From Jadavpur to Jaipur: The fascist RSS-BJP is feeling the students' anger

যাদবপুর থেকে জয়পুর: ছাত্রদের ক্ষোভ টের পাচ্ছে ফ্যাসিবাদী আরএসএস-বিজেপি

স্পটলাইট

অরিজিৎ মন্ডল 

সরকারি স্কুল চলছে গোয়াল ঘর থেকে। রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের কাছে রামপুরা-কানওয়ারপুরা গ্রামে ওই স্কুল দেখতে গিয়েছিলেন সিজেপি'র নেতৃবৃন্দ। জয়পুর সংলগ্ন বাগরু বিধাসভার মধ্যে পরে এই গ্রামটি। তাঁদের অভিযোগ ছিল এই গ্রামের সরকারি স্কুল চলছে গোয়াল ঘর থেকে। নেই কোনও পরিকাঠামো। এই খবর পেয়ে তাঁরা গিয়েছিলেন স্কুলটি পরিদর্শনে। সিজেপি'র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, "একটি স্কুলে শিশুদের গরু-মহিষের মধ্যে গোয়ালঘরে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির কথা আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করছি কিন্তু রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে তা আটকে দেওয়া হচ্ছে।" 
উল্লেখ্য, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর সিজেপি গোটা দেশ জুড়ে 'স্কুল ঠিক কর' এই স্লোগান নিয়ে স্কুল শিক্ষাকে বাঁচাতে নেমেছে। তারই অংশ হিসাবে রাজস্থানের এই স্কুলের গিয়েছিলো সিজেপির প্রতিনিধি দল। 
সিজেপি’র আসার খবর আগে পাওয়ার পর রাজস্থান সরকার নির্দেশিকা জারি করে বহিরাগত কেউ স্কুলের ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না। কিন্তু স্থানীয় বিজেপির নেতারা বুঝেছিলো এই যুক্তিতে গোয়াল ঘরে স্কুল চলছে তা আটকানো যাবে না। তাই বহিরাগত দুষ্কৃতী বাহিনী জড়ো করতে থাকে স্থানীয় বিজেপির নেতারা। সেখানে সিজেপির নেতৃবৃন্দরা পৌঁছালে বহিরাগত দুষ্কৃতী বাহিনী নেতৃবৃন্দদের উপর হামলা চালায়। আহত হয় একাধিক সিজেপির প্রতিনিধিরা। ভাঙচুর করা হয় একাধিক গাড়ি। কিন্তু তাও আটকানো যায়নি তাদের। আশুতোষ রাঙ্কা দাবি করেন, স্কুল পরিদর্শন আটকাতে বিজেপি বহিরাগতদের পাঠিয়েছে। সমাজ মাধ্যম এক্স-এ তিনি লেখেন, "এঁরা কেউ ওই গ্রামের বাসিন্দা নন, বিজেপি‘র আনা দুষ্কৃতী।’
সিজেপি-র অন্যতম প্রধান সংগঠক অভিজিৎ দীপকেও একই অভিযোগ করেছেন। তার প্রশ্ন,পুলিশের উপস্থিতিতে কীভাবে এই ঘটনা হতে পারে। অভিজিৎ দাবি করেছে, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সব অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে হবে।   
মারধর করলেও সিজেপি বিষয়টি সামনে আনার পর সরকার স্কুল মেরামতির জন্য অর্থ বরাদ্দ করতে বাধ্য হয়েছে। কার্যত সিজেপির চাপের কাছে মাথা নত করেছে রাজস্থানের বিজেপি সরকার। 
ওয়াকিবহাল মহল জানাচ্ছে, গোটা দেশ জুড়ে সিজেপি ছোট ছোট করে সরকারি স্কুল শিক্ষার জন্য এই পদক্ষপ গুলিতে জয় লাভ করতে পারলে গোটা সমাজের কাছে এক বার্তা যাবে। অন্য দিকে বিজেপির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জনমত তৈরিতেও সাহায্য করবে। 
অন্যদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় গত বুধবার রাতে বহিরাগত এবিভিপির দুষ্কৃতী বাহিনী হামলা চালায়। এসএফআই-সহ বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠনের পোস্টার ব্যানার পতাকা পোড়ানো হয়, লন্ডভন্ড করা হয় গোটা ক্যাম্পাস। পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার মিছিলের নাম করে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যাদবপুর চার নম্বর গেটের সামনে এসে কার্যত গুন্ডাগিরি করে বহিরাগত এফিবিপির দুষ্কৃতী বাহিনী। ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে ডিম বোতল ইট লাঠি ইত্যাদি ছোড়া হয়। গিট্টুকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টাও করে তারা ভেঙে ফেলা হয় যাদবপুরের এমব্লেম। গেটের ভিতরে ব্যারিকেড এর মত যাদবপুর কে আগলে রাখেন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যাপক শিক্ষা কর্মীরা।
এই ঘটনা নতুন নয়, যাদবপুরের মুক্তচিন্তার ওপর ফ্যাসিবাদী কায়দায় এর আগে একাধিক বার হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। কখনই তারা সফল হয়নি ঐক্যবদ্ধ ছাত্র অধ্যাপক শিক্ষা কর্মীদের আন্দোলনের কাছে মাথা নত করেছে তারা। শুক্রবার ঐতিহাসিক ছাত্র-ছাত্রী, অধ্যাপক নাগরিক মিছিল দেখেছে গোটা রাজ্য। যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখার্জি বুধবার রাতে বলেছিলেন সারারাত ধরে যাদবপুরে তান্ডব চলবে। তার পরই চলেছে তাণ্ডব। উল্টোদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, বিজেপি’র কোন ছাত্র সংগঠন নেই। এবিভিপি বিজেপির কোনও শাখা সংগঠন নয়। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে তাহলে বিজেপি বিধায়ক ঐ দিন রাত্রে বেলা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কি করছিলেন? এই ঘটনা যে বুমেরাং করেছে বিজেপির জন্য তা স্পষ্ট। যাদবপুরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক‘ করানো বিজেপির নেতারাও বুঝতে পারছেন মাথা তাঁদের নত করতেই হবে।

Comments :0

Login to leave a comment