Delhi Rain

ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন দিল্লিতে জারি লাল সতর্কতা

জাতীয়

শুক্রবার সকাল থেকে দিল্লি-এনসিআর-এ ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। নয়ডা ও গুরুগ্রাম সহ অনেক এলাকা জলমগ্ন। রাস্তায় যানজট। বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় জল জমে থাকা এবং তীব্র যানজট সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যেই আবহাওয়া বিভাগ সমগ্র দিল্লি-এনসিআর-এর জন্য আরও একটি সতর্কতা জারি করেছে। আইএমডি ভারী বৃষ্টির জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। পূর্বাভাস দিয়েছে যে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অনেক জায়গায় মাঝারি ও বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি মাঝারি বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে আগামী ৩ দিন। বাসিন্দাদের জলমগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
দিল্লি-এনসিআর-এ একটানা ভারী বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গুরুগ্রাম থেকে দিল্লি-নয়ডা পর্যন্ত রাস্তাঘাটে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ অভিযোগ করছেন যে তাঁরা ক্যাবও খুঁজে পাচ্ছেন না। জল জমে যাওয়ায় মানুষ আটকা পড়েছেন। ব্যস্ত সময়ে বৃষ্টি হওয়ায় সমস্যাটি আরও গুরুতর হয়েছে। ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে না বের হওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে জনগণকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইএমডি নয়াদিল্লি মধ্য, পূর্ব, নয়াদিল্লি, উত্তর, উত্তর-পূর্ব, উত্তর-পশ্চিম, শাহদারা, দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং পশ্চিম দিল্লির জন্য ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। সফদরজং হাসপাতাল থেকে কনট প্লেস পর্যন্ত জল জমেছে। সরাই কালে খান, কাপাশেরা বর্ডার এবং ছাতারপুর ফার্ম এলাকায়ও জল জমে রাস্তা ডুবে যাওয়ায় যানবাহন ধীর গতিতে চলছে। বৃষ্টির কারণে দিল্লি, গুরুগ্রাম এবং নয়ডায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দিল্লি-জয়পুর মহাসড়কেও যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। রাস্তার গর্ত বা ভাঙা অংশগুলো বোঝা কঠিন হয়ে পড়ায় যানবাহনগুলো রাস্তায় খুব ধীরে চলছে। 
গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লি ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার অনেক জায়গায় ভালো বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত দুই সপ্তাহের তুলনায় এখানকার বৃষ্টিপাত বেশি। সফদরজং-এ ৫৯.২ মিমি, লোধি রোডে ৬০.৪ মিমি এবং রিজ-এ ৫৭ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে, পালাম আবহাওয়া কেন্দ্রে ১৬.৯ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দিল্লির অন্যান্য বেশিরভাগ আবহাওয়া কেন্দ্রে ২৫ থেকে ৩০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দিল্লিতে বৃষ্টির প্রধান কারণ হলো মৌসুমী অক্ষরেখার অবস্থানের পরিবর্তন। দক্ষিণ-পশ্চিম উত্তর প্রদেশের উপর সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় এবং পার্বত্য অঞ্চলের উপর থাকা পশ্চিমা নিম্মচাপও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভারী বৃষ্টির জেরে দিল্লি দমকল বাড়ি ধসে পড়া, ভবনের একাংশ ভেঙে পড়া এবং গাছ উপড়ে পড়ার মতো ঘটনার বিষয়ে দুই ডজনেরও বেশি ফোন কল পেয়েছে। তবে এসব ঘটনায় কেউ আহত হননি বলে জানিয়েছে দমকল বিভাগ।

Comments :0

Login to leave a comment