জানা অজানা || নতুনপাতা
মিশরের পিরামিড নির্মাণকারী শ্রমিকরা ক্রীতদাস নয়
তপন কুমার বৈরাগ্য
খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০থেকে ৩০০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মেসোপটেমিয়ায় প্রথম
ক্রীতদাস প্রথা চালু হয়।
সম্রাট আকবর কিন্তু এই ক্রীতদাস প্রথা পছন্দ করতেন না।তিনি কাউকে জীবনে ক্রীতদাস করেন নি।তার মতন মহান সম্রাট ভারতে একজনও জন্ম গ্রহণ করেন নি। ভারতের সময় থেকেই মিশরেও ক্রীতদাস প্রথা চালু হয়।তবে মিশরের পিরামিড নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো দাস শ্রমিক ছিলেন না।তারা ছিলেন বেতনভুক দক্ষ শ্রমিক।ফারাও রামসেসের শাসনকালে দাইর এল মদিনার রয়্যাল
নেক্রোপলিস বা সমাধিস্তম্ভ প্রাচীন মিশরে তৈরী করা হয়েছিল সেখানকার সুদক্ষ শ্রমিকদের দ্বারা।
তারা খাদ্য ও মজুরী ঠিকমত না পাওয়ার জন্য খ্রিস্টপূর্ব ১১৫২ অব্দের
১৪ইনভেম্বর একদিনের ধর্মঘট পালন করেছিলেন।এটাই প্রথম নথিভুক্ত
প্রথম শ্রমিক ধর্মঘট।ভারতের ক্ষেত্রে তাজমহল নির্মাণকারীরাও দাস
শ্রমিক ছিল না।এরাও খুব দক্ষ শ্রমিক ছিলেন।তাজমহলের নির্মাণ
কার্য শুরু হয় ১৬৩২খ্রিস্টাব্দে এবং এর নির্মাণকার্য শেষ হয় ১৬৫৩খ্রিস্টাব্দে।বাইশহাজার শ্রমিক বাইশ বছর ধরে পৃথিবীর এই সপ্তম
আশ্চর্যের স্মৃতিসৌধ তৈরী করেন।
ভারতে এই নিষ্ঠুর প্রথা চালু হয়ে ছিল।
কিছু শাসনকালে ভারতে এই প্রথা ব্যাপকতা লাভ করে।
বেশিরভাগ গরিব মানুষদের তারা ক্রীতদাস বানাতেন।ফিরোজ শাহ
তুঘলক যার শাসনকাল ছিল১৩৫১খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৩৮৮খ্রিস্টাব্দ।
তিনি ক্রীতদাস প্রথা খুব পছন্দ করতেন।তার নিজের প্রায় দুই লক্ষ
ক্রীতদাস ছিল।যদিও তিনি এদের বিভিন্ন পদে নিযুক্ত করেছিলেন তবুও এদের কোনো স্বাধীনতা ছিল না।এদের উপর অকথ্য অত্যাচার করা হতো।তাই এরা ক্রীতদাস ছিলো।
ভারতে তখন ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি
শাসন করছেন।১৮৮২খ্রিস্টাব্দে ভারতের গভর্ণর জেনারেল হিসাবে
আসেন লর্ড এলেনবরা।তিনি ১৮৪৪খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দুই বছর ভারত
শাসন করে যান।১৮৪৩খ্রিস্টাব্দে তিনি এক মহান কাজ করে যান।
ইন্ডিয়ান স্লেভারি অ্যাক্ট অনুসারে ভারতে দাসপ্রথা বন্ধ করে যান।
এই দাসেরাও ছিল শ্রমিক।তবে তাদের উপর চলতো অকর্থ্য অত্যাচার।
তাই তাদের শ্রমিক না বলে দাস বলা হতো।
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের আগে শ্রমিকদের ১৫ থেকে ১৬ ঘন্টা কাজ করতে হতো।১৮৮৬খ্রিস্টাব্দের ১লা মে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে--মার্কেট স্কোয়ারে দৈনিক ৮ঘন্টা কাজের দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। পুলিশ অন্যায়ভাবে
তাদের উপর গুলি চালায়। এই আত্মত্যাগের ঘটনাকে স্মরণ করেই
১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস।
Comments :0