পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২৮ বছর বয়সী পিএইচডি গবেষক জ্যোতির মৃত্যুর পর ক্যাম্পাসে ছাত্র বিক্ষোভ তীব্রতর হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অবহেলার অভিযোগ তুলেছে এবং এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে। ছাত্র নেতারা প্রশাসনের জবাবদিহিতার দাবিতে উপাচার্যের অফিসের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী ছাত্রনেতা হিমাঙ্গি শর্মা সংবাদ মাধ্যমে বলেন , এই সাম্প্রতিক মর্মান্তিক ঘটনাটি পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি জানান, জ্যোতি একজন পিএইচডি গবেষক ছিলেন এবং জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ করছিলেন। জ্যোতি তার পরিবারেরও দেখাশোনা করতেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাউথ ক্যাম্পাসে বৈদ্যুতিক কাজ চলার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাত্রীটির মৃত্যু হয়। বৃষ্টি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় এই ধরনের কাজে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা অনুসরণ করা উচিত ছিল, কিন্তু সেদিকে যথাযথ মনোযোগ দেওয়া হয়নি। পড়ুয়ারা ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সেক্টর ২৫-এর সাউথ ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ২৮ বছর বয়সী পিএইচডি গবেষকের মৃত্যু হয়। মৃতের নাম জ্যোতি। এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলে ছাত্রছাত্রীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। মৃতের পরিবার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। জান গেছে জ্যোতি হরিয়ানার রেওয়ারির বাসিন্দা ছিলেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যোতির এক ভাই ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে জলমগ্ন ছিল। জ্যোতি মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় তিনি পিছলে যান। নিজেকে বাঁচাতে কাছেই একটি খুঁটি ধরতেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর পড়ুয়াড়া মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করে। পড়ুয়ারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ প্রতিবাদ নেমেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন পড়ুয়ারা। কয়েকশো পড়ুয়া উপাচার্যের অফিস ঘেরাও করেন। এই ঘটনার জন্য যে বা যাঁরা দায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান।
গবেষকের মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পূর্ত বিভাগের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ও সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ারকে বরখাস্ত করেছে। বলা হয়েছ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উভয় আধিকারিক বরখাস্ত থাকবেন।
আন্দোলনকারী ছাত্র নেত্রী সারা জানান, গত বছরও এই কলেজে একজন ছাত্রী মারা গিয়েছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পদক্ষেপের নামে শুধু গার্ড বা লাইনম্যানকে বরখাস্ত করা হয়। তিনি বলেন, তারা লাইনম্যানকে দোষ দেবে এবং তাকে বরখাস্ত করবে। সে চুক্তিতে কাজ করে। এই ঘটনার জন্য কর্তৃপক্ষই দায়ী। ক্যাম্পাসে এ নিয়ে তৃতীয় মৃত্যু। কখনও অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে মৃত্যু হয়। কখনও খুন, কখনও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু। একজন গবেষক কাজে যাওয়ার পথে মারা যান। এটা একটা লজ্জাজনক ঘটনা।
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, জ্যোতির ভাইকে প্রতি মাসে প্রায় ২০,০০০ টাকা বেতনে একজন ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে চাকরি দেওয়া হবে। পরিবার ১৬ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তাও পাবে। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জ্যোতির কাকা জিতেন্দ্র কুমার বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ১১ লক্ষ টাকা পেয়েছি। এসডিএম এসেছিলেন, তিনি রাজ্যপালের ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বীমা থেকে ২ লক্ষ টাকা পেয়েছি। এফআইআর নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে যে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, উপাচার্য রেনু ভিজ প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রী এবং জ্যোতির পরিবারকে আশ্বাস দিয়েছেন যে ঘটনাটি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং তার প্রতিবেদ
Punjab University
গবেষক ছাত্রীর মৃত্যু, ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়
ইনসেটে নিহত গবেষক।
×
Comments :0