jail Bharo Programme

'জেল ভরো' কর্মসূচির প্রচার তুঙ্গে জলপাইগুড়ি জেলায়

জেলা

অধিকার, কাজ ও রুটিরুজির দাবিতে ১০ আগস্ট সোমবার দেশজুড়ে ঘোষিত ‘জেল ভরো ও আইন অমান্য’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে জলপাইগুড়ি জেলায় প্রচার তুঙ্গে। বানারহাট, মাল, রাজগঞ্জ, ময়নাগুড়ি থেকে ধূপগুড়ি—জেলার বিভিন্ন প্রান্তে টোটোয় মাইকে প্রচার, পাড়া বৈঠক, প্রচারসভা ও গণসংযোগের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছে। আয়োজকদের দাবি কৃষক, শ্রমিক, খেতমজুর-সহ শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক সাড়া মিলছে।
প্রচার কর্মসূচিতে একাধিক দাবি তুলে ধরা হচ্ছে। অবিলম্বে ট্রাইব্যুনালের কাজ সম্পূর্ণ করে সমস্ত বৈধ নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করা, শ্রমিক স্বার্থবিরোধী শ্রম কোড বাতিল করে আট ঘণ্টা কাজের অধিকার নিশ্চিত এবং কৃষকের ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ধূপগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটের জমি কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে পূর্ণ ব্যবহারের দাবিও উঠেছে।
কর্মসূচির প্রচারে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের কর্মদিবস বাড়িয়ে ২০০ দিন এবং দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরি নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়েছে। ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনও অসম বাণিজ্য চুক্তি না করা। সার, বীজ, কীটনাশক ও ডিজেল-সহ কৃষি উপকরণে ভর্তুকি বজায় রাখা এবং মহাজনী ও মাইক্রো- ফাইন্যান্স ঋণের ফাঁদে কৃষক ও সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধের দাবিও রয়েছে।আশা, আইসিডিএস, মিড-ডে মিল-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কর্মীদের ন্যূনতম ১৬ হাজার টাকা মাসিক মজুরি ও ভাতা দেওয়ার দাবিও সামনে আনা হয়েছে।
প্রচার সভাগুলিতে কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়া,কর্মসংস্থানের অভাব, পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভের কথা উঠে আসছে। কৃষকদের বক্তব্য,চাষের খরচ ক্রমাগত বাড়লেও উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম মিলছে না।অন্যদিকে স্থানীয় স্তরে পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ না থাকায় বহু মানুষকে কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে।
প্রচারসভা থেকে বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে।শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ কমিয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার সংকুচিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
জেলা জুড়ে প্রচারে শ্রমিক নেতৃত্ব পীযূষ মিশ্র, সিকান্দার মাঝি, রাম লাল মুর্মু, কৃষক নেতৃত্ব সলিল আচার্য, প্রাণ গোপাল ভাওয়াল, আশীষ সরকার, খেতমজুর নেতৃত্ব কৌশিক ভট্টাচার্য,হরিহর রায় বসুনিয়া-সহ অনেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
জলপাইগুড়িতে পাড়া বৈঠকে শ্রমিক নেতৃত্ব পীযূষ মিশ্র বলেন,“কৃষক, শ্রমিক ও খেতমজুরদের অধিকার রক্ষায় সাধারণ মানুষ বঞ্চনা ও জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নামছেন। শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা চরম বিপন্ন। জনস্বার্থ বিরোধী রাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে।”
ফসলের ন্যায্য মূল্য,কাজের নিশ্চয়তা, শ্রমিকের অধিকার এবং সরকারি প্রকল্পের সুরক্ষার দাবিতে ১০ অগস্টের ‘জেল ভরো ও আইন অমান্য’ কর্মসূচিকে সফল করতে জলপাইগুড়ি জেলায় প্রচার ও সংগঠনের কাজ আরও জোরদার করা হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment