সিপিআই(এম) কোচবিহার জেলা সম্পাদকমন্ডলীর প্রাক্তন সদস্য ও প্রাক্তন বামফ্রন্টের বিধায়ক হরিশচন্দ্র বর্মন প্রয়াত হয়েছেন রবিবার। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন সিপিআই(এম) জেলা কমিটির বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রোগে ভুগছিলেন। রবিবার তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ মত এক আত্মীয়কে নিয়ে নিজের শীতলখুচির বাড়ি থেকে কোচবিহারে গিয়েছিলেন শারীরিক পরিক্ষা করানোর জন্য। পার্টির জেলা অফিসে কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে টেস্ট করাতে বেসরকারি নার্সিংহোমে যাবার কথা ছিল। পার্টি অফিসেই তিনি হঠাৎ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। সেখান থেকে দলীয় নেতৃত্ব দ্রুত তাঁকে এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাঁর আগেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম প্রয়াত নেতার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
স্কুলে পড়ার সময়েই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। নিম্নবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান হরিশ চন্দ্র বর্মন হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকানে কাজ করতেন। আর্থিক প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করেই তিনি ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি যুব আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে শীতলখুচির লালঝান্ডার লড়াইয়ের তিনি ছিলেন উল্লেখযোগ্য মুখ। এরপরেই তিনি কৃষক আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৭২ সালে পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। জরুরী অবস্থায় সময়ে তিনি এক বছর আত্মগোপন করেও পার্টি গড়ার কাজ করেছেন। দলের কাজ করতে গিয়ে জেলেও যেতে হয়েছে তাঁকে।
রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর পঞ্চায়েত সমিতির পদে লড়াই করে জয়ী হয়েছিলেন। সেই সময়ে কিছুদিনের জন্য তিনি সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। ২০০৬ সালে তিনি শীতলখুচি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সিপিআই(এম) দলের প্রতীকে লড়াই করে জয়ী হয়েছেন।
এদিন প্রয়াত নেতাকে কোচবিহারের জেলা সিপিআই(এম) অফিসে রক্তপতাকা দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক অনন্ত রায়। শ্রদ্ধা জানান প্রবীন নেতা তারিনী রায় ও অন্যান্য জেলা নেতৃত্ব। কৃষকসভা,সিআইটিইউ,ছাত্র -যুব-মহিলা সংগঠনের নেতৃত্বও প্রয়াত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এদিন ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা ও রাজ্য সভাপতি অয়নাংশু সরকার প্রাক্তন এই নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। প্রয়াত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পার্টি নেতৃত্ব সহ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এরপর প্রয়াত নেতাকে নিয়ে তাঁর দীর্ঘ লড়াইয়ের সাথীরা পৌঁছোন গোসাইরহাট ও শীতলখুচি পার্টি অফিসে। সেখান থেকে প্রয়াত নেতাকে ৭২ টি রক্তপতাকায় শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক মিছিল করে বাড়িতে পৌঁছে দেন পার্টি কর্মী ও সমর্থকরা। মাথাভাঙা ও শীতলখুচিতে প্রয়াত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান পার্টি নেতা মকসেদুল ইসলাম, প্রসেনজিত সরকার কৃষকসভার জেলা সভাপতি বিপীন শীল ও অন্যান্য নেতৃত্ব।প্রয়াত নেতাকে এদিন মাথাভাঙায় শেষ শ্রদ্ধা,জানান জেলার কংগ্রেস নেতা বিশ্বজিৎ সরকার এবং শীতলখুচিতে ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা আতিয়ার রহমান প্রয়াত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় রবিবার জানান, প্রয়াত নেতার মরদেহ রবিবার তাঁর শীতলখুচির বাড়িতে শায়িত থাকবে এলাকার সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। সোমবার সকালে শীতলখুচিতে প্রয়াত নেতার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।
Harish Chandra Barman
কমরেড হরিশচন্দ্র বর্মনের জীবনাবসান, শেষকৃত্য কাল
×
Comments :0