Strike Raniganj

ছিবড়ে হচ্ছে উদারনীতিতে, ধর্মঘটের জোরালো মিছিলে শিল্পাঞ্চলে

জেলা

মলয়কান্তি মণ্ডল: রানিগঞ্জ

জার্মানির শিল্পসমৃদ্ধ "রুঢ়" এর সঙ্গে তুলনা হতো রানিগঞ্জ-আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল। নয়া উদারনীতির সঙ্কটে জর্জরিত এই শিল্পাঞ্চলকে ছিবড়ে বানিয়ে দিচ্ছে মোদী সরকার। বিজেপি সরকারের শাসনকালে কয়লাখনি বেসরকারি সংস্থার হাতে চলে যাচ্ছে। মোদী সরকারের শ্রমিক বিরোধী নয়া শ্রমকোড বাতিলের দাবিতে ১২ ফেব্রুয়ারি শিল্প ধর্মঘটের সমর্থনে  কারখানার শ্রমিক মিছিলে উত্তাল হল মঙ্গলপুর শিল্পতালুক। মঙ্গলবার সিআইটিইউ অনুমোদিত স্পঞ্জ আয়রন, হুগলী জুটমিল ও সিমেন্ট কারখানা ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ডাকা এই মিছিলে বক্তব্য রাখেন পশ্চিমবঙ্গ ক্ষুদ্র লৌহ ইস্পাত শ্রমিক ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদক উমাপদ গোপ,  শ্রমিকনেতা রুনু দত্ত। 
বামফ্রন্ট সরকারের প্রচেষ্টায় মঙ্গলপুর শিল্পতালুকে স্পঞ্জ আয়রন কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সিমেন্ট কারখানা, বিস্কুট কারখানা, জুট মিল সহ ১৫ টি কারখানা গড়ে উঠেছিল। মঙ্গলপুরে  প্রায় সাত হাজার শ্রমিক কাজ করেন। তৃণমূল সরকারের আসার পরই রানিগঞ্জের হুগলি জুট মিল বন্ধ হয়। এই শিল্পতালুকে নতুন কারখানা তৈরি হয়নি। সিমেন্ট কারখানাগুলিও বন্ধ। সিআইটিইউ'র ধারাবাহিক আন্দোলনে রানিগঞ্জের জুটমিল চালু হয়েছে। জুটমিলে মাত্র ১৬৫ জন কাজ করে। এদিন মিছিলে শামিল হয়ে মঙ্গলপুরের শ্রমিক নেতা অরূপ লায়েক অভিযোগ করেন, সমস্ত কারখানাতেই চলছে মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা। ন্যূনতম মজুরি নেই। সমস্ত শ্রমিকদের ইএসআই, পিএফ নেই। শ্রমিকনেতা গৌতম রজক, মহম্মদ ইশাক, বিধান বাউরি বলেন, তৃণমূল ও বিজেপি পুঁজিপতিদের পক্ষে  নীতি নিয়ে চলছে। দেশ ও রাজ্যের জীবন জীবিকা আক্রান্ত। লড়াই করছে লালঝাণ্ডাই। শাসকদের মদতে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের  বঞ্চিত করছে। বিজেপি সরকারের লাগু করা নয়া শ্রমকোড ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা‘ হয়ে শ্রমিকের অধিকার খর্ব করছে। মঙ্গলপুর শিল্পতালুকে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বেতন চুক্তিতে টালবাহানা করছে। ক্ষোভ বাড়ছে শ্রমিকদের। দাবি ওঠে, বন্ধ সিমেন্ট কারখানার খুলতে হবে। জুটমিলে সমস্ত শ্রমিকদের নিয়োগ করে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন চালু করতে হবে। 
ধর্মঘটের প্রয়োজনীয়তা,  শ্রমকোডের কুফল নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে প্রচারের আলাপ আলোচনায় উঠে আসছে সামাজিক সুরক্ষা, শ্রমিকদের কাজের ঘণ্টার হিসেব থাকবে না। ইউনিয়ন করার অধিকার থাকবে না। শ্রমিকরা জীবনের অভিজ্ঞতায় বুঝতে পারছেন শোষণের আদব কায়দা। শ্রমিকরা সাফ জানিয়ে দিলেন, সমর্থন করবেন ধর্মঘটে। শ্রমিকদের ধর্মঘটে কৃষক খেতমজদুররা শামিল হয়ে রুটি রুজির দাবি তুলছেন। একশো দিনের কাজ বন্ধ। মঙ্গলপুরে স্থানীয় বেকারদের কাজ দিচ্ছে না  শিল্পাঞ্চলেই পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে।কৃ এদিনের মিছিলে মহিলা শ্রমিকরা পা মিলিয়ে শ্লোগান দিয়েছেন মূল্যবৃদ্ধি,  বেকারি ও জন বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার শ্যামসেল কারখানার গেট থেকে জয়বালাজী কারখানার গেট অবধি লালঝাণ্ডার মিছিলে ধর্মঘটের বার্তাই মিলিয়ে দিচ্ছে  রানিগঞ্জের মঙ্গলপুর শিল্পতালুকের শ্রমিকদের সাথে কৃষক খেতমজুর বাস্তিবাসীদের। ধর্মঘটই দেখাচ্ছে লড়াইয়ের শেষ ভরসা।

Comments :0

Login to leave a comment