Student's Mysterious Death Case

ছাত্রীর রহস্য মৃত্যু অভিযুক্তর পুলিশি হেপাজত

জেলা

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন নাবালিকাকে ধর্ষণে প্রধান অভিযুক্তকে উত্তরপ্রদেশের নয়ডা থেকে গ্রেপ্তার করে ট্রানজিট রিমান্ডে বুধবার নিয়ে এলো শীতলখুচি থানার পুলিশ। ধৃতের নাম এসামুদ্দিন মিয়া(৩৬)। গত ৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।
নাবালিকা ছাত্রীর রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত শুভঙ্কর বর্মন গ্রেপ্তার করে আদালতে তুললো মাথাভাঙা থানার পুলিশ। বিচারক অভিযুক্তকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। অভিযুক্ত চিলকিরহাট এলাকার বাসিন্দা শুভঙ্কর ওরফে শুভ বর্মন। চিলকিরহাট এলাকা থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে মাথাভাঙ্গা এসিজেএম আদালতে পেশ করা হলে আদালত তাকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। ঘটনার তদন্তে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।.
গত ১০ আগস্ট এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় মাথাভাঙ্গা ও সংলগ্ন এলাকায়। মৃতার পরিবারের অভিযোগ ছিল, অসুস্থ হয়ে পড়ার আগে ওই নাবালিকা এক পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে বাইরে গিয়েছিল। সেই সময় তাকে জোর করে মাদজাতীয় পানীয় খাওয়ানো হয় এবং ওই পানীয়ের মধ্যে কোনও ওষুধজাতীয় পদার্থ মেশানো হয়ে থাকতে পারে বলে পরিবারের সন্দেহ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত ছাত্রী একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিল। পড়াশোনায় ভালো ওই ছাত্রী পরিবারের একমাত্র মেয়ে হওয়ায় বাবা-মা থেকে শুরু করে ঠাকুরদা-ঠাকুমার কাছেও অত্যন্ত আদরের ছিল। তার বাবা একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্যারাটিচার। পরিবারের দাবি, গত ৪ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই ছাত্রী। প্রথমে বমি ও বমি বমি ভাব শুরু হলে তাকে মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার পর সাময়িকভাবে সুস্থ হওয়ায় তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কোচবিহারের এমজিএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমেও তার চিকিৎসা চলে বলে পরিবারের দাবি। পরিবারের আরও অভিযোগ, অসুস্থ অবস্থায় নার্সিংহোমে মায়ের কাছে ওই নাবালিকা জানিয়েছিল, অসুস্থ হওয়ার আগের দিন মাথাভাঙ্গায় বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় তাকে জোর করে বিয়ারজাতীয় পানীয় খাওয়ানো হয়েছিল। ওই পানীয়ের মধ্যে কোনও ওষুধজাতীয় পদার্থ মেশানো হয়েছিল বলেও তার সন্দেহের কথা সে জানিয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। 
এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে ওই যুবককে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় নার্সিংহোমে চিকিৎসকের সঙ্গে ওই যুবকের কথাবার্তা নিয়েও পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ তৈরি হয়। পরে চিকিৎসার নথিপত্র নিয়ে নাবালিকাকে শিলিগুড়িতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। কিন্তু নার্সিংহোম থেকে বেরিয়ে কিছুটা যাওয়ার পরই রাস্তায় তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি। ঘটনার পর মৃতদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা মাথাভাঙ্গা থানায়  লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে বিয়ো যায় মাথাভাঙা থানার পুলিশ।

Comments :0

Login to leave a comment