গোটা দেশে প্রায় ২৫ কোটির বেশি শ্রমজীবী মানুষ ধর্মঘটে সামিল হয়েছে। এরাজ্যে শিল্প ধর্মঘটে ব্যাপক সাড়া মিলেছে, ৬ হাজারের মতো জায়গায় পিকেটিং হয়েছে গোটা রাজ্যে বলে জানাচ্ছেন ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে করে সিআইটিইউ রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আলম বলেছেন দেশের শ্রমিক শ্রেণী শাসক বিজেপি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই লড়াই চলবে।
সারাদেশে সাধারণ ধর্মঘট হলেও এরাজ্যে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা থাকার জন্য শিল্প ও পরিষেবা ভিত্তিক ধর্মঘটের আহ্বান করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলন থেকে সিআইটিইউ রাজ্য সভাপতি অনাদি সাহু গোটা রাজ্যের সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের ধর্মঘটের পরিসংখ্যান রাখেন। তিনি বলেন, "চা-বাগানে ৬৫ শতাংশ রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত অংশ ধর্মঘটে নিয়েছে। অধিকাংশ চটকল বন্ধ রয়েছে। কিছু চটকল আগে থেকে বন্ধ ছিল। এক্ষেত্রে প্রায় ৮৫ শতাংশ ধর্মঘট হয়েছে। বিক্ষোভও হয়েছে। রানিগঞ্জ-আসানসোলে সর্বাত্মক ধর্মঘট কয়লা ক্ষেত্রে।
সিমেন্ট ক্ষেত্রে আলট্রাটেকে ১০০ শতাংশ ধর্মঘট হয়েছে। অন্যগুলিতে ৪০ শতাংশ। ইস্পাত ক্ষেত্রে ক্যাপটিভ মাইনস একশো শতাংশ। স্পঞ্জ আয়রন কারখানা একশোর বেশি কারখানায় প্রায় ৫০ শতাংশ শ্রমিক অংশ নেন।
ব্যাঙ্কে স্টেট ব্যাঙ্ক ছাড়া একশো শতাংশ। স্টেট ব্যাঙ্কে কিছু কম। এলআইসি ও জিআইসি ৯০ শতাংশ। বিএসএনএল ৪০ শতাংশ।
সেক্টর ফাইভে মিছিল। তথ্য প্রযুক্তিতে অংশ নিয়েছেন ৪০ শতাংশ। গিগ শ্রমিকদের সংগঠিত করা হয়েছে। অনিশ্চয়তা প্রবল। অংশগ্রহণ উৎসাহজনক। মুটিয়া মজদুর ৫০ শতাংশ, ইটভাটায় একশো শতাংশ। সিইএসসি ৩৫ শতাংশ। বিড়লা টেক্সটাইল ১০০ শতাংশ। বন্দরে ৫০ শতাংশ। দ্বিতীয় শিফটে প্রায় ১০০ শতাংশ ধর্মঘট হবে।
কলকাতায় পোস্তা, বড়বাজার প্রায় পুরোটাই বন্ধ রয়েছে। ঢাকুরিয়া, ভবানীপুরে হকাররা বসেননি।
ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ বলেছেন যে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য রাজ্যে সাধারণ ধর্মঘট করেনি ট্রেড ইউনিয়ন। পরিবহণ শ্রমিকরা পরিষেবা স্বাভাবিক রেখেছেন। সন্ধ্যা ছটা থেকে দশ মিনিট রাস্তায় প্রতিবাদ জানাবেন। পোড়ানো হবে শ্রম কোডের প্রতিলিপি।
আইএনটিইউসি রাজ্য সভাপতি কামারুজ্জামান কামার বলেন, "পরীক্ষার কারণে মাইক ব্যবহার না করে প্রচার করতে হয়েছে। তা সত্ত্বেও শ্রমিকরা অংশ নিয়েছেন। চা এবং চট রাজ্যের বড় শিল্পক্ষেত্র। এই দু’টিতে শ্রমিকদের সাড়া আগেরবারের তুলনায় বেশি। প্রায় ৬ লক্ষ শ্রমিক কাজ করেন এই দুই ক্ষেত্রে। এই লড়াই ধর্মঘটে থেকে থাকবে না। কেন্দ্রীয় সরকার সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিয়ে শ্রমিকদের বিভাজিত করছে। তারও মোকাবিলা করতে হবে।"
সিআইটিইউ রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আলম বলেন, "বিদ্যুৎক্ষেত্র, চা, কৃষি বড় বিপদ হবে এই ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যিক চুক্তি।ট্রাম্পের কাছে যেভাবে নতজানু হয়ে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী কার্যত আত্মসমর্পন করলেন তা লজ্জার। ভারতের শাসক শ্রেণী তা মেনে নেবে না। এই ধর্মঘটের দাবি ছিল ৪টি শ্রম কোড বাতিল করতে হবে। অস্থায়ীদের স্থায়ী করা হোক। সঠিক বেতন, মজুরি দেওয়া হোক। রাজ্য সরকারের লজ্জা হওয়া উচিত বিপুল মহার্ঘ ভাতা বকেয়া রেখেছে। কর্মসংস্থান যেটুকু আছে তার কোনও নিরাপত্তা নেই, মর্যাদা নেই। রাজ্য সরকার বলছে শ্রম কোড মানি না। তা’হলে চটকল গ্র্যাচুইটি বিপুল টাকা, পৌরসভার কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা বাবাদ অর্থ বকেয়া হয়ে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে শ্রম আইন বলে কিছু নেই। ফলে শ্রম কোড মানি না বলার অর্থ নেই।"
Comments :0