তীব্র গরমে পানীয় জলের জন্য হাহাকার ধূপগুড়ি শহরে। প্রায় ছ’মাস ধরে শহরের একাধিক ওয়ার্ডে জল সরবরাহ কার্যত বিপর্যস্ত। কোথাও টাইম কলে জল মাত্র ১০–১৫ মিনিট মিলছে, কোথাও আবার এক বেলাও সম্পূর্ণ জল আসছে না। এরই মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে ফেটে থাকা পাইপ সারাই না হওয়ায় আবর্জনা ও নোংরা জল মিশে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে। নাগরিকদের অভিযোগ, সমস্যার কথা বারবার জানানো হলেও পৌরসভা ও মহকুমা প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের পাশাপাশি প্রধান বাজার এলাকাতেও জলসংকট তীব্র। ব্যবসায়ী বাবলু রাহার বলেন, ‘‘প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিট জল সরবরাহের ফলে বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী ও কর্মীর প্রয়োজন মেটানো কার্যত অসম্ভব।’’
ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রাজকিশোর সিং বলেন,‘‘মাত্র ১০ মিনিটের জন্য জল আসছে। এই স্বল্প সময়ে হাজার হাজার ব্যবসায়ী কীভাবে জল সংগ্রহ করবেন।’’ জলসংকটের সঙ্গেদূষণের আশঙ্কাও যুক্ত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফেটে থাকা পাইপের পাশে আবর্জনা ও নোংরা জল জমে রয়েছে। অভিযোগ, সেই জলই পাইপের মাধ্যমে সরবরাহের জলে মিশে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জিতা বসাক বলেন, ‘‘তীব্র গরমে বাধ্য হয়ে ওই নোংরা জলই ব্যবহার করতে হচ্ছে। সঠিক পরিষেবা তো দূরের কথা, জীবন বাঁচানোই দায় হয়ে উঠেছে।’’ একাধিক ওয়ার্ডের বাসিন্দারা পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা পাননি বলে অভিযোগ।
প্রশাসনিক গাফিলতির ছবিও জল সরবরাহ ব্যবস্থার পরিকাঠামোতে সামনে এসেছে। সূত্রের খবর, ধূপগুড়ি শহরে জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের তিনটি পাম্প হাউস রয়েছে। তার মধ্যে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে পৌর ভবন সংলগ্ন এলাকাতে একটি পাম্পের মেশিন প্রায় চার মাস ধরে বিকল। ফলে রিজার্ভারে জল তোলার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
জল সংকটের মতো জরুরি নাগরিক পরিষেবাতেও মেরামতির কাজ টেন্ডারের বেড়া জালে আটকে থাকার অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার এক আধিকারিকের বক্তব্য, ‘‘এখন সমস্ত প্রক্রিয়া টেন্ডারের মাধ্যমে হবে। কবে টেন্ডার ডাকা হবে আর কবে কাজ শুরু হবে, তা আমাদের জানা নেই।’’
দিনের পর দিন জলকষ্ট চললেও প্রশাসনের দায় এড়ানোর মনোভাবেই শহরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সিপিআই(এম) ধূপগুড়ি এরিয়া কমিটির সদস্য মৃণাল সরকার বলেন, পানীয় জল কোনো দয়া নয়, এটি মানুষের মৌলিক নাগরিক অধিকার। অবিলম্বে বিকল পাম্প ও ফাটা পাইপগুলি দ্রুত মেরামত করে শহরজুড়ে নিয়মিত এবং নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
Water Crisis
ছ’মাস পানীয় জল সঙ্কট ধূপগুড়িতে, দূষণের আশঙ্কায় ক্ষোভ
ফাটা পাইপের নোংরা জল
×
Comments :0