ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগের চার্চু ব্লকের গোন্ডোয়ার গ্রামে বন্য হাতির হামলায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের। বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জানা গেছে যে গত কয়েকদিন ধরে হাতির একটি পাল সম্পত্তি ও মানুষের অনেক ক্ষতি করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে এই হাতিদের তাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে, কিন্তু এখনও কোনও সমাধান পাওয়া যায়নি। ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ জেলার চার্চু ব্লক এবং এর আশেপাশের মান্ডু বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে বন্য হাতিদের তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। গ্রামবাসী ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে বৃহ্পতিবার রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে পাঁচটি হাতির একটি পাল গ্রামে প্রবেশ করে। তারা মাটির ঘর লক্ষ্য করে অনেক বাড়ির দেয়াল এবং দরজা ভেঙে ফেলে। ভয়ে মানুষ তাদের জীবন বাঁচাতে বাড়রে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন। হাতিগুলি ছয়জনকে পায়ে পিষে মেরে ফেলে।
হাজারিবাগের মহকুমা শাসক আদিত্য পান্ডে বলেন, ‘‘এই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ক্ষতিপূরণ পাওয়ার চেষ্টা করা হবে। এই ধরনের ঘটনা যাতে আবার না ঘটে সেজন্য আমরা সতর্কতা অবলম্বন করব। বন দপ্তরের সহযোগিতায় আমরা প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেব।"
গত ২১ জানুয়ারী, ঝাড়খণ্ড সরকার রাজ্যে হাতির জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। পশ্চিম সিংভূম জেলায় একটি ক্ষুব্ধ বন্য হাতি মানুষের উপর আক্রমণ চালায়। শুধুমাত্র ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে হাতির হামলায় বাইশ জনের মৃত্যু হয়। বন দপ্তরের আধিকারিকদের কথায়, হাতি তাদের পাল থেকে আলাদা হয়ে গেলে খুব আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
চার্চু ব্লকের স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহে পৃথক ঘটনায় হাতি বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীকে হত্যা করেছে। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে, একই গ্রামের ছয়জনকে হাতিরদল ৬ জনের উপর হামলা চালিয়ে মেরে ফেলে। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, ১৮টিরও বেশি হাতির একটি দল কিছুদিন ধরে এখানে সক্রিয। তারা হামেশাই ঘরবাড়ি এবং ফসল নষ্ট করছে। এই হাতিরা যেখানেই যায়, তারা তাদের পথে ফসল, ঘরবাড়ি এবং মানুষকে পিষে হত্যা করে।
ঝাড়খণ্ডে হাতির সংখ্যা ৫৫০ থেকে ৬০০। পালামু এবং দক্ষিণ ছোট নগরে দুটি প্রধান দল সক্রিয়। বন আধিকারকদের কথায়, বনের কাছাকাছি গ্রামগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাতিরা রাতে লোকালয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাতির পাল খাদ্য ও পানীয় জলের সন্ধানে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসছে। হাতির আক্রমণ অন্যান্য জেলাগুলিতেও প্রভাব ফেলেছে। হাতিরা ঘরবাড়ি ও ফসল ধ্বংস করেছে, বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। গত কয়েক মাসে, রামগড় এবং বোকারোতে হাতিরা মানুষকে পদদলিত করেছে, মাঠে ফসল ও সম্পত্তির ক্ষতি করেছে।
বন্য হাতির আক্রমণে ৫ বছরে ১,৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝাড়খণ্ডে মানুষের উপর হাতির আক্রমণ নতুন নয়। তবে, পরিস্থিতি এখন আরও খারাপ হচ্ছে। ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে, হাতির আক্রমণে প্রায় ১,৪০০ জন মারা গেছেন, যেখানে ৬০০ জনেরও বেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। ২০২৬ সালে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
কয়েক বছর ধরে, হাজারিবাগ জেলার চার্চু ব্লক এলাকায় হাতির আতঙ্কের স্থায়ী সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রতি বছর শত শত মানুষ হাতির আক্রমণে মুখে পড়েন। এমনকি অনেকে প্রাণও হারান। বন দপ্তর এবং প্রশাসনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, জীবন ও সম্পদের ক্ষতি থেমে নেই।
Wild Elephants In Jharkhand
ঝাড়খণ্ডে হাতির আক্রমণে নিহত ৬
×
Comments :0