দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের স্নাতক পঁচিশ বছর বয়সী আকৃতি চৌধুরীকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে আটক রাখার নির্দেশ বুধবার খারিজ করে দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
গত এপ্রিল দিল্লি সংলগ্ন নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভ সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। কেবল উত্তর প্রদেশের নয়ডা নয়, পাশেই হরিয়ানার গুরগাঁওয়ের মতো দিল্লি সংলগ্ন একাধিক রাজ্যের একের পর এক শিল্পাঞ্চল দেখেছিল শ্রমিক শ্রেণির সঙ্গত ক্ষোভ। এই আন্দোলনেই গ্রেপ্তার করা হয় সিআইটিইউ’র বহু সংগঠককে।
আকৃতিকে অভিযুক্ত করা হয় নয়ডায় শ্রমিকদের উসকানোর অপরাধে। বলা হয় গাড়িতে আগুন এবং ভাঙচুরে শ্রমিকদের উসকানি দেন এই সমাজকর্মী। প্রায় পাঁচ মাস ধরে কড়া আইন এনএসএ-তে জেলে আটক আকৃতি চৌধুরী। হেবিয়াস করপাস আবেদন দায়ের করে তাঁকে আদালতে হাজির করে বিচার প্রক্রিয়ায় অপরাধ বিবেচনার আর্জি জানানো হয়।
বুধবার শুনানিতে বিচারপতি অতুল শ্রীধরন ও বিচারপতি অচল সচদেবের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে, পুরো অভিযোগ সরকার মনগড়া কাহিনী। আদালতের নির্দেশ, অন্য কোনও মামলায় গ্রেপ্তারির প্রয়োজন না থাকলে আকৃতিকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
বিচারপতিদের বেঞ্চ তাঁর গ্রেপ্তারের ঘটনাপ্রবাহ এবং 'ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা'-র অধীনে নোটিশ জারির প্রক্রিয়ার মধ্যে পদ্ধতিগত ত্রুটি খুঁজে পাওয়ার পরই এই ঘটনাটি সামনে এসেছে। এদিন শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয় যে, ১২ এপ্রিল ২০২৬ আকৃতি চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তাঁকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৩০ ধারার অধীনে একটি নোটিশ জারি করা হয়েছিল। সরকারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ হলো, তিনি জনতাকে অগ্নিসংযোগ ও পাথর ছোঁড়ার ঘটনায় উসকানি দিয়েছিলো।
বিচারপতি শ্রীধরন জানতে চেয়েছিলেন যে, প্রথমে বিএনএসএস-এর ১২৬ ধারার অধীনে কোনও নোটিশ জারি করা হয়েছিল কি না। এর জবাবে সরকার পক্ষ জানায় যে, ১২৬ ধারার অধীনে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি, ১৩০ ধারার অধীনে নোটিশ জারি করা হয়েছিল।
আদালতে কেস ডায়েরি খতিয়ে দেখা যায় যে গ্রেপ্তারের আগে কোনও নোটিশই জারি করা হয়নি। আদালত জানতে চেয়েছিল অগ্নিসংযোগ এবং পাথর ছোঁড়ায় উসকানি দেওয়ার ভিডিও আছে কিনা। তা-ও দাখিল করতে পারেনি পুলিশ। আরও দেখা যায় যে চৌধুরীকে গ্রেপ্তারির পর হয়েছে বিক্ষোভ।
কেবল আকৃতি চৌধুরী নয় সিআইটিইউ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগেরও প্রমাণ দিতে পারেনি যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ। শ্রমিকরা নিজেদের কারখানা চত্বরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। পুলিশ বলেছিল, অবৈধ অনুপ্রবেশ করে বেআইনি কার্যকলাপ চালিয়েছেন শ্রমিকরা।
ভারতের শিল্প মানচিত্রে লক্ষ্যণীয় সাফল্য থাকলেও গুরগাঁও থেকে নয়ডার শিল্পাঞ্চলে দিনের পর দিন অস্থায়ী করে রাখা হয় শ্রমিকদের। নেই সামাজিক সুরক্ষা। তার ওপর ন্যূনতম মজুরি মেলে না। কাজের সময়ের বিধিই নেই। তাই ওভারটাইমও দেওয়া হয় না। শ্রম আইন বাতিল করে শ্রম কোড চালুর বিপদ সবচেয়ে বেশি এই শ্রমিকদের।
নয়ডা শ্রমিক বিক্ষোভে শ্রমিকদের নিয়ে প্রতিবেদন লেখায় সাংবাদিক সত্যেন ভার্মাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ভগৎ সিং, কার্ল মার্কসের বই থাকলেও তাকেও ‘অপরাধ‘ বলে দেখিয়েছে পুলিশ।
'Fake allegations', case against man arrested in Noida workers' protest dismissed
‘মনগড়া অভিযোগ’, নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভে আটক আকৃতির বিরুদ্ধে মামলা খারিজ
×
Comments :0