জানা অজানা
নতুনপাতা
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কাঁকড়া
তপন কুমার বৈরাগ্য
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বর্ষ ৩
যে প্রাণীর পা গুলো বারো তেরো ফুট লম্বা।অথচ পায়ে কোনো
হাড় নেই ,সেই প্রাণীর কথা শুনলে সত্যিই অবাক হতে হয়।
দেহ দুই ফুটের মতন লম্বা।এরা সামদ্রিক প্রাণী।এদের জাপানি
মাকড়সা কাঁকড়া বলে।জাপানের উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরের
গভীর সমুদ্রের প্রাণী। এদের ওজন ২০কেজিরও বেশি হয়।
এদের বলা হয় বিশ্বের বৃহত্তম আর্থোপড প্রাণী।প্রশান্ত মহাসাগরের
৩০০ফুট থেকে ১০০০ফুট গভীরে বাস করে।দেখতে এদের
ভয়ঙ্কর হলেও এরা শান্ত স্বভাবের প্রাণী।তবে এদের দাঁড়া আছে।
সেই দাঁড়া কিন্তু ভয়ংকর। মানুষের আঙুল যদি কামড়ে ধরে তবে
সেই আঙুলে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে।এরা সর্বভুক অমেরুদন্ডী
প্রাণী ।এমন কিছু জিনিস নেই যা তারা খায় না।এদের গায়ের রঙ গাঢ় তামাটে।
আমাদের দেশে যে তালকাঁকড়া আছে তার গায়ের রঙের মতন
এই কাঁকড়ার গায়ের রঙ। সবচেয়ে আশ্চর্য বিষয় এদের পা বা পায়ের কোনো অংশ নষ্ট হয়ে গেলে কয়েকদিনের মধ্যে আবার
সেই পা বা পায়ের অংশ পূর্ব অবস্থায় ফিরে আসে।এরা
আবার ছদ্মবেশী প্রাণী ।শ্যাওলা বা স্পঞ্জের দেহাবশেষ দিয়ে
এরা নিজেরা বহুরূপ ধারণ করতে পারে।এটা এদের একটা
আত্মরক্ষার মাধ্যম এবং শিকার ধরার একটা পদ্ধতি।
এদের প্রিয় খাদ্য মৃত মাছ,শ্যাওলা,ক্লেপ।শতবছরের উপর এদের
আয়ু।প্রতি বছর এরা এদের দেহের খোলস ত্যাগ করে এবং
দেহে আবার খোলস জন্মায়। জাপানীদের এই কাঁকড়া খুব
প্রিয় খাদ্য।খেতেও খুব সুস্বাদু।জাপানীদের খাদ্য তালিকায়
এই কাঁকড়া একটা উল্লেখযোগ্য খাদ্য।এই খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে
ভিটামিন,প্রোটিন আছে। মৎস্য শিকারীদের এই কাঁকড়া ধরার
একটা কৌশল আছে। প্রতিদিন ভোরবেলা এই কাঁকড়া সমুদ্র
সৈকতে কিছুক্ষণের জন্য ঘুরে বেড়ায়। সেই সময় মৎস্য শিকারীরা
এই কাঁকড়া ধরে।এখন বিদেশে এই কাঁকড়া রপ্তানি করা হয়।
এই কাঁকড়ার কথা যতোই জানা যাবে ততোই অবাক হতে হয়।
Comments :0