Dhupguri

প্রশাসনিক গাফিলতি, মুখ থুবড়ে ৪৩ ক্যামেরার প্রকল্প

জেলা

অপরাধ দমনে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ হয়েছিল। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার, রাস্তা ও গলিতে বসানো হয়েছিল ৪৩টি সিসিটিভি ক্যামেরা। থানায় তৈরি হয়েছিল কন্ট্রোল রুম। কিন্তু দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেই পরিকাঠামোর অধিকাংশই অচল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, এখন মাত্র ৩-৪টি ক্যামেরা সচল। দুর্গাপুজোর আগে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তাই উঠছে গুরুতর প্রশ্ন। একই সঙ্গে সামনে আসছে প্রশাসনিক সমন্বয় এবং জবাবদিহির অভাবের অভিযোগ।
২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট ধূপগুড়ি থানায় সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমের উদ্বোধন করেন তৎকালীন জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপার খান্ডবলে উমেশ গনপত। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩০টি ক্যামেরা বসানো হয়। পরে আরও ১৩টি ক্যামেরা যুক্ত হয়। স্টেশন মোড়, গণেশ মোড়, নেতাজীপাড়া, বামনী ব্রিজ-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। চুরি, ছিনতাই-সহ অপরাধের তদন্তে দ্রুত ফুটেজ পাওয়া এবং দুষ্কৃতীদের গতিবিধির উপর নজর রাখাই ছিল এই প্রকল্পের লক্ষ্য।
কিন্তু অভিযোগ, প্রকল্প চালুর পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা কার্যত গড়ে ওঠেনি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পাশাপাশি দীর্ঘদিন মেরামত না হওয়ায় একের পর এক ক্যামেরা বিকল হয়েছে। সচল থাকা কয়েকটি ক্যামেরাও বৃষ্টির সময় কাজ করে না বলে অভিযোগ। তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে শহরের নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থা কার্যত অচল বলে স্থানীয়দের দাবি।
এখানেই উঠছে দায়িত্ব ও জবাবদিহির প্রশ্ন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্যামেরা বসানোর দায়িত্ব পুলিশের হলেও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পৌরসভার। বর্তমানে নির্বাচিত পৌরবোর্ড না থাকায় প্রশাসকের মাধ্যমে পৌরসভা পরিচালিত হচ্ছে। ফলে কোটি টাকার প্রকল্প না হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই নিরাপত্তা পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে কার দায়িত্ব কতটা, কেন নিয়মিত মেরামতের ব্যবস্থা হয়নি—সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি বলে অভিযোগ। নির্দিষ্ট মেরামতকর্মীর অভাবের কথাও সামনে এসেছে।
ধূপগুড়িতে এই ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও পৌরসভার উদ্যোগে বসানো ৫২টি সিসিটিভি ক্যামেরা দু’বছরের মধ্যে বিকল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। প্রায় দেড় বছর শহর নজরদারিবিহীন থাকার পরে নতুন করে ৪৩টি ক্যামেরা বসানো হয়। সেই পরিকাঠামোরও একই পরিণতি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে প্রশাসন আদৌ শিক্ষা নিয়েছে কি না।
নিজস্ব ক্যামেরা অচল থাকায় অপরাধের তদন্তে এখন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত সিসিটিভি ফুটেজের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে পুলিশকে। সম্প্রতি বাইক চুরির একটি ঘটনায় ব্যবসায়ীদের ক্যামেরার ফুটেজের সাহায্যে তদন্ত এগোয় বলে জানা গিয়েছে। এতে পুলিশের তদন্ত এগোলেও সরকারি নজরদারি ব্যবস্থার দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
পুজোর আগে শহরে ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুরি, ছিনতাই-সহ অপরাধের আশঙ্কাও বাড়ে। এই অবস্থায় দ্রুত ৪৩টি ক্যামেরা মেরামত করে কন্ট্রোল রুম সচল করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে শুধু ক্যামেরা বসিয়েই দায়িত্ব শেষ না করে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের স্থায়ী ব্যবস্থা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে দ্রুত ক্যামেরা মেরামতের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নজরদারির ঘাটতি সামাল দিতে আপাতত টহলদারি ভ্যানের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। তবে প্রশ্ন থাকছে—উৎসবের মরশুমের মুখে নতুন করে কোটি টাকার পরিকাঠামো নয়, ইতিমধ্যে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাটুকু সচল রাখার দায়িত্বটুকুও কি প্রশাসন যথাযথভাবে পালন করতে পারছে?

Comments :0

Login to leave a comment