Before the Election, After the Election

ভোটের আগে ভোটের পরে

সম্পাদকীয় বিভাগ

আরএসএস’র গুড বুকে না থাকা প্রাক্তন তৃণমূলী বর্তমান বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মরিয়া হয়ে উঠেছেন নিজেকে আরএসএস’র একান্ত বিশ্বস্ত প্রমাণ করার জন্য। তা না হলে মুখ্যমন্ত্রিত্বের চেয়ার তাঁর জন্য ক্ষণস্থায়ী হয়ে যেতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার ব্যবহার করে তিনি মোদী-শাহ’র সুনজরে থেকেই নি‍‌শ্চিত থাকতে পারছেন না, আরএসএস’র নজর কাড়াও তার দরকার। শুভেন্দু এতদিনে বুঝে গেছেন আরএসএস’র খুঁটির জোর না থাকলে বি‍‌জেপি-তে স্থায়ী আসন পাতা বা শক্তিশালী নেতা হওয়া কঠিন। তাই ক্ষমতা পেয়ে ভোটের আগের যাবতীয় সংকল্পপত্র শিকেয় তুলে তিনি আরএসএস’র থেকেও বড় হিন্দুত্ববাদী হবার জন্য আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন। সাংবিধানিক গণতন্ত্রের আধারে সরকারি ক্ষমতা দখল করে তিনি গণতন্ত্রের কথা ভুলে গেছেন। গণতন্ত্রের পরিবর্তে এখন তিনি নিত্যদিন রাষ্ট্রবাদ জপ করছেন।
ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ক্ষমতায় এলে রান্নার গ্যাসের দাম সিলিন্ডার প্রতি সাড়ে চারশো টাকা করবেন। ক্ষমতায় এসে একবারের জন্যও গ্যাসের দাম নিয়ে কথা বলেননি। বলেছিলেন সাধারণ মানুষের নিত্য ব্যবহারের জিনিসপত্রের দাম কমাবেন। কমেনি বরং বেড়েছে। তাঁর প্রাক্তন দলের জমানায় চুরি, দুর্নীতি, অনিয়মের তদন্তের কথা বলা হয়েছিল। সব চোর-দুর্নীতিবাজদের জেলে পোরার প্রতিশ্রুতি ছিল। দু’চার জন চুনোপুঁটিকে গ্রেপ্তার করা হলেও সব বড় চোর, মেজো চোর, মেগা চোররা দিব্যি বহাল তবিয়তে। মুখ্যমন্ত্রীর পুরানো দলের সঙ্গী সাথিদের বেশিরভাগই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিজেপি। ফলে সাজা দেবার মতো চোর বেশি অবশিষ্ট নেই।
শুভেন্দুকে ঘিরে এই প্রাক্তন তৃণমূল বাহিনীই এখন বিজেপি’র আসল শক্তি। ফলে আদি বিজেপি’রা ব্রাত্য হয়ে প‍‌ড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই জমানা বদল হলেও চরিত্র বদল হয়নি। যাহা তৃণমূল তাহাই বি‍‌জেপি। এই অবস্থায় ভোটের আগের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গেলে বর্তমান বিজেপি’র অর্ধেকটাকেই জেলে পুরতে হবে। অতএব ভোটের আগের প্রতিশ্রুতি শিকেয় উঠে গেছে। শিক্ষায় সীমাহীন দুর্নীতির পরিণতি যথারীতি বয়ে চলেছ। বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠনের শোচনীয় হাল বদলায়নি। বন্ধ হওয়া স্কুল চালু হয়নি। বলা হয়েছিল ক্ষমতায় এসে সব শূন্য পদে নিয়োগ হবে। কোনও নিয়োগ হয়নি। বলা হয়েছিল পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানো হবে। কেউ ফেরেনি। কাজের অভাবে বরং যাওয়া বেড়েছে। মানুষের কাজ পাবার সুযোগ বৃদ্ধি, মজুরি বৃদ্ধির কোনও উদ্যোগ নেই। মুখ্যমন্ত্রী মেতে আছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবাদ প্রতিষ্ঠা করে গেরুয়া আখড়া বানানোয়। মুখ্যমন্ত্রীর অগ্রাধিকারে আছে গেরুয়া সম্মান রক্ষা, সাধুবাবাদের অভ্যর্থনা জানানো, নাঙ্গা সন্ন্যাসীদের এনে রাজপথে মিছিল করা, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে এক মাসের রাজ্য উৎসব উদ্‌যাপন করা। বাংলার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার পুরানো হাল ফেরানো, মানুষরে কাজের ব্যবস্থা করা এখন পেছনের সারিতে চলে গেছে। গদি বাঁচাতে আরএসএস হয়ে ওঠাই তাঁর পাখির চোখ।

Comments :0

Login to leave a comment