জয়ন্ত সাহা: মাথাভাঙা
তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য থেকে প্রধান –উপ প্রধানেরা এখন দল বেঁধে বিজেপি তে যোগ দিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন! অথচ তাদের সময়ে আবাস যোজনার বড়সড় দুর্নীতি সামনে এসেছে। ব্লক এলাকায় কয়েক হাজার নাগরিকের জব কার্ড নম্বর ব্যবহার করে ঘর পেয়েছেন অন্য কেউ! অভিযোগ এরজন্য তৃণমূলের প্রধান আর পঞ্চায়েত সদস্যরা লক্ষ লক্ষ টাকা লুট করেছেন বলে অভিযোগ! অভিযোগ তো নতুন নয়। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কোচবিহার জেলার বিজেপি নেতারা এখন চুপ করে আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে!
সারা ভারতে কৃষকসভার জেলা সভাপতি বিপিন শীল বলেন, আমাদের আশঙ্কা জেলার ১২৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আবার যোজনার প্রকৃত প্রাপকেরা বঞ্চিত হয়েছে। টাকার বিনিময়ে ঘর পেয়েছে অনেকেই। দাবি আবাসের শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক পঞ্চায়েত দপ্তর। সরকার বদলের পর নয়া নিয়ম হয়েছে আবাস যোজনার ঘর পেতে জব কার্ড নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক। এবং নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে স্ব সমীক্ষা করতে হবে। তারপরেই আবাস যোজনার ঘর মিলবে।
এই স্ব সমীক্ষা করতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ মাথাভাঙা-১ ব্লকের একাধিক বাসিন্দার। সাইবার কাফেতে গিয়ে নিজের আবেদন নিজে আপলোড না হওয়ায় অনেকেই ছুটছেন বিডিও অফিসে। আর সেখানে গিয়ে জানতে পারছেন তাদের জবকার্ড ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তি আবাসের ঘর পেয়েছেন! ব্লক অফিসের আধিকারিকরা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, কারা কি করে ওই সমস্ত জবকার্ড ব্যবহার করেছে সেটা তো জানা নেই। এখন আমরা জবকার্ড নম্বর দিয়ে সার্চ করতেই কারা জব কার্ড ব্যবহার করে ঘর পেয়েছে সেই নাম পাচ্ছি। অভিযোগকারীদের সেটা কাগজে লিখে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিন বিডিও অফিসে আসা হাজারের বেশি বাসিন্দা এমন ঘটনায় হতাশ হয়ে পড়েছেন। এদের অধিকাংশই প্রতারিত হয়েছেন তৃণমূল সরকারের সময়ে। প্রশ্ন উঠেছে এরা কোথায় কার কাছে অভিযোগ জানাবেন?
পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাংকোবার বাসিন্দা জগদীশ বর্মণ তার ছেলে রঞ্জিত বর্মণের দাবি তার বাবার জবকার্ড ব্যবহার করে প্রতিবেশী ফয়জল রহমান ঘর পেয়েছেন। অন্যদিকে একই গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের দাবি তার জবকার্ড ব্যবহার করে ঘর পেয়েছেন শঙ্কর বর্মণ। বিডিও অফিস থেকে তাদের এই তথ্য দেওয়া হয়েছে। ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছে, এখনো স্ব-সমীক্ষায় নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে আবেদন করতে হবে উপভোক্তাকে। সেখানে জবকার্ড আবশ্যিক। এনিয়ে আমাদের কাছে নির্দেশ এলে পদক্ষেপ করা হবে। কিন্তু যাদের জব কার্ড নম্বর চুরি করে অন্যদের ঘর পাইয়ে দেওয়া হয়েছে তারা কি করবেন এই প্রশ্নের উত্তরে নীরব বিডিও।
নিয়ম অনুযায়ী ওই জবকার্ডে একবার যেহেতু ঘর পেয়েছে, দ্বিতীয়বার একারণেই আবেদন নিচ্ছে না পোর্টাল। শিকারপুর গ্রামপঞ্চায়েতের বড়দোলা এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধা সিন্ধুবালা বর্মণও একই সমস্যা নিয়ে এসেছিলেন বিডিও অফিসে। জানান, তার ভাঙা ঘর। তৃণমূলের সময়কালে তাকে জানানো হয়েছিল তার নামে ঘর আসেনি। এখন তিনি আবেদন করতে গিয়ে দেখেন তার জবকার্ড ব্যবহার করেছে অন্য এক ব্যক্তি ঘর পেয়েও গেছে। এই বেনিয়মে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি সহ পঞ্চায়েত স্তরের কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
Awaas Corruption
প্রকাশ্যে আবাসে দুর্নীতি, শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি কৃষকসভার
ফাইল ছবি
×
Comments :0