TMC LIC

ধর্মঘটের সামিল হওয়ায় দিনহাটায় এলআইসি দপ্তর বন্ধ করল তৃণমূল

জেলা

তৃণমূলের দলীয় পতাকা লাগিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এলআইসি দিনহাটা শাখা দপ্তর। ছবি - অমিত কুমার দেব।

'আজকে ঝান্ডা লেগেছে, কালকে ডান্ডাও লাগতে পারে'। শুক্রবার এলআইসির দিনহাটা শাখা দপ্তরের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে এবং তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে দেয় তৃণমূলীরা। আর এরপরই ধর্মঘট সমর্থনকারী এলআইসি কর্মীদের উদ্দেশ্যে এই হুঁশিয়ারি দিলেন দিনহাটার তৃণমূল নেতা।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সমূহ ও ফেডারেশনের ডাকা ধর্মঘটের সর্বাত্মক প্রভাব পড়ে কোচবিহার জেলার বীমা সহ বিভিন্ন শিল্পে। জেলা শহরসহ জেলার প্রায় সবকটি মহকুমাতেই এই ধর্মঘটে সামিল হন বীমা ও ব্যাংক কর্মচারীদের একটি বড় অংশ। একই ভাবে দিনহাটা শহরেও এলআইসি দপ্তর বন্ধ রাখেন বীমা কর্মচারীরা। রীতিমতো এই দপ্তরের গেটে সংগঠনের পতাকা লাগিয়ে পিকেটিংয়ে অংশ নেন তারা। অভিযোগ এই সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তর খোলার জন্য বীমা কর্মচারীদের চাপ দেয় তৃণমূলী দুষ্কৃতিরা। তবে তাদের হুমকিতে মাথা নোয়াননি বীমা কর্মচারীরা। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে যান, শুক্রবার থেকে দপ্তরে ঢুকতে পারবেন না তারা। এরপরই শুক্রবার সকালে এই দপ্তরের গেটে তৃণমূলের দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তালা ঝুলিয়ে দেন শাসক দলের এই দুষ্কৃতিরা। তবে বেলা দেড়টা নাগাদ বাধা মুক্ত হয় এই দপ্তর।
এলআইসির সংশ্লিষ্ট এই শাখার সিনিয়র ম্যানেজার সন্দীপ কুমার দে বলেন, "এদিন দপ্তরে আসতেই তারা দেখতে পান মূল গেটে তালা ঝোলানো এবং পতাকা আটকে দেওয়া হয়েছে। একারণে তারা দপ্তরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। শিল্প ধর্মঘটে অংশ নেওয়ার কারণেই এদিন দপ্তরে ঢুকতে বাঁধা দেওয়া হয়েছে তাদের। যারা বাঁধা দিয়েছেন, তাদের সাথে কথা বলার পর তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন আজ দপ্তর বন্ধ থাকবে। তিনি বলেন, শিল্প ধর্মঘটে শুধু এলআইসি দপ্তর নয়, ব্যাংকগুলিও বন্ধ ছিল।"
 এ প্রসঙ্গে বলতে তৃণমূল নেতা সাধারণ মানুষকে পরিষেবা না দিয়ে দপ্তরের গেটে ইউনিয়নের পতাকা লাগিয়ে ধর্মঘট যারা করেছেন, তাদের জেনে রাখা ভালো, আজকে শুধু ঝান্ডা লেগেছে, এরপর ডান্ডাও লাগতে পারে। তাই সাবধানে থাকতে হবে।
 তৃণমূল নেতার এই বক্তব্য প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বীমা কর্মচারী আন্দোলনের নেতা দেবাশিস রায় বলেছেন যে  তিনি যে ভাষায় কথা বলছেন, এটা একটি গুন্ডামির ভাষা। শ্রমিক কর্মচারীরা অধিকারের দাবিতে লড়াই করতে পারবেন না, এ লড়াই করতে গেলে তাদের ওপর ডান্ডা নেমে আসার হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। আসলে এই বক্তব্যের মাধ্যমে তাদের চরিত্র  উন্মোচিত হচ্ছে।

Comments :0

Login to leave a comment