বন্ধ যন্তর মন্তর
--------------------
যন্তর মন্তর আর প্রতিবাদের নির্ধারিত স্থান থাকছে না। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেছে সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো। বিবৃতিতে একে চরম অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী পদক্ষেপ বলে আক্রমণ করা হয়েছে। ভিন্নমতের প্রতি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বাড়তে অসহিষ্ণুতা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি তাদের অবজ্ঞাই এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।
এতদিন ধরে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের অনুমতি না দেওয়া দিল্লি পুলিশ এক নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করেছে। যা আগে পুলিশের স্বেচ্ছাচারী বিধিনিষেধের মাধ্যমে করা হত, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাকেই আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হলো। জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে আমজনতার ক্ষোভকে চেপে রাখার জন্য বিজেপি সরকারের এটি আরও এক অপচেষ্টা।
প্রতিবাদের বিকল্প স্থান হিসেবে যেসব জায়গার কথা বলা হচ্ছে— রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ড— কখনোই যন্তর মন্তরের বিকল্প হতে পারে না। রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে প্রতিবাদকে দূরে ঠেলে দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য, যাতে দৃশ্যমানতা, প্রবেশযোগ্যতা এবং নৈকট্য থেকে প্রতিবাদকে বঞ্চিত করা যায়— যে জন্য যন্তর মন্তর এতদিন গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছিল। এটি প্রকৃতপক্ষে জনগণের ভিন্নমতকে দৃশ্যপটের বাইরে ঠেলে দিয়ে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার চেষ্টা। পলিট ব্যুরো স্পষ্ট জানিয়েছে, যন্তর মন্তরই সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বজায় থাকবে এবং এটি বন্ধের যে কোনও পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জোরদার প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
মঙ্গলবার ‘এক্স’-র এক পোস্টে সিপিআই(এম)’র সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি বলেন, যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদ করার নির্ধারিত জায়গা হিসাবে বাতিল করে মোদী-শাহ-ভাগবত ত্রয়ী যদি মনে করে থাকেন তাঁরা বিরুদ্ধতাকে একজোট হওয়া থেকে রুখে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে ধামাচাপা দিতে পারবেন, তবে তাঁরা সম্পূর্ণ ভুল ভাবছেন। এই ধরনের সিদ্ধান্তই বুঝিয়ে দেয়, বিজেপি সরকার ভিন্নমত বা সমালোচনা সহ্য করতে পারে না এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার যে সাংবিধানিক অধিকার মানুষের রয়েছে, তার প্রতি তাদের ন্যূনতম সম্মানও নেই।
বেবি বলেন, ‘‘বিজেপি’র এই গণতন্ত্র বিরোধী ও একরোখা কাজকর্ম জনগণের মনে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধেই তা ফেটে পড়ছে। সাধারণ মানুষের এই প্রতিবাদকে আড়াল করে দিয়ে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বহীন করে তোলাই সরকারের আসল উদ্দেশ্য। সিপিআই(এম) সাফ জানাচ্ছে, যন্তর মন্তর সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের জায়গা হিসেবেই থাকবে। এই জায়গা বন্ধ করার যে কোনও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দাঁড়াবো।’’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকার তীব্র নিন্দা করেছে এসএফআই-ডিওয়াইএফআই। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থল হিসাবে পুনরুদ্ধার করতে ছাত্র-যুব ও সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
Comments :0