ব্রাত্য শিল্পীরাই, কলকাতা বইমেলার মূল প্রাঙ্গনের ভিতরে এবছরও জায়গা হলোনা শিল্পীদের। গিল্ডের অভিযোগ, নিশিদ্ধ জিনিস বিক্রি করেন তারা। পাশাপাশি, স্টলগুলিতে অসামাজিক কাজকর্ম হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
বইমেলার ইতিহাস বইয়ের পাশাপাশি শিল্প সংস্কৃতিরও ধারক-বাহক। বইয়ের সঙ্গে যুক্ত সব অংশকেই একসাথে নিয়ে এগিয়ে চলেছে বইমেলা। ময়দানে বইমেলা চলার সময় থেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগেই বিভিন্ন ধরণের শিল্পীরা (যেমন- প্রচ্ছদ শিল্পী, কার্টুনিস্ট, পোট্রেট শিল্পী সহ হস্তশিল্পের সাথে যুক্ত) মূল প্রাঙ্গনের ভিতরেই তাদের পসরা সাজিয়ে বসতেন। সেন্ট্রাল পার্কে স্থায়ীভাবে বইমেলা শুরু হওয়ার পরেও তারা বইমেলার মধ্যেই তারা পসরা নিয়ে বসতেন। আলাদা করে অনুমতির প্রয়োজন হয়নি কখনোই। তবে ২০২৪ সাল থেকে আর মূল বইমেলা প্রাঙ্গনের মধ্যে বসতে দেওয়া হচ্ছেনা তাদের। সেই বছরই পুলিশ তাদের বইমেলার ভিতরে বসতে বাধা দেয়।
গিল্ডের তরফে ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ভিড় হলে নিরাপত্তার সমস্যা সহ আগুন লেগে যেতে পারে বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ঐ সব স্টলে নিষিদ্ধ জিনিস বিক্রি সহ অসামাজিক কাজকর্ম করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
২০২৪ সালে ওই শিল্পীরা মেলার মূল গেটের বাইরে তাদের পসরা নিয়ে বসেছিলেন। এবছর সেখানে ও বসতে দেওয়া হয়নি তাদের। ফলত, বেসরকারি পার্কিং-এর জায়গা থেকে বরাত নিয়ে মূল গেটের উল্টোদিকের ফুটেই নিজেদের পসরা নিয়ে বসতে বাধ্য হয়েছেন তারা। তারা জানিয়েছেন, এমন ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় ২০০টির ও বেশি স্টল বইমেলার মধ্যে বসতো প্রত্যেকবার। তবে এবার জায়গার সমস্সসার ক্রমণে মাত্র ৪০ -৫০ টি স্টলই বসেছে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বহু শিল্পী।
এমনই প্রচ্ছদ শিল্পীদের একজন কৃষ্ণেন্দু মাহাতো বলেন, " ৪ বছর ধরে মেলায় স্টল নিয়ে বসি। ২বছর ধরে গিল্ডের তরফে বলা হচ্ছে আমত্রা নাকি নিষিদ্ধ জিনিস বিক্রি করছি তাই বসতে দেবে না। তাহলে কোন জিনিষগুলি বৈধ তাও বলছেন গিল্ড। এমনকি বলা হচ্ছে, আমরা যা বিক্রি করছি তা বইয়ের সাথে তার কোনও প্রত্যক্ষ যোগাযোগ নেই। যোগাযোগ না থাকলে বইয়ের প্রচ্ছদের কি প্রয়োজন?
পাশাপাশি, তিনি আরও বলেন, আমাদের বিক্রিত জিনিষের সঙ্গে বইয়ের সম্পর্ক নেই, তাহলে অঞ্জলি জুয়েলার্স, ডাটা গুঁড়োমসলা'র মতো বেসরকারি ব্র্যান্ড গুলি কিভাবে মূল প্রাঙ্গনের প্রাইম লোকেশনে তাদের স্টল পায়? আমরা গিল্ডের কাছে দাবি জানাচ্ছি, আমরা বইমেলার ভিতরে বসতে চাই। আমাদের ব্রাত্য করে রাখা হচ্ছে। আমাদের নির্দিষ্ট জায়গা দেওয়া হোক, তার জন্য ভাড়া দিতেও রাজি আছি আমরা।
আরোও এক শিল্পী শালিনী ঘোষ বলেন, " ২৫ সালে গিল্ডের বাইরে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম আমরা। প্রায় ১০ হাজার বইপ্রেমী সাক্ষর ও সংগ্রহ করেছিলাম আমরা। আমরা চাই, পরের বছর থেকে আমাদের ভিতরে বসতে জায়গা দেওয়া হোক। আমরা বইমেলার পাশাপাশি প্যারালাল বইমেলা চালাচ্ছি। অনেক শিল্পীর ক্ষতি হচ্ছে। যেহেতু, আমরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করি তাই প্রত্যেকেরই সমাজমাধ্যমে পেজ রয়েছে। ফলত প্রথমদিকে বিক্রি নিয়ে সমস্যা হলেও বর্তমানে সেই সমস্যা মিটেছে। পাশাপাশি, বইপ্রেমীরা নিজেরাও খুঁজে আসছেন আমাদের সহানুভূতিও দিচ্ছেন।"
Spotlight
'বইয়ের সঙ্গে শিল্পীদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ নেই', চলতি বইমেলাতেও বাইরে শিল্পীরা
×
Comments :0