ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে ব্যাপক ভোটার বাদ দেওয়ার অভিযোগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও অন্য ১২ জন বিরোধী নেতার দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ অন্যদের কাছে জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট।
বুধবার এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক আবেদন, দিল্লিতে বিক্ষোভ, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিল এবং সাংবাদিক ও আইনজীবীদের ওপর হামলার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার শুনানি করে শীর্ষ আদালত জানায়, সকলের বক্তব্যই শোনা হবে।
সোমবার রাহুল গান্ধী সহ বিরোধী নেতাদের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিলের প্রসঙ্গ তুললে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেন, ‘কেউ আমাদের (বিচার বিভাগকে) ভয় দেখাতে পারবে না।’ কোন কোন আইনজীবী দাবি করেন, ওই মিছিল সুপ্রিম কোর্টকে চাপে ফেলার চেষ্টা।
রাহুল গান্ধী ও অন্যদের আবেদনে নোটিশ জারি করার সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ জানায়, তারা একজন আবেদনকারীর আচরণ লক্ষ্য করেছে। যদিও বেঞ্চ কারও নাম উল্লেখ করেনি।
বিজেপি নেতা ও সিনিয়র আইনজীবী গৌরব ভাটিয়া কিছু নেতার আচরণ ও বক্তব্যের প্রসঙ্গ, বিশেষ করে রাহুল গান্ধীর কথা উল্লেখ করলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা হাতির দাঁতের মিনারে বসে নেই। বাইরে তারা কী বিবৃতি দিচ্ছেন এবং আদালতে কী বলছেন, আমরা সব জানি। আমরা সব কিছু জানি।’
সোমবার ভোট চুরি অভিযোগে বিক্ষোভ সুপ্রিম কোর্টের দরজায় পৌঁছে যায়। বিরোধী নেতারা, সমাজকর্মী ও নাগরিক সমাজের সদস্যদের নিয়ে মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি করেন এবং এসআইআর ও ভোটে অনিয়মের অভিযোগে একটি যৌথ আবেদন দায়ের করেন।
অন্যদিকে, শীর্ষ আদালত ১২ অক্টোবরের ওই মিছিলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি আবেদনের ভিত্তিতে রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদবকেও নোটিশ দিয়েছে।
আদালত মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দায়ের করা আবেদনেও নির্বাচন কমিশন ও অন্যদের কাছে জবাব চেয়েছে। ওয়াইসি দাবি করেছেন, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় একমত ছিলেন না সেই পরিপ্রেক্ষিতে এসআইআর বাতিল করা হোক।
শীর্ষ আদালত কেন্দ্র এবং দিল্লি পুলিশের কাছেও একটি পৃথক আবেদনে জবাব চেয়েছে, যেখানে রাজধানীতে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল হিসেবে যন্তর মন্তরের তকমা বাতিলকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
গত ১১ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার একটি আদেশ জারি করে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিক্ষোভের স্থান হিসেবে ঘোষণা করেন, যার পর যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এছাড়াও বেঞ্চ একজন মহিলা সাংবাদিকের মামলাটিও শোনে, যেখানে এক সিনিয়র পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগের বিচারাধীন থাকার কথা জানানো হয়। বেঞ্চ পুলিশকে ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এই আবেদন গ্রহণের সময় ভাটিয়া বেঞ্চকে অনুরোধ করেন ১২ অক্টোবরের মিছিল চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে রাহুল গান্ধীর ধাক্কায় এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সাংবাদিক পড়ে যাওয়ার অভিযোগটিও বিবেচনা করতে। বেঞ্চ তাকে এ বিষয়ে আবেদন দায়ের করতে বলে এবং জানায় বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বেঞ্চ জানায়, ‘এই আদালতের সামনে প্রতিটি কণ্ঠই মূল্যবান এবং সংখ্যা নির্বিশেষে সকলের কথা শোনা হবে।’
রাহুল গান্ধী ও অন্যদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বেঞ্চ নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনারকে নোটিশ দিয়েছে।
শুনানির সময় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহনের একটি আদালত অবমাননার মামলায় নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন এবং বলেন, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার অর্থ এই নয় যে পদক্ষেপগুলিকে সমর্থন করা যাবে না, এটি প্রক্রিয়ার একটি অংশ। বেঞ্চ মেহতাকে জানায়, কর্তৃপক্ষ আদালতের সামনে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে বলে যে মিডিয়া রিপোর্ট এসেছে, তারা তা আমলে নিচ্ছে না।
আদালত অবমাননার মামলাটি ছিল ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা ১০ অক্টোবরের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে দিল্লিতে মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার জন্য শীর্ষ আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ সংক্রান্ত।
এসআইআর-এ কথিত অনিয়মের অভিযোগে মুখ্যনির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে একাধিক বিক্ষোভের সাক্ষী হয়েছে রাজধানী।
Supreme Court Delhi protest
এসআইআর বিতর্কে মুখ খুললো সুপ্রিম কোর্ট, জ্ঞানেশ কুমার সহ কমিশনকে নোটিস, রাহুল-খাড়গে-অখিলেশদেরও নোটিশ
×
Comments :0