ভোররাত থেকে বিরামহীন বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত স্বাভাবিক জনজীবন। জলমগ্ন হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। বাড়ি ভেঙে, জমিতে জল ঢুকে চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা। এবং সর্বোপরী দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন বোলপুরের কাশিমবাজারে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে সুব্রত পালের (১৯)। তাঁর বাড়ি পশ্চিম বর্ধমান জেলার হীরাপুর এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি ড্রাম উদ্ধার করতে গিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক খুঁটিতে জড়িতে যান এই যুবক। বন্ধুর এই পরিণতি দেখেই আতঙ্কে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মৃতের বন্ধু শুভজিৎ কর্মকার (২১)। এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা পাপ্পু সাউয়ের কথায়, ‘‘একটা ড্রামকে দুজন বন্ধু মিলে জল থেকে তুলছিল। সেই সময় দড়ি আটকে যায় ইলেক্ট্রিক তারে। আর তাতেই মৃত্যু হয় একজনের৷ আর একজন আতঙ্কে আত্মহত্যা করে নিয়েছে৷’’ বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত যুবকের দেহ ভেসে যায় জলের তোড়ে। উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা দল।
গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ঘনীভূত নিন্মচাপের জেরে ভোর রাত থেকে প্রবল বৃষ্টি। সর্বাধিক বৃষ্টি বোলপুর এলাকায়। শ্রীনিকেতন আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৬২.৮ মিলিমিটার। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি দাপট বাড়ায় রাত বাড়তেই। ইতিমধ্যেই ভারি বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। ১৫ থেকে ২০টি মাটির বাড়ি ভেঙে গিয়েছে। একাধিক বাড়ি জলে নিমজ্জিত। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে কোপাই নদীর জল। আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা, আগামী সাত দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন ভোর রাত থেকে ভারী বৃষ্টির ফলে বোলপুরের উদয়নপল্লী, খাসপাড়া, জামবুনি, পশ্চিম গুরুপল্লী, শ্রী পল্লী, কাঁদরপাড়া প্রভৃতি এলাকা সম্পূর্ণ জলমগ্ন। ফুঁসছে কোপাই, অজয়, ময়ূরাক্ষী নদী।প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তিলপাড়া ব্যারেজে থেকে ৯ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। কোপাই নদীতে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে জল৷ আরও বৃষ্টি হলে রাতের মধ্যেই কোপাই সেতু, সতীপীঠের অন্যতম কংকালীতলা মন্দির জলের তলায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অপরদিকে বীরভূম-ঝাড়খণ্ডে গভীর নিম্নচাপের জেরে দুবরাজপুর ব্লকের ধরমপুর গ্রাম ঢোকার মুখে শাল নদীর ভাসা ব্রিজের উপর দিয়ে বইছে জল। যার জন্য পারাপার পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। যাতায়াত সমস্যায় পড়েছেন গ্রামবাসীরা। একই ব্লকের বালিজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মেজে ও বেলসাড়া গ্রামের মাঝে থাকা শাল নদীর ভাসা ব্রিজেরউপর দিয়েও বইছে জল। রাস্তাঘাট ও মাঠ সবই ডুবে গেছে নদীর জলে। হিংলো জলাধার থেকে পাচটি গেট খুলে ১৮৫০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে বলে জানা গেছে সেচ দপ্তর সূত্রে।
Comments :0