সুমিত গাঙ্গুলি
২০২৬ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এমন এক সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শক্তি-সমীকরণ, রাজনীতি ও ক্রীড়া-ব্যবস্থাপনার টানাপোড়েন একে অপরের সঙ্গে আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি জড়িয়ে গেছে। এই বিশ্বকাপ কেবল মাঠের লড়াইয়ের প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতির, বোর্ড–স্বার্থের এবং উদীয়মান দেশগুলির স্বীকৃতি–সংগ্রামের এক জটিল মঞ্চ।
২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ একদিকে ঐতিহাসিক। এই প্রথম ২০ দল নিয়ে প্রতিযোগিতাটি হচ্ছে। এর আগে ক্রিকেটের কোনও ফরম্যাটেই কুড়ি দলের বিশ্বকাপ হয়নি। ২০টি দলকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। যেখান থেকে প্রতিটি গ্রুপের প্রথম দু’টি দল সুপার এইটে যাবে। এই পর্বে, দলগুলিকে দু’টি গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। অর্থাৎ দুটি সেমিফাইনাল এবং একটি ফাইনাল।
শ্রীলঙ্কা ও ভারত সরাসরি যৌথ-আয়োজক হিসাবে যোগ্যতা অর্জন করে। তাদের সঙ্গে ২০২৪ আইসিসি পুরুষ টি-২০ বিশ্বকাপের শীর্ষ ৮টি দল এবং আইসিসি পুরুষদের টি-২০ ক্রমতালিকার সেরা ৩টি দল। বাকি ৮টি দল আঞ্চলিক বাছাইপর্ব থেকে নির্ধারিত হয়। যেখানে দু’টি দল আফ্রিকা ও ইউরোপ থেকে যোগ্যতা অর্জন করে। তিনটি দল সম্মিলিত এশিয়া-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চল থেকে এবং একটি আমেরিকা অঞ্চল থেকে যোগ্যতা অর্জন করবে। এই দলগুলির মধ্যে ইতালি প্রথমবারের মতো পুরুষদের টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে।
ভারতীয় দলের কাছে আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত বিশ্বকাপে ভারত চ্যাম্পিয়ন। ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী পারফরম্যান্স সত্ত্বেও বিশ্বকাপের পরবর্তী পর্যায়ে একটিও টি-২০ প্রতিযোগিতা ও দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হারেনি ভারত। এই সাফল্যের পরবর্তী দুই বছরে ভারত যেভাবে নিজেদের পারফরম্যান্স ধরে রেখেছে, তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুব কম দলের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে।
বিশ্বকাপ–পরবর্তী সময়ে ভারত মোট ১১টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছে এবং প্রতিটিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ভারত প্রমাণ করেছে যে তাদের শক্তি কোনও নির্দিষ্ট একাদশ বা দু’–একজন তারকা খেলোয়াড়ের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং একটি গভীর ও স্থিতিশীল কাঠামোর ফল।
এই এগারোটি সিরিজে ভারতের সাফল্যের একটি বড় দিক হলো দল নির্বাচনের পদ্ধতি। একাধিক সিরিজে নিয়মিত খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে, অথচ ফলাফলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। এর ফলে বেঞ্চ স্ট্রেংথ শুধু কাগজে–কলমে নয়, বাস্তব ম্যাচ পরিস্থিতিতেও কার্যকর হয়ে উঠেছে।
এই ধারাবাহিক জয়ের মধ্যে এশিয়া কাপের সাফল্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এশিয়া কাপ ঐতিহ্যগতভাবেই চাপের টুর্নামেন্ট। সেই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রমাণ করেছে যে ভারত শুধু দ্বিপাক্ষিক সিরিজে নয়, বহুদলীয় প্রতিযোগিতাতেও নিজেদের মান বজায় রাখতে পারছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ভারতের কৌশলগত পরিণত মানসিকতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, গত বিশ্বকাপ জয়ের পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের নেতৃত্বের দাবিকে আরও মজবুত করেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ভারতকে একটি মানসিক ও কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এই ধারাবাহিকতা যদি বজায় থাকে, তবে ভারতকে আর শুধু ফেভারিট বলা নয়, কার্যত মানদণ্ড হিসাবেই দেখা হবে।
অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের মতো দলগুলোর ক্ষেত্রেও এই বিশ্বকাপ সমান গুরুত্বপূর্ণ। কেউ চায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে, কেউ বা আবার ‘চোকার’ তকমা ঝেড়ে ফেলতে, আবার কেউ নতুন প্রজন্মের দল গড়ে ভবিষ্যতের বার্তা দিতে।
টি–২০ বিশ্বকাপের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল প্রযুক্তি ও ডেটা বিশ্লেষণের ভূমিকা। আধুনিক ক্রিকেটে ম্যাচ প্রস্তুতি থেকে শুরু করে ইন–গেম সিদ্ধান্ত—সব ক্ষেত্রেই ডেটা অ্যানালিটিক্স গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোন বোলারের বিরুদ্ধে কোন ব্যাটার বেশি কার্যকর, কোন ওভারে কোন শটের সাফল্যের হার বেশি—এই ধরনের বিশ্লেষণ দলগুলোর কৌশল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে।
অস্ট্রেলিয়া বরাবরের মতোই বিশ্বকাপে একটি পরিপূর্ণ টুর্নামেন্ট দল নিয়ে নামছে। তাদের ক্ষেত্রে টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে অভিযোজনের প্রশ্ন এখন আর নেই; বরং প্রশ্ন হলো ধারাবাহিকতা ও অভিজ্ঞতার ভারসাম্য। ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে একদিকে অভিজ্ঞ বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড় থাকবে, অন্যদিকে থাকবে নতুন প্রজন্মের পাওয়ার–হিটার ও বহুমুখী অলরাউন্ডার। বড় ম্যাচে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দক্ষতা তাদের বরাবরের শক্তি, যা আবারও তাদের অন্যতম ফেভারিট করে তুলছে।
ইংল্যান্ড এই বিশ্বকাপে আসছে একটি স্পষ্ট দর্শন নিয়ে—উচ্চ ঝুঁকির আগ্রাসী ক্রিকেট। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ইংল্যান্ড গত কয়েক বছরে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা টি–টোয়েন্টিতেও প্রভাব ফেলেছে। তবে এই আগ্রাসী মডেলের সমস্যা হলো, এটি খুব সূক্ষ্ম ভারসাম্যের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। একদিন ব্যাটিং ইউনিট প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেয়, আরেকদিন একই কৌশল ভেঙে পড়ে। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সাফল্য নির্ভর করবে এই দর্শনকে পরিস্থিতি অনুযায়ী কতটা নমনীয়ভাবে প্রয়োগ করা যায় তার উপর।
ক্রিকেটীয় দিক থেকে পাকিস্তান বরাবরই অনিশ্চিত কিন্তু বিপজ্জনক দল। যে কোনও দিন তারা সেরা দলকে হারাতে পারে। আবার একইভাবে হোঁচটও খেতে পারে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ শুধুমাত্র ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ নেই। বাংলাদেশের টুর্নামেন্টে অনুপস্থিতি এবং তার ফলে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে যে বয়কট ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা পুরো আসরের আবহকেই প্রভাবিত করছে। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। কিন্তু এই আসরে সেই ম্যাচ না হওয়া বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ও আবেগী কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনছে। ভুললে চলবে না, প্রথম বিশ্বকাপে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে দুটো ম্যাচ হয়েছিল। একটা বিশ্বকাপের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ম্যাচ ছিল সেগুলো। এর মধ্যে ছিল ফাইনাল। এখানে এবারের বিশ্বকাপে একটিও ম্যাচ না হওয়া বিপুল ক্ষতির সামনে ফেলবে আইসিসি, ভারত এবং পাকিস্তানকে।
বাংলাদেশের অনুপস্থিতি আসন্ন বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ টি–২০ ক্রিকেটে নিজেদের মধ্যম সারির দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিল। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না থাকায় একদিকে দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটের প্রতিনিধিত্বে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে গ্রুপ বিন্যাস ও শক্তির ভারসাম্যেও প্রভাব পড়েছে।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে নিরাপত্তার কারণে আইপিএল’র না নেওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট মহলকে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ করে। তার ফল হিসাবেই তারা ঘোষণা করে যে ভারতে তারা খেলবে না। টানাপোড়নের স্বাভাবিক ফল বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ ছাড়তে হয়।
নতুন ও ছোট দলগুলোর প্রসঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই আসরে সহযোগী দেশগুলো প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে উঠে আসছে। নেদারল্যান্ডস, নেপাল, ওমান বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো দলগুলো গত কয়েক বছরে প্রমাণ করেছে যে টি–২০ ফরম্যাটে তারা ম্যাচ জিততেও পারে। ছোট দলগুলোর জন্য এই বিশ্বকাপ শুধু ফলাফলের প্রশ্ন নয়, এটি ভবিষ্যতের অর্থায়ন, ক্রিকেটার ধরে রাখা এবং ঘরোয়া কাঠামো শক্তিশালী করার লড়াই।
এই প্রেক্ষাপটে স্কটল্যান্ডের যুক্ত হওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ইউরোপীয় ক্রিকেটে স্কটল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই ধারাবাহিক উন্নতির উদাহরণ। তারা আর শুধু আইসিসি’র সহযোগী দেশ নয়, বরং সুসংগঠিত ঘরোয়া কাঠামো ও পেশাদার খেলোয়াড়–ব্যবস্থার ফলাফল মাঠে দেখাতে শুরু করেছে। স্কটল্যান্ডের দলে এমন বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় আছে যারা বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তারা বড় দলের বিপক্ষে অন্তত এক–দু’টি ম্যাচে ফল বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ একটি অস্বাভাবিক কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আসর। এখানে বড় দলগুলো নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে নামবে, ছোট দলগুলো নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণের সুযোগ খুঁজবে, আর রাজনৈতিক বাস্তবতা মাঠের বাইরের সমীকরণকে ক্রমাগত প্রভাবিত করবে। বাংলাদেশ না থাকা, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে বয়কট ও উত্তেজনা, এবং স্কটল্যান্ডের মতো দলের উত্থান—সব মিলিয়ে এই বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গতিপথের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে। এটি এমন একটি বিশ্বকাপ, যেখানে ফলাফল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ সেই ফলাফলের পেছনের গল্প, কাঠামো ও রাজনীতি।
টি–২০ বিশ্বকাপ কেবল আরেকটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নয়। এটি আধুনিক ক্রিকেটের রাজনৈতিক অর্থনীতি, সাংস্কৃতিক জনপ্রিয়তা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং জাতীয় পরিচয়ের জটিল আন্তঃসম্পর্কের এক পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন। এটি একটি উচ্চমাত্রার গণমাধ্যমনির্ভর, বিনোদনকেন্দ্রিক এবং কর্পোরেট পুঁজির দ্বারা প্রভাবিত বৈশ্বিক ক্রীড়া উৎসব।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আজ এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এবং আইসিসি ইভেন্ট—সব মিলিয়ে ক্রিকেটারদের উপর চাপ অভূতপূর্ব। টি–২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে তাই শুধু কৌশলগত প্রস্তুতি নয়, খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি ব্যবস্থাপনাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।
জাতীয় দলের দৃষ্টিকোণ থেকে টি–২০ বিশ্বকাপ আজ আর শুধু ক্রীড়া–সাফল্যের প্রশ্ন নয়, এটি জাতীয় মর্যাদা ও কূটনৈতিক সফট পাওয়ারেরও একটি ক্ষেত্র। বড় দলগুলোর জন্য বিশ্বকাপ জয় মানে কেবল ট্রফি জেতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত ছোট বা উদীয়মান দলের জন্য এই টুর্নামেন্ট আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও আত্মবিশ্বাস অর্জনের সুযোগ।
গণমাধ্যম ও সম্প্রচার ব্যবস্থাও এই বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতাকে নতুন মাত্রা দেবে। হাই–ডেফিনিশন সম্প্রচার, ড্রোন ক্যামেরা, স্ট্যাটিসটিক্স–সমৃদ্ধ গ্রাফিক্স এবং সোশাল মিডিয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে দর্শকের অভিজ্ঞতা আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি নিমজ্জিত হবে।
সবশেষে বলা যায়, আসন্ন টি–২০ বিশ্বকাপ আধুনিক ক্রিকেটের এক সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর প্রতিচ্ছবি। এখানে খেলার সঙ্গে সঙ্গে জড়িয়ে আছে অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তি। প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি ওভার এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত বৃহত্তর এক প্রেক্ষাপটের অংশ। এই বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ ক্রিকেট কোন পথে এগবে, তারও ইঙ্গিত দেবে।
এই বিশ্বকাপে নজর রাখা যেতে পারে এই দশজনের উপর:
বরুণ চক্রবর্তী: বরুণ চক্রবর্তীর প্রত্যাবর্তনের কাহিনি অসাধারণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরুর ব্যর্থতার পর অনেকেই তাঁকে বাদ দিয়ে দিয়েছিল। তিনি ফিরে এসেছেন নতুন রূপে। এখন তিনি আরও ধারালো। অনেক বেশি বিপজ্জনক। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বরুণ ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বোলারদের একজন। স্পিন-সহায়ক উইকেটে তিনি বিশেষ কার্যকর। পাওয়ার প্লেতেই তাঁর আসল শক্তি দেখা যায়। যেখানে বেশিরভাগ স্পিনার সাবধানে বল করেন, বরুণ সেখানে আক্রমণ করেন। তাঁর ভ্যারিয়েশন ওপেনারদের ছন্দ নষ্ট করে দেয়।
ফিল সল্ট: সল্ট কখনও ধীরে শুরু করেন না। তিনি শুরু থেকেই আক্রমণ করেন। বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন। প্রায়ই ম্যাচের গতি ঠিক করে দেন। ১৬০-র বেশি স্ট্রাইক রেট তাঁর মানসিকতার পরিচয়। শ্রীলঙ্কার কন্ডিশন তাঁকে পরীক্ষা নিতে পারে। কিন্তু ছন্দ পেলে তিনি একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
অভিষেক শর্মা: বিশ্বের এক নম্বর টি-২০ ব্যাটার অভিষেক। তিনি অকুতোভয়। তিনি আক্রমণ করেন। প্রায় ২০০ স্ট্রাইক রেট তাঁকে খুব বিপজ্জনক করে তোলে। ভারতের ফ্ল্যাট উইকেটে তিনি আরও কার্যকর। শুরুটা ভালো হলে প্রথম ছয় ওভারেই ম্যাচ বদলে যায়। এই বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর পারফরমেন্সের দিকে ক্রিকেট বিশ্ব তাকিয়ে থাকবে।
জসপ্রীত বুমরা: ক্রিকেট বিশ্বে বুমরার মতো বোলার কমই আছে। তিনি চাপের সময় সবচেয়ে ভালো খেলেন। পাওয়ার প্লে হোক বা ডেথ ওভার, তিনি নিয়ন্ত্রণে থাকেন। ১০০-র বেশি টি-২০ উইকেট নিয়ে তিনি ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
ট্রাভিস হেড: হেডের দ্রুত রান তোলা বোলিং পরিকল্পনা ভেঙে দেয়। আইপিএল খেলার অভিজ্ঞতা তাঁকে ভারতের কন্ডিশন বুঝতে সাহায্য করেছে। শুরুতেই জ্বলে উঠলে অস্ট্রেলিয়াকে থামানো কঠিন।
রশিদ খান: রশিদ ১৮০-র বেশি টি-২০ উইকেট নিয়েছেন। সঙ্গে শেষদিকের ব্যাটিংও করেন। শ্রীলঙ্কার টার্নিং উইকেটে তিনি ভয়ঙ্কর হতে পারেন।
হার্দিক পান্ডিয়া: টি-২০ বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার হার্দিক। চাপের সময় তাঁর ওপর সারা ভারত ভরসা রাখে।
কুইন্টন ডি কক: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডি ককের ফেরা দলে নতুন শক্তি এনেছে। তিনি পাওয়ার প্লেতে আধিপত্য করেন। একবার সেট হলে বোলাররা সমস্যায় পড়ে।
ওয়াহিন্দু হাসারাঙ্গা: শ্রীলঙ্কার হাসারাঙ্গা স্পিন উইকেটে ভয়ঙ্কর। শেষের দিকে ব্যাটিংও করেন। একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
আজমাতুল্লাহ ওমরঝাই: আফগানিস্তানের নতুন শক্তি ওমরঝাই ব্যাট ও বল দুটোতেই সফল। তিনি সাহসী। শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তিনি আফগানিস্তানের বড় ভরসা।
Comments :0