CPIM

‘সাম্প্রদায়িক, জাতিবিদ্বেষী, বর্ণবিদ্বেষীরা ছাড়া সবাই স্বাগত’, ব্যানার আলিমুদ্দিনে

রাজ্য কলকাতা

‘সাম্প্রদায়িক, জাতিবিদ্বেষী, বর্ণবিদ্বেষীরা ছাড়া সবাই স্বাগত’, তলায় লেখা শুভ শারদীয়া। এমনই ব্যানার লাগানো হলো সিপিআই(এম) রাজ্য সদর দপ্তর মুজফ্‌ফর আহমেদ ভবনের মূল গেটে। 
মঙ্গলবার সকালে এনডিএ শরিক রিপাবলিকান পার্টির পক্ষ থেকে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সামনে চন্ডীপাঠের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ৯ টা থেকে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠান থেকে লাগাতার সাম্প্রদায়িক উষ্কানি দিয়ে চলা হচ্ছে। আয়োজকদের দাবি গত ৫০ বছরে এই এলাকায় হিন্দুদের কোন উৎসব আয়োজন করতে দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য গত কয়েক বছর এজেসি বোস রোডে সংখ্যালঘুদের পক্ষ থেকে শারদীয়া উৎসব আয়োজন করা হয়েছিল। ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে এলাকার মানুষ তাতে অংশ নিয়েছিলেন। ২০২১ সালের পর অর্থীক কারণে পুজো বন্ধ হয়ে যায়। 
রাস্তার উল্টো দিকে যখন লাগাতার সাম্প্রদায়িক উষ্কানি দেওয়া হচ্ছে তখন রাজ্য দপ্তরের গেটে এই ব্যানার তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করেছেন অনেকে। 
উল্লেখ্য এবারের শারদীয়া উৎসবে বামপন্থীদের বুক স্টল নিয়ে একাধিক উষ্কানি শোনা যাচ্ছে আরএসএসের বিভিন্ন সংগঠনের মুখে। বুক স্টল করতে না দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে। পাল্টা বুক স্টল করা নিয়ে সুর চড়িয়েছে সিপিআই(এম) নেতৃত্ব। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে শারদীয়ায় বুক স্টল হবেই। ইতিমধ্যে সেই প্রস্তুতি রাজ্য জুড়ে শুরুও হয়ে গিয়েছে।
সম্প্রতি এন্টালি বিধানসভা এলাকার কামারডাঙা সাধারণ দুর্গোৎসব সমিতির শারদীয়ার ব্যানারকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় এই বিতর্ক। চলতি বছর ১০৭তম বর্ষে পদার্পণ করেছে এই পুজো কমিটি। এবারের উৎসবে তাদের মূল থিম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ‘হিন্দু সনাতন রাষ্ট্র’ ভাবনাটি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ওই পুজো কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাদের মণ্ডপ বা আশেপাশের এলাকায় কোনও অবস্থাতেই বাম শিবিরের লোকজনকে বইয়ের স্টল বসাতে দেওয়া হবে না। উদ্যোক্তাদের যুক্তি, অতীতে বিভিন্ন সময়ে বামপন্থীরা নাকি অবিরত হিন্দু ধর্মের ওপর আঘাত হেনেছে এবং বরাবরই হিন্দু-বিরোধী মনোভাব পোষণ করেছে। সেই ক্ষোভ থেকেই এবার তাঁদের স্লোগান বা মূল ভাবনা হয়ে উঠেছে, ‘বাম বধ’। এই বাম বধের পাল্টাও ব্যানার পড়েছে শহরে। সেখানে হিটলারের ছবি দেওয়া ব্যানারে লেখা, ‘বাম বধ ও বলেছিল। অ্যান্ড দ্য রেস্ট ইজ হিস্ট্রি’। কে বা কারা এই পাল্টা ব্যানার লাগিয়েছে তা জানা যায়নি। তবে এই গোটা বিষয়টাকে কাউন্টার হিসাবে দেখছেন অনেকেই। আর এই কাউন্টার লড়াই এবার শারদীয়ায় রাজ্যবাসী দেখবেন বলেই মনে করছেন অনেকেই।

Comments :0

Login to leave a comment