্থের দ্বিতীয় কিস্তি আটকে থাকায় পুনর্বাসনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সম্প্রতি বকেয়া অনুদানের দাবিতে ময়নাগুড়ির বিজেপি বিধায়কয়ের দ্বারস্থ হন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পরিবর্তে বিধায়ক জানিয়ে দেন, সম্পূর্ণ তৈরি বাড়ি দেখাতে না পারলে আগে পাওয়া ৬০ হাজার টাকাও ফেরত দিতে হবে। তা না হলে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি দুর্গতদের।
আমগুড়ি-বেতগারা এলাকার বাসিন্দা অনিমা রায় বলেন, “আমরা বিধায়কের বাড়িতে গিয়েছিলাম বকেয়া টাকা পাওয়ার কথা বলতে। তিনি জানান, সম্পূর্ণ তৈরি বাড়ি দেখাতে না পারলে আগে পাওয়া ৬০ হাজার টাকাও ফেরত দিতে হবে। না হলে আমাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হবে।” তাঁর বক্তব্য, “বন্যার তোড়ে আমাদের ভিটেমাটি ধসে গিয়ে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এখনও সেই জমি ভরাট করা যায়নি। ভিটেই তৈরি করা গেল না, সেখানে বাড়ি করব কীভাবে?”
বিধায়কের কাছে গিয়ে সুরাহা না মেলায় ক্ষতিগ্রস্তরা যোগাযোগ করেন স্থানীয় বিডিও অফিসে। সেখান থেকেও এখনই বকেয়া টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা মেলেনি বলে অভিযোগ। দুর্গতদের জানানো হয়েছে, আগামী ডিসেম্বর মাসে প্রশাসনের একটি দল এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করবে। সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর বকেয়া অনুদানের বিষয়ে বিবেচনা করা হবে।
দুর্গতদের প্রশ্ন, বন্যায় ঘরবাড়ি ও জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দায় তাঁদের নয়। ভিটে পুনর্গঠনের কাজই যেখানে অসম্পূর্ণ, সেখানে সম্পূর্ণ বাড়ি তৈরির শর্ত চাপিয়ে দিয়ে অনুদানের টাকা ফেরত চাওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত? একদিকে বকেয়া অর্থের অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে প্রশাসনিক সমীক্ষার জন্য আরও কয়েক মাস অপেক্ষা—এই পরিস্থিতিতে পুনর্বাসনের কাজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবারগুলি।
বন্যার ক্ষত মুছে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য দ্রুত বকেয়া অনুদান মেটানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমি ও বসতভিটার বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দুর্গতরা।
Flood Victims
অনুদান ফেরত চেয়ে বিজেপি বিধায়কের হুঁশিয়ারি, বকেয়ার দাবিতে প্রশাসনের দরজায় বন্যায় দুর্গতরা
×
Comments :0