Cooch Behar zilla parishad

আরও জটিল কোচবিহার জেলা পরিষদের অচলাবস্থা, দখলের চেষ্টা বিজেপির

জেলা

রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই একের পর এক গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির দখল নিচ্ছে বিজেপি। এবারে কোচবিহারের জেলাপরিষদ দখলকে পাখির চোখ করেছে বিজেপি! 
গত পঞ্চায়েত ভোটে কোচবিহার জেলা পরিষদের ৩৪ টি আসনের মধ্যে ৩২ টি তৃণমূল ও মাত্র ২ টি আসন বিজেপির দখলে ছিল। সেই দুজনকে নিয়েই এবারে কোচবিহার জেলা পরিষদ দখল করতে চাইছে!
গত ২৫ আগষ্ট জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুমিতা বর্মন ও সহ সভাধিপতি আব্দুল জলিল আহমেদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করে তৃণমূলেরই ১৭ জন জেলা পরিষদ সদস্য (তাদের মধ্যে একাধিক কর্মাধ্যক্ষও রয়েছেন) জেলা শাসকের দপ্তরে ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে জমা দিয়েছে। বিজেপি প্রকাশ্যে বলছে এই অনাস্থা প্রস্তাবেত সাথে তাদের দলের কোন সম্পর্ক নেই। এদিকে প্রায় ১৩ দিন কেটে গেলেও সেই অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে প্রশাসন প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য করে নি।
তৃণমূলের যে ১৭ জন এই অনাস্থা এনেছেন তাদের বক্তব্য, গত ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে সভাধিপতি বা সহ- সভাধিপতি কেউই আমাদের সাথে যোগাযোগ করে নি। প্রায় ৪ মাস জেলা পরিষদ অচল হয়ে আছে। উন্নয়নের কোন কাজ হচ্ছে না। সে কারণেই অনাস্থা আনা হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে অনাস্থার স্বাক্ষর করা পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কুমার প্রশান্ত নারায়নের মন্তব্য, মানুষের হয়ে কাজ করতে চাই। সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত। অনাস্থার জন্য কোন বৈঠক ডাকা হয়েছে কিনা, এই প্রসঙ্গে সভাধিপতি সুমিতা বর্মন বলেন, আমি দায়িত্ব নেবার পর থেকে নিয়ম মেনে কাজ করেছি। তারপরেও আমার সঙ্গীরাই আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছে। এতে আর আমার কি বলার আছে। তবে অনাস্থা বৈঠকের কোন চিঠি পাই নি। চিঠি পেলে সিদ্ধান্ত নেবো। তবে অনাস্থা আনা ১৭ জন সদস্য নিজেরাই সভাধিপতি নির্বাচন করবেন নাকি বিজেপির দুজনকে সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতি হতে সমর্থন করবেন সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেন নি। সব মিলিয়ে এই মুহুর্তে কোচবিহার জেলা পরিষদে অচলাবস্থা আরও জটিল হয়েছে। এখন দেখার বিজেপি প্রশাসক বসিয়ে জেলা পরিষদ চালায় নাকি নিজেরাই তৃণমূলের ১৭ জনের সমর্থনে জেলা পরিষদের দখল নেয়।

Comments :0

Login to leave a comment