Dhupguri

বর্ষার শুরুতে বাড়ছে সাপের উপদ্রব, ধূপগুড়িতে ২৪ ঘণ্টায় অসুস্থ ১৫

জেলা

বর্ষার প্রারম্ভেই ধূপগুড়ি মহকুমা জুড়ে সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে সাপের কামড়ে প্রায় ১৫ জন অসুস্থ হয়ে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হয়েছেন। ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১৫ জন সাপের কামড় খেয়ে হাসপাতালে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর বেশ কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বর্তমানে মহকুমা হাসপাতালে ৬ থেকে ৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্তদের বেশিরভাগকেই নির্বিষ দারাশ বা ঢোড়া সাপ কামড় দিয়েছে। তবে এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিভেনাম মজুত রয়েছে।
সাপে কামড়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর ভাই বিপ্লব রায় জানান, ‘‘দাদা সকালে জমিতে কাজ করার সময় গোখরো সাপের কামড় খায়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। বর্তমানে দাদা সুস্থ আছে।’’ অপর এক বাসিন্দা সঞ্জয় মন্ডল বলেন,‘‘আমার শ্যালক বাড়িতে কাজ করার সময় তাঁকে সাপে কামড় দেয়। ঠিক কী সাপ কামড়েছিল, তা দেখতে পাওয়া যায়নি। তবে সে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।’’
পরিবেশপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে নীচু এলাকা এবং সাপের গর্তগুলিতে জল জমে যাওয়ার কারণে সাপ আশ্রয় ও নিরাপদ জায়গার খোঁজে লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। প্রাকৃতিক কারণেই এই সময়ে সাপের উপদ্রব হঠাৎ বৃদ্ধি পায়।
পশুপ্রেমী সংগঠন অ্যানিম্যাল লার্ভাসের সম্পাদক অনিকেত চক্রবর্তী জানান, ‘‘বর্ষার কারণে নদী, খাল, বিল ও পুকুর জলে ভরে গিয়েছে। যার ফলে সাপ শুকনো জায়গায় এসে আশ্রয় নিচ্ছে। এর ফলেই সাপে কামড়ানোর ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।’’
উল্লেখ্য, গত জুন মাসেও সাপের ছোবলে ধূপগুড়ি ব্লকেই দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল, যার মধ্যে একজন শিশু ও একজন বৃদ্ধা ছিলেন। সেই সমস্ত ঘটনার পর প্রশাসনের তরফ থেকে সচেতনতামূলক প্রচারে ওঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে যাওয়ার জোরালো আর্জি জানানো হয়েছিল। প্রশাসন ও চিকিৎসকমহল আবারও সাধারণ মানুষকে ওঝা- বৈদ্যের অন্ধবিশ্বাস থেকে দূরে থাকার এবং সাপে কাটলে অবিলম্বে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

Comments :0

Login to leave a comment